আরিফ মাহমুদ, কলারোয়া (সাতক্ষীরা) : দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এক সময় সার্কাস খেলা প্রদর্শণীর হিড়িক ছিল। বছরের বিভিন্ন সময়ে নানান ঐতিহ্যবাহী সার্কাস দল বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে শারীরিক কসরত, জাদুসহ বিভিন্ন প্রদর্শণী করতো দর্শকদের বিনোদনের জন্য। ছিল জোকারদের নানান হাস্যকর দৃশ্যও। আর অন্যতম আকষর্ণীয় বিষয় ছিল বিভিন্ন জীবজন্তুর নানান প্রদর্শণী ও তাদের দিয়ে খেলা। সেই সকল জীবজন্তুর বেশিরভাগই ছিল হিংস্র প্রকৃতির। তবু তাদের বশ করে খেলা দেখানো ও অন্যান্য প্রদর্শণী করাটা ছিল সার্কাস কর্তৃপক্ষের অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ। বাঘ, ভল¬ুক, বানর, হাতি ইত্যাদি ছিল সেইসকল জীবজন্তুর অন্যতম। কিন্তু পরিতাপের বিষয় বিগত কয়েক বছর যাবত আগের মতো আর সার্কাস খেলা খুব একটা দেখা যায় না। বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও সার্কাস খেলার আয়োজন বিভিন্ন এলাকায় চোখে পড়ে না, সার্কাস আয়োজনের খবর শোনাও যায় না। এখনও যেসকল এলাকায় মাঝে মধ্যে সার্কাসের আয়োজন হয় তা নিতান্ত ক্ষুদ্র পরিসরে ও সার্কাসের মূল বিষয়ের পাশাপাশি নাচ-গানের আয়োজন চলে এসেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যেসকল সার্কাস বর্তমানে মাঝে মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় অল্পপরিসরে আয়োজিত হচ্ছে তাতে গভীর রাতে অর্ধনগ্ন নাচ-গানটি-ই প্রাধাণ্য পাচ্ছে। আর সার্কাসের আগের ঐতিহ্য ও জৌলুস হারিয়ে যাওয়ায় সাধারণ দর্শক সার্কাসে ভিড়ছে না ফলে সার্কাস সংশ্লিষ্টরা বাধ্য হয়ে তাদের পেশা পাল্টে ফেলেছেন। জীবজন্তু বিভিন্ন চিড়িয়াখানা বা বন্যপ্রাণী সংশি¬ষ্টদের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে। শুধু থেকে গেছে হাতি। সার্কাসের জীবজন্তুর মূল আকর্ষণ হাতি আজো চড়ে বেড়াচ্ছে তার আপন মহিমায়। সার্কাসের কসরতে মুলতবি দিয়ে নিজের পেটের দায়ে ও মালিকের আয়ের উৎস হিসেবে সেই ‘হাতি’-ই বিভিন্ন বাজারে দোকানে দোকানে, রাস্তায় রাস্তায়, বাড়ি বাড়ি গিয়ে টাকা তুলছে তার ‘সুর’ দিয়ে। টাকা নেয়ার আগে ও পরে টাকা প্রদাণকারীকে সুর তুলে সালাম দিতে ভুল করে না বৃহৎ দেহের অবলা জীবটি। ছোট শিশুদের মূল আকর্ষণ হাতি আজ রাস্তায় রাস্তায়। শিশুদের পাশাপাশি বড়রাও হাতিকে দেখে একটু হলেও বিনোদিত ও আন্দোলিত হন। সাংস্কৃতিক মনা ব্যক্তিরা আগের ঐতিহ্যবাহী সার্কাসের আয়োজন করতে কর্তৃপক্ষ, সংশি¬ষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের প্রতি আহবান জানিয়েছেন, যেখানে থাকবে না সার্কাসের ব্যানারে অপসংস্কৃতির বলয়, থাকবে না নোংরামি, থাকবে না রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও দলাদলি, থাকবে না প্রশাসনিক কোন জটিলতা। শুধুই থাকবে সাধারণ মানুষের মানসিক আনন্দ, বিনোদন ও হাস্যরসের বাস্তবসম্মত ‘সামাজিক’ প্রদর্শণী।




