তানোর প্রতিনিধি : রাজশাহীর তানোরে ন্যায্যমূল্যে সার পেতে কৃষকরা মানববন্ধন শেষে ইউএনও’র মাধ্যমে জেলা প্রশাসককে স্বারকলিপি প্রদান করেছেন। এর অনুলিপি কৃষিমন্ত্রী, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা কৃষি কর্মকর্তাকে প্রদান করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জিওল-চাঁদপুর রবি শস্যের মাঠে পাঁচ শতাধিক কৃষক জড় হয়ে পূর্বের ঘোষিত মানববন্ধন কর্মসূচি পালন শেষে বেশ কয়েক দাবি তুলে ধরে স্বরকলিপি প্রদান করা হয়েছে।

মানববন্ধনে কৃষক কালচার একাডেমির সাধারণ সম্পাদক দুলাল হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, চলতি রবি মৌসুমে ব্যাপক পরিমান জমিতে আলু, শরিষা, গমসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করা হয়েছে। এসব ফসলে বর্তমানে রাসায়নিক সার প্রয়োজন। একারণে কৃষকরা সার পেতে ডিলারের কাছে ধর্ণা দিয়েও তাদের প্রয়োজনীয় ইউরিয়া, পটাশ (এমওপি) ও ডিএপি সার ন্যায্যমূল্যে পাচ্ছেন না। ফলে রবি মৌসুমের আবাদ নিয়ে তারা বেকায়কায় পড়ে চরম দুশ্চিন্তায় ভুগছেন। এঅবস্থায় কৃষকরা সারের জন্য পাগল হয়ে কাজ কাম ফেলে দিগি¦দিক ছুটাছুটি করলেও স্থানীয় কৃষি অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সার ডিলারের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে কালোবাজারে সার ব্যবসা অব্যহত রেখেছেন। কৃষকের কাঙ্খিত সার বিসিআইসি ও বিএডিসি ডিলারের কাছে না মিললেও বেশি দামে অবৈধ সার ব্যবসায়ীর কাছে পাওয়া যাচ্ছে। অবৈধ সার ব্যবসায়ীরা এভাবে বেশি দামে কালোবাজারে সার বিক্রি করলেও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন কার্যকরি পদক্ষেপ হাতে নেন নি। যার ফলে এসব অবৈধ ব্যবসায়ীরা দেদারসে বেশি দামে কালোবাজারে সার বিক্রি অব্যহত রেখেছেন।
বক্তব্যে তিনি আরও জানান, উপজেলা প্রশাসনের নাকের ডোগায় ৮০০ টাকার ইউরিয়া সার ১০০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এছাড়া ৭৫০ টাকার পটাশ (এমওপি) সার ৮৫০ টাকা থেকে ৯০০ টাকায় এবং ১৩৫০ টাকার ডিএপি সার ১৩৮০ থেকে ১৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এঅবস্থায় সার ডিলার ও অবৈধ সার ব্যবসায়ীদের প্রকাশ্যে কালোবাজারে সার ব্যবসা বন্ধ করে দূর্নীতিবাজ উপজেলা কৃষি অফিসার ও প্রাইম ট্রেডার্সের মালিক সার ডিলার প্রণবসাহাকে অপসারণ করে ন্যায্যমূল্যে কৃষকের কাছে সার পৌঁছাতে দু’দিনের সময় বেঁধে দেন।

এসময় কৃষক কালচার একাডেমির সভাপতি মহসিন আলী রেজার সভাপতিত্বে উপস্থিত বক্তব্য রাখেন ওয়ার্ড কাউন্সিলর মুনজুর রহমান, কৃষক সংগঠণের অন্যতম নেতা জামাল উদ্দিন, কৃষক সাবর আলী, জেলহ্জ্জ মন্ডল, আবদুল গণি মিয়া প্রমূখ।




