তাপস চন্দ্র সরকার, কুমিল্লা : কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার গোসাইপুর গ্রামে গ্রাম্য সালিশকারীদের উপর অভিমান করে গত মঙ্গলবার দুপুরে গলায় ফাঁস লাগিয়ে হেলেনা আক্তার নামের এক কিশোরীর আত্মাহত্যার খবর পাওয়া গেছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়- কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের গোসাইপুর গ্রামের মাদ্রাসার পশ্চিম পার্শ্বের বাড়ীর বাচ্চু মিয়ার কন্যা হেলেনা আক্তার (১৬) উপজেলার দেবপুর এলাকায় স্পিলিং মিলে দীর্ঘ দিন যাবত চাকুরী করে আসছে। চাকুরীর সুবাদে দেবপুর এলাকার আবদুল অহেদ মিয়ার ছেলে খোরশেদ আলমের সাথে পরিচয় হয়। খোরশেদ আলম নিজেকে অবিবাহিত পরিচয় দিয়ে হেলেনা আক্তারের সাথে প্রেম করতে থাকে। ১০ দিন পূর্বে খোরশেদ আলম হেলেনাকে ফুসলিয়ে ফাসলিয়ে নিয়ে উধাও হয়ে যায়। ৪/৫দিন খোরশেদ আলমের সাথে থাকার পর হেলেনা জানতে পারে সে বিবাহীত। এতে হেলেনা তার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে বাড়ী চলে আসে। শনিবার রাতে খোরশেদ আলম আবারো হেলেনা আক্তারের সাথে দেখা করতে আসলে এলাকার লোকজন খোরশেদ আলমকে মারধর করে আটকে রাখে। এ ঘটনায় ওই রাতে দুই পরিবারের মধ্যে একটি সালিশী বৈঠক হয়।
বৈঠকে ময়নামতি এলাকার আখলাখ হায়দারের ছেলে আদনান- ময়নামতি এলাকার ফরিদ ও স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা নজরুল ইসলাম, মোস্তফা বৈঠকে ছেলেটিকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করে ছেড়ে দেয়। এ ঘটনাটি এলাকায় লোক মূখে ছড়িয়ে পরলে হেলেনা আক্তার রাগে ক্ষোভে গত মঙ্গলবার সকাল ১০ টায় তার ছোট বোনকে স্কুলে পাঠিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে তীরের সাথে ওড়না বেঁধে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে। পরে তার ছোট বোন স্কুল থেকে বাড়ী ফিরে ঘরের দরজা বন্ধ দেখে বাড়ীর লোকজনকে ডেকে এনে একত্রিত করে ঘরের দরজার লক ভেঙ্গে হেলেনাকে ঘরের তীরের সঙ্গে ঝুলতে দেখে। খবর পেয়ে হেলেনার পরিবার ও এলাকার লোকজন একত্রিত হয়ে বুড়িচং থানা পুলিশকে খবর দিলে বুড়িচং থানার এস আই মনিরুল হক সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় লাশটিকে উদ্ধার করে। পরে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করে। এ ঘটনায় বুড়চিং থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই মনির জানান, ময়নাতদন্তের জন্য আজ (বুধবার) সকালে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (কুমেক) এ পাঠানো হয়েছে তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন,আত্বহত্যার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।




