নরসিংদী প্রতিনিধি : পুলিশী নির্যাতনে নরসিংদীর শিবপুর মডেল থানার দ্বিতীয় তলায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মনিরুজ্জামানের কক্ষে ডাকাতি মামলার সন্দেহজনক আসামী মোহসিন (২৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। আসামীর মৃত্যুর খবর পেয়ে উত্তেজিত এলাকাবাসী থানা ঘেরাও করে ইটপাটকেল ছুড়লে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। ৩ ফেব্রুয়ারী সোমবার ওই ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার শিবপুর উপজেলার বাড়ৈগাও এলাকায় স্থাপিত একটি ক্যাবল ইন্ডাষ্ট্রিজে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ৬০ লাখ টাকার মালামাল লুট হয়। এ ব্যাপারে এভারেস্ট ক্যাবল ইন্ডাষ্ট্রিজের পরিচালক আনিসুর রহমান বাদী হয়ে শিবপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। গত শনিবার রাতে শিবপুর থানার ওসি (তদন্ত) মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ বাড়ৈগাঁও এলাকায় গিয়ে মৃত ইমাম উদ্দিন শেখের ছেলে নবী হোসেন (৪০), আব্দুল হাসিমের ছেলে মোঃ ছিদ্দিক (২৭), মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে মোঃ আক্তার হোসেন (২৪) ও নায়েব আলীর ছেলে ইন্ডাষ্ট্রির নিরাপত্তা প্রহরী তাঁরা মিয়াকে (৬৫) গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে আক্তার ও তারা মিয়ার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার রাতে সুলতান উদ্দিনের ছেলে রাজমিস্ত্রি মোহসিন মিয়াকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের ৩৬ ঘন্টা পর সোমবার সকাল ৮টায় শিবপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দ্বিতল কক্ষে জানালার গ্রীলের সাথে হ্যান্ডকাপ পরা অবস্থায় গলায় মাফলার পেচানো মোহসিনের মৃতদেহ ঝুলে থাকতে দেখা যায়। এসময় থানার কনষ্টেবল হানিফ মোহসিনের দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলো বলে একটি সূত্রে জানা গেছে। তবে শিবপুর থানার ওসি জানান, নিজের কৃতকর্মে অনুতপ্ত হয়ে মোহসিন গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থায় কিভাবে আত্মহত্যা করেছে তার সুস্পষ্ট কোন উত্তর তিনি দিতে পারেনি।
এদিকে এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে শিবপুর এলাকার জনগন সকাল ১১ টার দিকে শিবপুর মডেল থানা ঘেরাও করে পুলিশের প্রতি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। এ অবস্থায় পুলিশ প্রথমে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে। পরবর্তীতে রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।
খবর পেয়ে নরসিংদীর জেলা প্রশাসক মোঃ ওবায়দুল আজম, পুলিশ সুপার ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহনেওয়াজ খালেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুখলেছুর রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) মোঃ জহিরুল ইসলাম দ্রæত ঘটনাস্থলে যান। নরসিংদীর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কামরুন্নাহার নিহত মোহসিনের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করার পর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেন।




