শ্যামলবাংলা ডেস্ক : যার কথার কোন শেষ নেই, সময়ের তালে বদলায়-পাল্টায় যার কথা, যার সকাল-বিকেলের কথায় যথেষ্ট ফারাক-এক কথায় দেশের রাজনীতিতে যিনি সুর পাল্টানোর ওস্তাদ, তিনি আর কেউ নন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি আলহাজ্ব হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। বহুল আলোচিত এ সাবেক সেনাশাসক দেশের চলমান রাজনীতিতে এখন ‘অঘটন-ঘটনপটিয়সী’ হিসেবেই আলোচিত। মাত্র ৩ দিন আগে যিনি নির্বাচন থেকে সরে দাড়ানোর ঘোষণা দিয়ে আত্মগোপনে চলে গিয়েছিলেন, সেই তিনিই একদিন পর বেরিয়ে এসে আবোল-তাবোল অনেকটাই বলে যাচ্ছেন। এবার তিনি নির্বাচনে ফিরে যেতে আচমকা দুই শর্ত জুড়ে দিয়েছেন। ৬ ডিসেম্বর শুক্রবার রাতে রাজধানীর বারিধারার নিজ বাসভবন প্রেসিডেন্ট পার্কের সামনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি সরকারকে উদ্দেশ্য করে জানিয়ে দিয়েছেন, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ১০ দিন পেছালে এবং সবদল অংশ নিলে জাতীয় পার্টি নির্বাচনে যাবে। নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রশ্নে এরশাদের ওই দুই শর্তে ফের রাজনৈতিক অঙ্গণে শোরগোল শুরু হয়েছে। এটাও তার বোল বা সুর পাল্টানোর পূর্ব লক্ষণ বলেই ধারণা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ।
উল্লেখ্য, নির্বাচনকালীন সরকারে বিরোধী দল যোগ না দিলেও অনেক গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে ১৮ নভেম্বর শপথ নেন মহাজোট সরকারের অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, এরশাদপতœী রওশন এরশাদ ও ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মহাসচিব এবিএম রুহুল আমীন হাওলাদার, জি এম কাদের, মুজিবুল হক চুন্নু এবং এডভোকেট সালমা ইসলাম। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নিযুক্ত হন জিয়াউদ্দিন বাবলু। এরপর
২৫ নভেম্বর তফসিল ঘোষণার পর থেকেই তা পরিবর্তনের দাবি করে আসছেন এরশাদ। মনোনয়নপত্র দাখিলের সময়ও ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে আসছিলেন তিনি। কিন্তু তফসিল পরিবর্তন না হওয়ায় মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পরদিন মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বনানীতে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ‘পরিবেশ না থাকায়’ জাতীয় পার্টি দশম সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে না বলে ঘোষণা দেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ। ওইসময় তিনি পার্টির যেসব সদস্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, তাদের তা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন। সেইসাথে বুধবার নির্বাচনকালীন সরকারে শপথ নেয়া পার্টির মন্ত্রী-উপদেষ্টাদের পদত্যাগের নির্দেশ দেন। তার ওই নির্দেশের পর বৃহস্পতিবার দুপুরে রওশন এরশাদ, রুহুল আমীন হাওলাদার ও মুজিবুল হক চুন্নু প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। এরপর সন্ধ্যায় ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও জিয়াউদ্দিন বাবলু ব্যতীত জাপার ৫ মন্ত্রী পদত্যাগপত্র জমা দেন এরশাদের কাছে।




