সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যারা যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে সাতক্ষীরার মাটিকে রক্তাত্ত করেছে তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সাতক্ষীরায় একের পর এক আওয়ামীলীগ নেতা কর্মী হত্যা করা হয়েছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর বর্বোরচিত হামলা চালানো হয়েছে। তারা এ দেশকে তালেবানি রাষ্ট্র বানাতে চেয়েছিল। জামায়াত শিবিরের অতিষ্ঠে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। তাদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও জঙ্গি বাদ বন্ধ করার জন্য সরকার ইতিমধ্যে ব্যবস্থা গ্রহন করেছে। প্রধানমন্ত্রী আর ও বলেন বিএনপি নির্বাচনে না এসে তারা স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াত শিবিরের দোষর হয়ে কাজ করছে ।

বিএনপি নেত্রী ঐ যুদ্ধাপরাধীদের নিয়ে নির্বাচন প্রতিহত করার ঘোষনা দেন। তার সে ঘোষনা জনগন প্রত্যখ্যান করে ৫ জানুয়ারী নির্বাচনে সাতক্ষীরা বাসি শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট দান করায় তিনি সাতক্ষীরাবাসিকে ধন্যবাদ জানান। তিনি হুসিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যারা হরতাল অবরোধের নামে রাস্তা কেটে, গাছ কেটে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করেছে তাদের বাংলার মাটিতে কোন স্থান নেই। এদেশে তাদের বিচার হবেই হবে। তিনি বলেন বিএনপি নেত্রীর দুই গুন সেটা হলো দুনীতি আর মানুষ খুন। সোমবার বিকাল ৪ টায় সাতক্ষীরা সরকারি সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয় মাঠে জেলা আওয়ামীলীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির ৩০ মিনিট বক্ত্যবে তিনি উপরোক্ত কথা বলেন।
জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার শেখ মুজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রেীয় আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও স্বাস্থ্য মন্ত্রী মোঃ নাসিম এমপি, বাংলাদেশ ওয়ার্কর্স পার্টির সভাপতি ও বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খাঁন মেনন, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এমপি, সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি, মৎস্য ও পশু সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ,কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম-হানিফ এমপি, সাতক্ষীরা তালা কলারোয়া আসনের সংসদ সদস্য এড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, সাতক্ষীরা সদর আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি, সাবেক স্বাস্থ্য মন্ত্রী আফম রুহুল হক এমপি, সংসদ সদস্য জগলুল হায়দার, জেলা পরিষদ প্রশাসক মুনছুর আহমেদ, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, কেন্দ্রেীয় ছাত্রলীগের সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ সহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

প্রথমে প্রধানমন্ত্রী সাতক্ষীরা সার্কিট হাউজে জামায়াত শিবিরের হাতে নিহত ১৬ পরিবার ও আহত এবং যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের তাদের পরিবারের সাথে মতবিনিময় করেণ। তিনি নিহত পরিবারের সদস্যকে ৫ লাখ টাকা আহতদের ২ লাখ টাকা ও ক্ষতিগ্রস্তদের ১ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করেণে। ক্ষতিগ্রস্ত মোট ১৫৩ পরিবারের মধ্যে তিনি এ সাহায্য দেন।
এর পর প্রধানমন্ত্রী ৩.৫০মিনিটে সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয় মাঠে উপস্থিত হন। প্রধানমন্ত্রী সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, আশাশুনি এতিম ছেলেমেয়েদের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষন কেন্দ্র, কপোতাক্ষ নদের পনঃখনন, তালা উপজেলার পাখিমারা বিলের টিআরএম প্রকল্পের উদ্বোধন, খুলনা সাতক্ষীরার সড়কের নির্মন কাজ, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের একাডেমিক কাম প্রশাসনিক ভবন, খারহাট কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কাম সাইক্লোন সেন্টর, তুলকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন সেন্টারের নির্মান কাজের উদ্বোধন, শ্রীরামপুর ইউনাইটেড মডেল কলেজ একাডেমিক ভবনের নির্মন কাজের উদ্বোধন, নাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন সেন্টার, মানিক খালি সেতু, আশাশুনি পাইকগাছা সড়কের উন্নয়ন প্রকল্প ও সাতক্ষীর পৌরসভার পানি শোধানাগারের ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন করেণ।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বন্ধ করতে হবে। তা না হলে সরকার যতটা কঠোর হওয়ার প্রয়োজনে ততটা হবে। বিএনপি জামায়াত জঙ্গিবাদের মদদদাতা। বিএনপি একা নয় তারা জামায়াতের সাথে মিশে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে চায়। অপরাধ করা তাদের কাজ। এদেশ আমাদের এদেশকে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসিদের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। বিএনপি জামায়াতে হাতে যে সব সংখ্যালঘু পরিবার নির্যাাতিত হয়েছে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে।
আওয়ামীলীগ সভানেত্রী আরও বলেন, বিএনপি জামায়াত নির্বাচনে না এসে দেশকে জঙ্গিবাদের রাষ্ট্র কয়েম করতে চায়। তারা নির্বাচনে না এসে এবং নির্বাচনে জিতে গেলে এখন যে ভাবে সংখ্যলঘুদের উপর নির্যাতন হচ্ছে তার মাত্রা কতগুন হতো তা একমাত্র বিএনপি নেত্রী বলতে পারতেন। যে সব সংখ্যালঘু পরিবার নির্যাতিত হয়েছে ইতিমধ্যে তাদের পুনবাসনের জন্য বর্ডার গাড বাংলাদেশ (বিজিবি) কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি জামায়াত নির্বাচন প্রতিহত করার ঘোষনা দিয়েছিল। তাদের সে চক্রান্ত সফল হয়নি। বাংলাদেশের মানুষ স্বতস্ফুর্ত ভাবে ভোট দান করেছে। সরকার শপথ গ্রহনের পর দেশে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন,গনতান্ত্রিক ভাবে যদি বিএনপি জামায়াত এদেশে আন্দোলন করতে পারে তাহলে করবে তা না হলে দেশে জঙ্গিবাদের কোন স্থান নেই। যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারিদের সরকার কঠোর হতে দমন করবে।
প্রধানমস্ত্রী উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে বলেন, বর্তমানে দেশে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। আগামী ২০২১ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন দ্বিগুন করা হবে। ভুমিহীনদের মাঝে খাস জমি বিতরণ করা হচ্ছে। গত ৫ বছরে সাতক্ষীরায় যে উন্নয়ন হয়েছে তা ধারাবাহিক ভাবে চলতে থাকবে উল্লেখ করে বলেন এলাকায় মৎস্য ও কৃষি শিল্প গড়ে তোলা হবে।




