তাপস কুমার, আত্রাই (নওগাঁ) : রাজনৈতিক অস্থিরতা, সহিংসতা, নিরাপত্তাহীনতা ও হরতাল-অবরোধের কারণে শ্রমজীবী মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। তাছাড়াও ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমে এসেছে। ফলে হতাশায় ভুগছেন শ্রমজীবি মানুষ ও ব্যবসায়ীরা। এদিকে, ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্প উদ্যোক্তারা নতুন কোন ব্যবসায় আগ্রহ বা উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছেন। ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। কেউ কেউ হরতাল-অবরোধের আগের দিন থেকে পরের দিন পর্যন্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলছেন না। অনেকেই ঘর থেকে বের হতে সাহস হারিয়ে ফেলেছেন। হরতাল-অবরোধের ফলে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিক্রয় নেই বললেই চলে। কমেছে ব্যাংক লেনদেনও। সাধারন খেটে খাওয়া মানুষ পেটের দায়ে কর্মসংস্থানে যাওয়ার ইচ্ছে থাকলেও যানবাহনের অভাবে যেতে পারছেন না। ফলে পরিবারের খরচ যোগাতে না পেরে ক্ষুধার জ্বালা নিয়েই চলছে বেঁচে থাকার লড়াই।

গতকাল রবিবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ভ্যান-রিক্সা, ভটভটি, সিএনজি চালকেরা ভাড়া না থাকার কারণে কর্মহীন হয়ে পড়েছে। সাহেবগঞ্জ বাজারের ভ্যান চালক আবু তালেব বলেন, দেশের এই পরিস্থিতিতে ভ্যান ঘর থেকে বের করতে ভয় হয়। পেটের দায়ে ভ্যান বের করতে হয়। কিন্তু ভাড়া নেই? ভরতেঁতুলিয়া গ্রামের ভটভটি চালক কালাম হোসেন জানান, আর কতদিন হরতাল হবে। একদিন ভাড়া না খাটলে পেটের অন্ন জোটে না। তার ওপর আবার ঋণের বোঝা। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের কি হবে? এমন প্রশ্ন অনেকের অন্যদিকে যে সকল ব্যবসায়ী ঋন নিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন, ঋণের টাকা পরিশোধ করতে তারা হাঁফিয়ে উঠছেন। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ব্যবসায়ীরা সন্ধ্যা হওয়ার সাথে সাথে দোকান পাট বন্ধ করে বাড়ী ফিরছেন। ফলে রাতের আধারে ঘটছে বিভিন্ন ধরনের অঘটন। ব্যাংকগুলো নতুন করে ঋণ দিতে পাড়ছে না বলে একাদিক সূত্রে জানা গেছে। ফলে বিনিয়োগ (ঋণ) কমে গেছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষায় রয়েছেন তারা। পাশাপাশি এনজিওগুলোর ঋণ গ্রহীতাদের মাঝে হতাশা ও ঋণ খেলাপিতে পরিণত হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, অতিদ্রæত এই অস্থিরতা দূর করতে না পাড়লে দেশ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দেশের অর্থনীতি এবং সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের জীবন যাত্রা অজানা গভীর সংকটে পড়বে। এমনকি দেশে চলমান রাজনৈতিক সহিংসতায় ব্যাংক এনজিওগুলোতে একের পর এক হরতাল-অবরোধের ঘটনা অর্থনীতির জন্য অশনির সংকেত। মুদি ব্যবসায়ী বাবু জানান, ঘনঘন হরতাল-অবরোধের কারণে আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে স্থবিরতা নেমে এসেছে। এরকম চলতে থাকলে অনাহারে দিন কাটাতে হবে। তেমন কোন বেচা বিক্রিও নেই। সব সময় থাকতে হয় আতঙ্কে। একারণে শ্রমজীবী খেটে খাওয়া মানুষ গুলো কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।




