রাউজান. (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীর মুখে রাত দিন বসানো হচ্ছে সারি সারি জাল। পাশাপাশি নদী থেকে বিরতিহীন ভাবে উঠানো হচ্ছে ড্রেজার বসিয়ে বালু। ওসব কাজ চলছে প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের নাকের ডগায়। মোহরা এলাকার জনসাধারণ অভিযোগ করেছে জালপাতা ও কালু উঠানোর কাজে নেপথ্যে রয়েছে একটি শক্তিশালী সিণ্ডিকেট। তাদের তত্বাবধানে লোভী শ্রেণীর জেলে ও বালু ব্যবসায়ীরা একাজ করছে। অভিযোগ রয়েছে এখানে বালু ও জালপাতার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে অনেক সময় সংঘর্ষ সংঘাত হয়। লোকমুখে প্রচার আছে কালুঘাট এলাকার বালুর ব্যবসা নিয়ন্ত্রন নিয়ে দ্বন্ধের জের ধরে রাউজানের এক শীর্ষ সন্ত্রাসী অর্ন্তধান হয়েছে।

রাউজান উপজেলা কছুখাইন গ্রামের লোকজন অভিযোগ করেছে হালদার নোয়াপাড়া ইউনিয়ন ও বোয়ালখালী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ভাঙ্গন কবলে পড়েছে।
নোয়াপাড়ার সাকরদা ও দেওয়াজিরঘাট গ্রাম ভাঙ্গনে পড়ে আগেই বিলুপ্ত হয়েছে। এখন নদী গর্ভে যাওয়ার অপেক্ষায় আছে কছুখাইন ও মোকামীপাড়া গ্রাম। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে কালুরঘাট কেন্দ্রীক বালুর ব্যবসায় নিয়োজিত একটি শক্তিশালী সিণ্ডিকেট প্রতিদিন অর্ধশাতাধিক ড্রেজার দিয়ে হালদার চর এলাকা থেকে বালু উঠিয়ে দিচ্ছে। ওসব বালু বড় বড় যান্ত্রিক নৌযান করে নিয়ে উঠানো হচ্ছে কালুরঘাট পুলিশ ফাঁড়ীর সামনে। এখানে থেকে প্রতিদিন কয়েক’শ ট্রাক বালু নিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন গন্তব্যে। সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, হালদার মুখে জেলেরা সারি সারি জাল পেতে বসেছে। ছোট বড় জালে আটকে ধরা পড়ছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। স্থানীয়রা জানিয়েছে এখানে জাল পাতা নিয়েও রয়েছে একটি সিণ্ডিকেট। এই সিণ্ডিকেট এর অধীনে থাকা জেলেদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা নেয় নেপথ্যে সহায়তাকারী পুলিশ ও স্থানীয় সন্ত্রাসীরা। একই কায়দায় চাঁদা আদায় করা হয় বালুর ব্যবসার সাথে জড়িতদের কাছ থেকেও। মৎস্য বিভাগের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা যায়, হালদায় জাল পাতা আইনে নিষিদ্ধ রয়েছে। হা

লদার প্রাকৃতিক মৎস্য সম্পদ রক্ষায় এই আইন করা হলেও লোভী শ্রেনীর জেলেরা এই আইন মানছে না। মৎস্য বিভাগের আইনে নিষেধ করা আছে নদীতে যান্ত্রিক নৌযান চলাচলের উপর। তাও এখানে কার্যকরীতা নেই। এলাকার সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে যারা আইনের প্রয়োগ করার কথা তাদের সাথে গোপন সমঝোতা রয়েছে বালু উঠানো ও জাল পাতার সাথে জড়িতদের সাথে। একারণে দিন দিন এখানে অবৈধ তৎপরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কালুঘাট এলাকার সাধারণ ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বালুর ট্রাক চলাচলে গোটা এলাকা উড়ন্ত ধুলোর কারণে কুয়াশাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে গোটা এলাকাটি ঢেকে থাকে উড়ন্ত বালু আস্তরণে। একারণে অনেকেই এখানে ব্যবসা ঘুটিয়ে অন্যত্র চলে যেতে হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকেই বলেছেন কালুরঘাট এলাকাটির প্রাকৃতিক ভাবে সৌন্দর্য হওয়ায় অনেকেই এখানে নারী শিশুদের নিয়ে আগে বেড়াতে আসতো। এখন এই পরিবেশ হারিয়ে যাওয়ায় মানুষের আসা যাওয়া কমে গেছে। স্থানীয়রা কালুঘাটের আগের সুন্দর পরিবেশ ফিরিয়ে আনা ও হালদা মৎস্য সম্পদ রক্ষায় সকল অবৈধ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ গ্রহনের সংশি¬ষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।




