শ্যামলবাংলা ডেস্ক : দীর্ঘ ২২ বছর পর দেশের অন্যতম বড় দল বিএনপিবিহীন জাতীয় সংসদ বসছে আজ। ২৯ জানুয়ারী বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় বহুল আলোচিত দশম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। নবম জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করায় দীর্ঘ ২২ বছর পর এবার বিএনপি সংসদের বাইরে রইল।

৫ জানুয়ারী অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ না করায় আওয়ামী লীগ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করায় টানা দ্বিতীয়বারের মত সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অপরদিকে সরকারে থেকেও বিরোধীদলীয় নেতা জাতীয় পার্টির রওশন এরশাদ। দ্বিতীয় মেয়াদে দশম জাতীয় সংসদের স্পিকার হচ্ছেন ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। ডেপুটি স্পিকার হচ্ছেন অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া। সংসদ উপ-নেতা সাজেদা চৌধুরী তার পদে বহাল রয়েছেন। সরকারি দলের চিফ হুইপ হয়েছেন আ স ম ফিরোজ।
অধিবেশনের প্রথম দিনের কার্যসূচি : নবম সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিনের সভাপতিত্বে বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় দশম সংসদের অধিবেশন শুরু হবে। দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী প্রথমেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে। এরপর নতুন স্পিকারের সভাপতিত্বে পর্যায়ক্রমে সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়ন, শোক প্রস্তাব গ্রহণ এবং রেওয়াজ অনুযায়ী প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ অ্যাডভোকেট ভাষণ দেবেন।
জানা গেছে, নতুন স্পিকার নির্বাচনের পরপরই অধিবেশনে কিছু সময়ের জন্য বিরতি দেওয়া হবে। বিরতির সময় সংসদ ভবনের সপ্তম তলায় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে নতুন স্পিকারকে শপথ পড়ানো হবে। তবে চলতি সংসদের সদস্যের মৃত্যুতে অধিবেশন মুলতবির রেওয়াজ থাকলেও বছরের শুরু ও প্রথম অধিবেশনের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়। এ কারণে শোক প্রস্তাবের পর অধিবেশন কিছু সময়ের জন্য মুলতবি ঘোষণা করা হবে। এরপর রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেবেন।

নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সংসদে আওয়ামী লীগ : দশম সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সংসদে বসতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। ৩শ আসনের মধ্যে ২শ ৩১টি এবার আওয়ামী লীগের। এ ছাড়া দশম সংসদে অন্য দলগুলোর মধ্যে জাতীয় পার্টি ৩৪টি, ওয়ার্কার্স পার্টি ৬টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) ৫ টি, জাতীয় পার্টি (জেপি) দুটি, তরীকত ফেডারেশন দুটি, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ফ্রন্ট (বিএনএফ) একটি এবং স্বতন্ত্র জোট ১৬টি। স্বতন্ত্র এমপিরা মিলে আওয়ামী লীগ নেতা হাজি সেলিমের নেতৃত্বে পৃথক একটি জোট গঠন করেছেন। ৯ জানুয়ারি শপথ নেন দশম জাতীয় সংসদের নির্বাচিত এমপিরা।
প্রধান বিরোধী দল জাপা : অনেক আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে জাতীয় পার্টি প্রধান বিরোধী দল হলেও সরকারেরই অংশ। প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির ৩ জন রয়েছেন বর্তমান মন্ত্রিসভার সদস্য। সরকার ও বিরোধী দলের ক্ষমতার ‘ভাগাভাগি’ দেশের সংসদীয় গণতন্ত্রকে কতটুকু শক্তিশালী করবে, তা নিয়েও রয়েছে সংশয়। বিগত নবম সংসদের শুরুতেই সামনের সারিতে আসনবিন্যাস নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এরই জের ধরে বেশ কিছুদিন সংসদ অধিবেশন বর্জনও করে তৎকালীন প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। আসনবিন্যাস নিয়ে আগেরবারের তিক্ত অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গে চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ বলেন, ‘গত সংসদে বিরোধী দল সামনের সারিতে ৫ টি আসন পেয়েছিল। এবারও বিরোধী দল একই রকম আসন পাবে। যদিও সংখ্যানুপাতে বিরোধী দলের সামনের সারিতে ৪ টি আসন পাওয়ার কথা।’ দশম সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ৫ টি আসনে ‘সন্তুষ্ট’ থাকবে কি-না, জানতে চাইলে আ স ম ফিরোজ বলেন, আশা করি, তারা আস্থাশীল থাকবেন; বিব্রত হবেন না। তিনি আরও বলেন, জাতীয় পার্টি সরকারে থাকলেও বর্তমান সংসদের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে গঠনমূলক সকল কর্মকান্ডে যথাযোগ্য ভূমিকা পালন করবে।




