কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আসগর আলী বলেছেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশকে একটি সুখী সমৃদ্ধি সা¤প্রদায়িকমুক্ত দেশ গঠনে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন। ইতোমধ্যে দেশ সন্ত্রাস ও জঙ্গিমুক্ত হয়েছে। শেখ হাসিনার সেই মহৎ লক্ষ বাস্তবায়নে তৃণমূল পর্যায়ে দলমত নির্বিশেষে সকলকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। শেখ হাসিনার সেই মহৎ লক্ষ বাস্তবায়নে আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সবাইকে এক হয়ে কাজ করার জন্য উদাত্ত আহবান জানান। উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনেক গুরুত্বপূর্ন নির্বাচন। এই নির্বাচেন আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী কুষ্টিয়া ডা: আমিনুল হক রতনকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করতে হবে। বৃহস্পতিবার দুপুরে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আলামপুর ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্্ের সদর উপজেলা আওয়ামীলীগ আয়োজিত কর্মীসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

তৃণমুলে যারা আছেন তাদের অনুরোধ করে বলেন, টাকা দিয়ে ভোট হয়না। হাজার হাজার কর্মী কি কাজে লাগবে ? তাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করলে তাদের জয় নিশ্চিত হবেই হবে। তাই ডা: রতনকে বিজয়ী করতে পারলে আওয়ামীলীগকে বিজয়ী করা হবে। তাই আমরা সবাই একসাথে মিলে কাজ করে রতনকে আমরা বিজয়ী করবো ইনশাআলাহ।
কুষ্টিয়া সদর থানা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও আলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জামান বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি হাজী রবিউল ইসলাম, জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী ডা: আমিনুল হক রতন, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক চৌধুরী মুর্শেদ আলম মধু, কুষ্টিয়া শহর আওয়ামীলীগের সভাপতি তাইজাল আলী খান, সাবেক সাধারন সম্পাদক হাজী সেলিনুর রহমান, জেলা কৃষকলীগের সভাপতি মতিয়ার রহমান মজনু, জেলা কৃষকলীগের সভাপতি গোলাম মোস্তফা, জেলা যুবলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক মনিরুজ্জামান লালন, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আলী মোর্ত্তজা খসরু প্রমুখ।
নির্বাচনী সমাবেশে ডা: আমিনুল হক রতন তার নির্বাচনী প্রতীক মোটর সাইকেল মার্কায় ভোট তাকে নির্বাচিত করার আহবান জানিয়ে বলেন, ভোটারদের ভোটের মাধ্যমে আমি নির্বাচিত হলে দলীয় ভাবে এবং একে অপরের সহযোগিতায় উপজেলার প্রত্যেকটি গ্রামের রাস্তা-ঘাট, ব্রীজ-কালভাটসহ ব্যাপক উন্নয়ন কাজ করবো। সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রন করে মাদকমুক্ত উপজেলা পরিষদ গড়ে তুলে সদর উপজেলা পরিষদকে আধুনিকায়ন করা হবে। তিনি আরো বলেন, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা কে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্টিত করবো। এই জেলায় শিক্ষার হার খুবই কম যা আমি র্নিবাচনে জয়লাভ করলে এই শিক্ষাক্ষেত্রে আরো বেশি গুরুত্ব দেবো। যাতে করে লেখাপড়ার মান কিভাবে বাড়ানো যায় তার প্রতি সচেষ্ট থাকবো।
এসময় সদর থানার সকল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক উপস্থিত ছিলেন।
ভেড়ামারায় অপহৃত শিশু উদ্ধার : আটক ১

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় লাখ টাকার মুক্তিপণের দাবিতে স্কুল থেকে ঊর্মি (১২) নামের এক ছাত্রীকে অপহরণ করেছে তার খালা। বুধবার দুপুরে উপজেলার বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড স্কুলে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ বুধবার রাতেই অভিযান চালিয়ে তাকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করে। ঊর্মিকে উদ্ধারের পর এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ঘটনাস্থল থেকে আছমা খাতুন (২৫) নামের নারীকে আটক করেছে পুলিশ।
আটককৃত আছমা ঊর্মির সম্পর্কে খালা হন। ঊর্মি ভেড়ামার উপজেলার বাহিরচর ইউনিয়নের বারদাগ গ্রামের আকমল হোসেনের মেয়ে। ভেড়ামারা থানার ওসি পারভেজ ইসলাম জানান, বুধবার দুপুরে ভেড়ামারা উপজেলার বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড স্কুলের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী ঊর্মিকে তার খালা কৌশলে ডেকে নিয়ে যান। এর কয়েকঘণ্টা পর টেলিফোনে ঊর্মির বাবার কাছে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন আছমা ও তার সঙ্গীরা। খবর পেয়ে ভেড়ামারা থানা পুলিশ মোবাইলে আড়ি পেতে রাত সাড়ে ৮টার দিকে অপহরণকারী আছমার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে গোলাপনগর সোলাইমান শাহ চিশতি মাজার এলাকা থেকে অপহৃত শিশু উর্মিকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে। এ সময় সেখান থেকে অপহরণকারী ঊর্মির খালা আছমাকে আটক করে পুলিশ। জানা গেছে, আটককৃত আছমা স্বামী পরিত্যাক্তা। তিনি একই উপজেলার গোলাপনগর গ্রামে পিতা রহমত খলিফার বাড়িতে বসবাস করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, অপহৃত উর্মিকে চেতনানাশক জাতীয় কিছু খাওয়ানো হয়েছিল। বর্তমানে সে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্ের চিকিৎসাধীন আছে। এই ঘটনায় ভেড়ামারা থানায় বৃহস্পতিবার অপহরণকারী আছমাসহ অজ্ঞাত আরো দুই/তিন জনের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা দায়ের করা হয়েছে।




