ads

মঙ্গলবার , ২৪ ডিসেম্বর ২০১৩ | ৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

চুয়াডাঙ্গায় ১৮ দলের ১৬ নেই : বিএনপিতে হযবরল : জামায়াত অস্থিত্ব সংকটে

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
ডিসেম্বর ২৪, ২০১৩ ২:৫৬ অপরাহ্ণ

18 Dolচুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : ১৮ দলীয় জোটের মধ্যে চুয়াডাঙ্গায় ১৬ টি দলের কোন অস্তিত্ব নেই। বিএনপি ও জামায়াত থাকলেও দলীয় কোন্দল, একাধিক গ্র“প, নেতৃত্ব সংকট ও দির্ঘদিন যাবত অঙ্গ-সংগঠনগুলোর কোন পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন না করা, জেলা বিএনপির সভাপতি সেত্রেটারী রাজনৈতিক কর্মকান্ডে অংশ না নেওয়ায় হযবরল অবস্থা  বিএনপির। অপরদিকে সরকার দলের দমন-পীড়ন ও মামলার কারণে অধিকাংশ নেতা-কর্মী আত্মগোপনে থাকায় জামায়াত ভুগছে অস্তিত্ব সংকটে। ফলে জামায়াত তাদের সুবিধামত জেলা ও উপজেলায় বিএনপি’র সাথে তারা ১৮ দলীয় জোটের (১৬ দল বাদে) সংগ্রাম কমিটি গঠন করছে।
সারাদেশ ১৮ দলের আন্দোলন সংগ্রামে যখন অচলপ্রায়, তখন চুয়াডাঙ্গা জেলা রয়েছে ফুরফুরে মেজাজে। ১৮ দলের ডাকা একাধিক অবরোধ কর্মসূচি চুয়াডাঙ্গা জেলায় পালিত হচ্ছেনা। সড়ক, রেলপথ ও নৌ-পথ অবরোধ করার কথা থাকলেও এ জেলায় ১৮ দলের নামে দু’দল বিএনপি-জামায়াত অবরোধের দিন নামমাত্র শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে।
চুয়াডাঙ্গায় নামসর্বস্ব ১৮ দলের মধ্যে দু’দল বিএনপি-জামায়াত একত্রিত হয়ে জেলার কোথাও কোন অবরোধ কর্মসূচি পালন করে না। জামায়াত এককভাবে বিক্ষিপ্ত আকারে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে আসছে। চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অর্থ-সম্পদশালী অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের কারনে বিভিন্ন উপ-দলে বিভক্ত হয়ে গেছে। এখনও এ ধারা অব্যাহত আছে। টাকা না দিলে বিএনপির কোন নেতাকর্মী দলীয় কোন কর্মকান্ডে আসে না। চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে বিএিনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা সাবেক সংসদ সদস্য শামসুজ্জামান দুদু, ঢাকা পিলখানা বিডিআর হত্যাকান্ডর প্রত্যক্ষ সাক্ষী লে.কর্ণেল (অব) সৈয়দ কামরুজ্জামান, জেলা বিএনপির অর্থ সম্পাদক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম, বিএনপি’র সাবেক দলীয় সংসদ সদস্য মরহুম সহিদুল ইসলাম বিশ্বাসের ভাই কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য উপ-দল সৃষ্টির হোতা অহিদুল ইসলাম বিশ্বাস এবং আলমডাঙ্গা পৌরসভার মেয়র মীর মহিউদ্দিন টাকার বিনিময়ে বিএনপির কিছু সভা, সমাবেশ ও মিছিল করছে। তবে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি’র সেক্রেটারী শামসুজ্জামান দুদু’র চুয়াডাঙ্গা শহরের বাড়ির বৈঠক খানায় একটি ঘরে জেলা বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয় করে সেখান থেকে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এ কাজটি করেন দুদুর ছোট ভাই জেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ওয়াহেদুজ্জামান বুলা। তিনি আবার জেলা বিএনপির অযোগ্য অথর্ব বয়সের ভারে অনেকটা বিছানাগত জেলা বিএনপি’র সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য বিশিষ্ট শিল্পপতি মোজাম্মেল হকের নির্দেশ ছাড়া চলেন না।
অভিযোগ রয়েছে স্বার্থপর শিল্পপতি মোজাম্মেল হক বিএনপি ক্ষমতায় থাকা সময় বেসরকারী রেডিও টুডের লাইসেন্সসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ীক সুবিধা পায়। দলের অসময়ে এ পদলোভী ব্যাক্তি নিজ স্বার্থ ছাড়া কোন দলীয় কর্মসূচিতে যান না। ১৮ দলের সমন্বয় হওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি বড় বাঁধা। জামায়াত ব্যতীত চুয়াডাঙ্গায় আর ১৬টি দল কোথায়, তা কেউ বলতে পারবে না। কিন্তু অবাক হওয়ার মত বিষয় যে, তিনি জেলা বিএনপির সভাপতি হলেও তার নির্বাচনী এলাকা দামুড়হুদা ও জীবননগর উপজেলা ব্যতীত তিনি চুয়াডাঙ্গা ও আলমডাঙ্গা উপজেলায় দলীয় কর্মকান্ডে যেতেন না, এখনও যান না। চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু কেন্দ্রীয় নেতা হওয়ায় তিনি চুয়াডাঙ্গায় কম আসেন। দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে তার ছোট ভাই এডভোকেট ওয়াহিদুজ্জামান বুলা। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে মিথ্যা কথা বলে সমন্বয়ের অভাব ঘটায়। তার অনুগত অনেককেই যাদের বলিষ্ঠ কর্মী হওয়ার যোগ্যতা নেই, কিন্তু তিনি তাদেরকে একাধিক দলীয় পদ দিয়ে রেখেছেন। এ কারনে চুয়াডাঙ্গা বিএনপির কর্মকান্ড বিকলাঙ্গ রূপ নিয়েছে।
বিএনপির বড় কোন দলীয় কর্মসূচি থাকলে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী বিশিষ্ট শিল্পপতি কেন্দ্রীয় যুবদলের শিল্প ও বানিজ্য বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদ হাসান খান বাবু তার এলাকা থেকে এবং চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবুল হক মালিক মজু দলীয় নেতাকর্মী না পাঠালে কর্মসূচি পালিত হয় না। এছাড়া কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য মুহাম্মদ অহিদুল ইসলাম বিশ্বাস পৌর জামায়াতের ওপর নির্ভর করে শহরে বিএনপির একটি উপ-দল করে আলাদাভাবে দলীয় কর্মকান্ড পরিচালনা করছে। লে.কর্ণেল (অব) সৈয়দ কামরুজ্জামান বিএনপির একটি উপ-দল করে তার শহরের এমারজেন্সী রোডের বাড়ি থেকে দলীয় কর্মকান্ড পরিচালনা করে। তাছাড়া জেলা বিএনপির অর্থ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম তার কোর্টপাড়া কার্যালয় থেকে বিএনপির একটি উপ-দল নিয়ন্ত্রন করে। মজার বিষয় হলো বিএনপির উপ-দল গুলো তাদের দলীয় কর্মসূচি পালনের কিছু আগে ইলেকট্রনিক মিডিয়ার চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধিদের কাছে মোবাইল ফোনে কল দিয়ে ডেকে আনে এবং ফটোসেশন করে দলীয় কর্মকান্ড শেষ করে। সন্ধ্যার পর কিছু দলীয় কর্মীদের ফটো তোলার দোকানে ভীড় করতে দেখা যায়। সেখান থেকে ছবি নিয়ে তারা স্থানীয় পত্রিকা অফিসে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিসহ দিয়ে এসে তাদের দায় সারে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের আমীর আনোয়ারুল হক মালিক ও সেক্রেটারী দামুড়হুদার হাউলী ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান দলীয় কর্মকান্ডে থাকে না। জেলা আমীর  চুয়াডাঙ্গার দর্শনা কেরু এন্ড কোং চিনি কলে এবং সেক্রেটারী দামুড়হুদা ডিএস দাখিল মাদরাসায় চাকরি করে। সে কারনে তারা দলীয় কর্মকান্ড এড়িয়ে চলেন।
সারা দেশে যখন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারি সেক্রেটারী আব্দুল কাদের মোল­ার ফাঁসির ব্যাপার দলীয় নেতাকর্মীরা ক্ষুব্দ এবং সোচ্চার তখন চুয়াডাঙ্গায় কোন প্রতিক্রিয়া নেই! টানা কয়েক বছর এ ২ নেতাকে অন্ধভাবে ভোট দিয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা আমীর ও সেক্রেটারী বানালেও তাদের রাজনৈতিক ফলাফল শুন্য।
এদিকে জামায়াতের চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের নমিনি জেলা সহকারী সেক্রেটারী রুহুল আমিনের রাজনৈতিক কর্মকান্ড রহস্যজনক। তিনি দামুড়হুদা-জীবননগর উপজেলা ছাড়া আর কোন উপজেলায় যান না। চুয়াডাঙ্গা জেলা সদরে জামায়াতের হাল ধরে আছে সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর আব্দুর রউফ, জেলা জামায়াতের সূরা সদস্য এডভোকেট আসাদুজ্জামান, চুয়াডাঙ্গা পৌর জামায়াতের আমীর মফিজুর রহমান জোয়ার্দ্দার ও সেক্রেটারী এডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল, আলমডাঙ্গা উপজেলা জামায়াতের আমীর নূর মোহাম্মদ হোসাইন টিপু ও আলমডাঙ্গা জামায়াতের পশ্চিমাঞ্চেল আমীর আহম্মেদ জালাল এবং আলমডাঙ্গা পৌর জামায়াতের আমীর মীর আব্দুল জলিল, দামুড়হুদা উপজেলা জামায়াতের আমীর নায়েব আলী ও দর্শনা পৌর জামায়াতের আমীর আব্দুল কাদের ও জীবননগর উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক খলিলুর রহমান।
চুয়াডাঙ্গা জেলায় বিএনপি-জামায়াত বাদে বাকী ১৬ দলের দলের অস্তিত্ব না থাকায় এখানে কোন দলীয় কর্মকান্ড দেখা যায় না।  তাছাড়া এখানকার দলগুলো জানেনা কর্মসূচিতে কি কি পালন করতে হয়। নেতাদের দল ভাঙ্গিয়ে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা নেয়া, অর্থের বিনিময়ে পদ বিক্রি, ধান্দাবাজী ও গুটিয়ে বসে থাকায় ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়ায় কর্মীরা বলছেন, নেতারা যেকোন মুহুুর্তে হামলার শিকার হবে, এর কোন ভুল নেই।

Need Ads

সর্বশেষ - ব্রেকিং নিউজ

Shamol Bangla Ads
error: কপি হবে না!