ads

শুক্রবার , ১৭ জানুয়ারি ২০১৪ | ২৫শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

বাংলা চলচ্চিত্রের মহানায়িকা সুচিত্রা সেন আর নেই

রফিকুল ইসলাম আধার , সম্পাদক
জানুয়ারি ১৭, ২০১৪ ৪:৪০ অপরাহ্ণ

suchitra-senশ্যামলবাংলা ডেস্ক : বাংলা চলচ্চিত্রের মহানায়িকা সুচিত্রা সেন আর নেই। ১৭ জানুয়ারী শুক্রবার কলকাতার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ২৫মিনিটে তিনি পাড়ি জমিয়েছেন না ফেরার দেশে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী সুচিত্রা সেন ২৩ ডিসেম্বর ফুসফুসে সংক্রমণ নিয়ে কলকাতার বেলভিউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

Shamol Bangla Ads

বেলভিউ হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাকে জানিয়েছেন যে, বৃহস্পতিবার রাত থেকেই সুচিত্রা সেনের কয়েকটি অঙ্গ বিকল হয়ে পড়ে (মাল্টি অরগান ফেইলিওর)। এরপর শুক্রবার সকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান।
এদিকে মহানায়িকার মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি সকালেই বেলভিউ হাসপাতালে ছুটে যান। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মুখ্যমন্ত্রী এবং সুচিত্রা সেনের চিকিৎসক সুব্রত মৈত্র হাসপাতালের বাইরে এসে মহানায়িকার মৃত্যুর কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। এসময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেন, আজ ৮টা ২৫ মিনিট নাগাদ ওনার মৃত্যু হয়েছে। এটা বিশ্ব বাঙালি জগতের কাছে দুঃসংবাদ। বড় মহীরুহের পতন। এই রকম মানুষ পৃথিবীতে একবারই জন্মান। তার মৃত্যু আমাদের কাছে দুঃখের।
তিনি বলেন, উনি ভেন্টিলেশন চাননি, শান্তিতে থাকতে চেয়েছিলেন। তাই ওনার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে শান্তিপূর্ণভাবেই যতটা সম্ভব শান্তিতে শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। আর কিছুক্ষণ পর হাসপাতালের পারিবারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়ে গেলে ওনাকে কেওড়াতলা মহাশ্মশানের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানেই ওনার শেষকৃত্যৃ সম্পন্ন হবে। তিনি শান্তিতে ও গভীর শ্রদ্ধায় মহানায়িকাকে শেষ সম্মান জানাতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
এদিকে স্থানীয় সময় বেলা ১২টার দিকে সুচিত্রা সেনকে হাসপাতাল থেকে প্রথমে তার কলকাতার বাসভবনে নেওয়া হবে বলে জানা গেছে। পরে সেখান থেকে তাকে শেষকৃত্যের জন্য কেওড়াতলা মহাশ্মশানে নেওয়া হবে। সেখানে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে মহানায়িকাকে সম্মান প্রদর্শন করা হবে।
১৯৩১ সালের ৬ এপ্রিল বাংলাদেশের পাবনায় জন্মগ্রহণ করেন সুচিত্রা সেন। তার পারিবারিক নাম ছিল রমা দাশগুপ্ত। বাবা করুণাময় দাশগুপ্ত ছিলেন স্থানীয় স্কুলের প্রধান শিক্ষক। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। ১৯৪৭ সালে শিল্পপতি আদিনাথ সেনের ছেলে দিবানাথ সেনের সঙ্গে বিয়ে হয় সুচিত্রার। এই দম্পতির একমাত্র মেয়ে মুনমুন সেন এবং দুই নাতনী রিয়া সেন ও রাইমা সেনও অভিনেত্রী। ১৯৫২ সালে চলচ্চিত্র জগতে প্রথম পা রাখেন সুচিত্রা। তবে সে বছর করা তার প্রথম ছবি ‘শেষ কোথায়’ অবশ্য শেষ পর্যন্ত মুক্তি পায়নি। তার প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত বাংলা সিনেমা ‘সাত নম্বর কয়েদি’ মুক্তি পায় ১৯৫৩ সালে। ‘সাত পাকে বাঁধা’ চলচ্চিত্রে অনবদ্য অভিনয়ের স্বীকৃতি স্বরূপ প্রথম বাঙালি অভিনেত্রী হিসেবে তিনি মস্কো ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে সেরা অভিনেত্রীর সম্মান পান। ১৯৭২ সালে পান পদ্মশ্রী খেতাব।
২০০৫ সালে তিনি দাদা সাহেব ফালকে পুরস্কারে ভূষিত হলেও জনসমক্ষে না আসতে না চাওয়ায় শেষ পর্যন্ত পুরস্কারটি আর পাওয়া হয়নি তার। বাংলা চলচ্চিত্রের পাশাপাশি বেশ কিছু হিন্দি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেন মহানায়িকা সুচিত্রা সেন। তার প্রথম হিন্দি চলচ্চিত্র ‘দেবদাস’ মুক্তি পায় ১৯৫৫ সালে। ১৯৭৮ সালে সুচিত্রা সেন অভিনীত শেষ বাংলা চলচ্চিত্র ‘প্রণয় পাশা’ মুক্তি পায়। ওই বছরই চলচ্চিত্র থেকে অবসর নেওয়ার আগ পর্যন্ত অর্ধশতাধিক বাংলা ও হিন্দি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন তিনি। উত্তম কুমারের সঙ্গে জুটি বেঁধে সুচিত্রা সেনের চলচ্চিত্রগুলো আজও বাঙালির হৃদয়ে দোলা দিয়ে যায়। তার অভিনীত উলে­খযোগ্য কয়েকটি চলচ্চিত্র হচ্ছে সাত নম্বর কয়েদী, সাড়ে চুয়াত্তর, সাত পাকে বাঁধা, শাপমোচন, দ্বীপ জেলে যাই, পথে হলো দেরি, মরণের পরে, রাজলক্ষ্মী-শ্রীকান্ত, দত্তা, সাগরিকা, গৃহদাহ, সবার ওপরে ইত্যাদি।
চলচ্চিত্র থেকে অবসরের পর থেকেই লোকচক্ষুর অন্তরালে ছিলেন সুচিত্রা। শেষবার তিনি জনসমক্ষে আসেন ১৯৮৯ সালে, তার গুরু ভরত মহারাজের মৃত্যুর পর।

Need Ads
error: কপি হবে না!