আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি : বরগুনার আমতলী উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দপ্তরের সামনে বৃহস্পতিবার সকালে কয়েক শ শিক্ষা র্থী-অভিভাবক মানববন্ধন কর্মসূচী পালন ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জেসমিন আকতার ও আমতলী বন্দর মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিরুদ্ধে এ বছরের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিএসসি) পরীক্ষার উত্তরপত্রের গোপন কোড নম্বর ফাঁস করার অভিযোগ এনে পিএসসি পরীক্ষার ফলাফল স্থগিতের দাবী জানায় তারা। এ সময় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শ্লোগান দেয়।

উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী-অভিভাবকের ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন চলাকালে ঘটনার সুষ্টু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্দে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার নেয়ার দাবী জানিয়ে বক্তব্য রাখেন অভিভাবক প্রভাষক নজরুল ইসলাম তালুকদার। আরেক অভিভাবক হারুন অর রশিদ মোল্লা অভিযোগ করেন, কয়েক বছর ধরে উত্তরপত্রের গোপন কোড নম্বর ফাঁস করার কারসাজিতে আমতলী বন্দর মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অনৈতিকভাবে ভাল ফলাফল ও বৃত্তি লাভ করে আসছে। অন্যান্য বিদ্যালয়ের মেধাবীরা বঞ্চিত হচ্ছে। মানববন্ধন কর্মসূচী ও বিক্ষোভ প্রদর্শন শেষে এ ব্যাপারে আমতলীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহা পরিচালকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন তারা।
প্রসঙ্গতঃ উত্তরপত্রের গোপন কোড ফাঁসের বিষয়টি নিয়ে গত ১০ ডিসেম্বর তারিখে “শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, পিএসসির উত্তরপত্রের গোপন কোড ফাঁস” শিরোনামে প্রথম আলোতে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। একই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গত বছরেরও পিএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্রের কোড নম্বর ফাঁস করে দেওয়ার অভিযোগে প্রথম আলোতে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্তু জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান এ ব্যাপারে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেননি। এবারের ফাঁসের বিষয়টি পুরো আমতলী ও জেলা সদরে আলোচিত বিষয় হলেও জানতে চাওয়া হলে বিষয়টি তাঁর জানা নেই বলে দাবি করেছিলেন। বৃহস্পতিবারের মানববন্ধন ও বিক্ষোভের বিষয়ে কথা বলার জন্য বরগুনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তরের যোগাযোগ করা হলে অফিস সহকারী নাসির উদ্দিন জানান জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ঢাকায় অবস্থান করছেন।

আমতলী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তরের অফিস সহকারী গাজী আশরাফ জানিয়েছেন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জেসমিন আকতার গত ১৮ ডিসেম্বর চাকুরীতে ইস্তফা দিয়ে কর বিভাগে নতুন চাকুরীতে যোগদান করেছেন। মুঠোফোনে জেসমিন আকতার জানান, “কোড ফাঁসের বিষয়ে আমি কিছু জানি না। শিক্ষা বিভাগের চাকুরী ছেড়ে দিয়েছি। কেন যে মানববন্ধন বা বিক্ষোভ করা হলো বুঝতে পারছিনা !”
বন্দর মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিল্লুর রহমান বলেন, “আমার বিদ্যালয় বরাবর ভালো ফলাফল করে বলে অন্যরা এই অভিযোগ করছেন।”
অনৈতিকতার আশ্রয় নিয়ে ভালো ফলাফল করানোর অপচেষ্টার সঙ্গে জড়িতদের কঠোর বিচারের দাবি জানিয়েছে মানববন্ধন কর্মসূচীতে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা।




