নজরুল ইসলাম , তালা (সাতক্ষীরা) : যৌথবাহিনীর সঙ্গে জামায়াত বিএনপি’র সংঘর্ষে ইউপি চেয়ারম্যান আনারুল ইসলাম নিহত হয়েছেন। সোমবার দুপুর পৌনে একটার দিকে সাতক্ষীরা সদরের শিকড়ি গ্রামের এ সংঘর্ষ হয়। তিনি সদর উপজেলার কাশেমপুর গ্রামের আব্দুর রহমান সানার ছেলে ও আগরদাঁড়ি ইউপি’র বর্তমান চেয়ারম্যন।

সাতক্ষীরা সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার কাজী মনিরুজ্জামান মনির জানান, দুপুর পৌনে একটার দিকে যৌথবাহিনীর সদস্যরা সাতক্ষীরা সদর উপজেলার জামায়াত অধ্যুষিত সীমান্তবর্তী আগরদাড়ি কুশখালী এলাকায় অভিযানে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে শিকড়ি গ্রামের একটি কুলবাগান থেকে জামায়াত শিবিরের নেতা কমীরাা তাদেরকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। এ সময় তারাও পাল্টা গুলি ছোঁড়ে। সংঘর্ষে একজন গুলবিদ্ধ হয়। তাকে সদর হাসাপাতালে নিয়ে এলে জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ রবিউল ইসলাম তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
স্থানীয় লোকজন তাকে বিএনপি কর্মী ও আগরদাঁড়ি ইউপি চেয়ারম্যান আনারুল ইসলাম বলে চিনতে পারে। তার বিরুদ্ধে হেরোইন পাচার, আওয়ামী লীগ নেতা হাবিবুর রহমানকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টাসহ কমপক্ষে দু’ডজন মামলা রয়েছে। জামায়াত শিবিরের সহিংসতাসৃষ্টিকারীদের অর্থ যোগান দেওয়াসহ আওয়ামী লীগ কর্মী সিরাজুল হত্যা ও বিএনপি কর্মী হাশেম আলীকে কুপিয়ে জখমসহ সহিংসতা সৃষ্টির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এদিকে কাশেমপুর গ্রামের আব্দুল গফফর সানার ছেলে আমিনুর রহমান লাকি অভিযোগ করে বলেন, তার চাচা অবিবাহিত আনারুল ইসলাম কোন রাজনৈতিক দলের সদস্য না হলেও বিএনপি’র সমর্থক ছিল।

যৌথবাহিনীর সদস্যরা সকাল ১০টার দিকে তার চাচার বাড়ির সামনে যেয়ে সাংবাদিক পরিচয়ে তার বাড়ি ভিডিও করতে থাকে। এ সময় তাকে বক্তব্য দেওয়ার জন্য বাইরে ডেকে নিয়ে চোখ বেঁধে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে দুপুর পৌনে একটার দিকে তাকে শিকড়ি গ্রামের একটি কুলবাগানে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ রবিউল ইসলাম জানান, নিহত আনারুল ইসলামের শরীরের বুকে ও পেটে দু’টি গুলির চিহ্ন রয়েছে। এ ব্যাপারে জেলা বিএনপি’র সাধারন সম্পাদক আব্দুল আলীম জানান, আনারুল ইসলাম বিএনপি’র সমর্থক ছিল।




