ইয়ানুর রহমান, যশোর : যশোরে জেলা আওয়ামী লীগ নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য স্বপন ভট্টাচার্যসহ দলের সিনিয়র ১০ নেতাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে । দলের এক বর্ধিত সভায় শনিবার এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলী রেজা রাজু জানান, ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনীত প্রার্থীদের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ায় শীর্ষস্থানীয় এ নেতাদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এটি অনুমোদনের জন্য সভার রেজুলেশন কেন্দ্রে পাঠানো হবে।
সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে যশোর-২ আসন থেকে সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, যশোর-৪ আসন থেকে জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ অধ্যক্ষ শেখ আব্দুল ওহাব এবং যশোর-৫ আসনে স্বপন ভট্টাচার্য আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন।
এদের মধ্যে স্বপন ভট্টাচার্য বিজয়ী হন। যশোর-২ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী মনিরুল ইসলামের নাম গেজেট প্রকাশ না করে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। যশোর-৪ আসনে পরাজিত হয়েছেন আব্দুল ওহাব।
জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতারা জানান, ওই স্বতন্ত্র প্রার্থীরা কার্যত দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলের নেত্রীর প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করেছেন। সে কারণে শনিবারের বর্ধিত সভায় স্বপন ভট্টাচার্য এবং অধ্যক্ষ আব্দুল ওহাবকে দল থেকে বহিষ্কারের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম দলীয় কোনো পদে না থাকায় তার বিষয়ে সভায় কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি।
ওই সভায় মনিরামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা সাবেক পৌরমেয়র আমজাদ হোসেন লাভলুসহ আরো আট নেতাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জেলা সভাপতি আলী রেজা রাজু জানান, সভার এই রেজুলেশন অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটিতে পাঠানো হবে।
আরো জানা যায়, ওই সভা থেকে যশোরের পুলিশ সুপার জয়দেব কুমার ভদ্রকেও যশোর থেকে বদলি করতে সরকারের হাইকমান্ডে সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জয়দেব কুমারের গাফিলতিতে অভয়নগরের মালোপাড়া এবং মনিরামপুরের ঋষিপলীতে হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগ নেতারা।
শনিবার সকালে জেলা সভাপতি আলী রেজা রাজুর সভাপতিত্বে দলের জেলা কার্যালয়ে এ বিশেষ বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মনিরামপুর আসনে পরাজিত এডভোকেট খান টিপু সুলতানসহ সকল নেতা উপস্থিত ছিলেন।




