ইমরান হোসাইন,তানোর প্রতিনিধি : রাজশাহীর তানোরে জেএসসি পরিক্ষায় দায়িত্বে অবহেলার কারণে কেন্দ্র সচিব ও পরিক্ষা পরিদর্শককে বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করে তাদেরকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবারের কৃষি শিক্ষা বিষয়ের পরিক্ষা গোপনে সেট পরিবর্তন করে পরিক্ষা গ্রহণের কারণে ঘটনার একদিন পর বুধবার জেলা প্রশাসকের নির্দেশে তাদের বিরুদ্ধে এধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। তবে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উদাসিনতা নিয়ে কোন কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে তানোরে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সারাদেশের ন্যায় রাজশাহীর তানোরে ১১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৭১১ জন শিক্ষার্থী তানোর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় পরিক্ষা কেন্দ্রে ৭ নভেম্বর হতে অনুষ্ঠিত জেএসসি পরিক্ষায় অংশ গ্রহণ করেন। রাজশাহী বোর্ডসহ সারাদেশে ১৯ নভেম্বর জেএসসি কৃষি/গার্হ্যস্থ শিক্ষা বিষয়ের (ক) সেটের প্রশ্নপত্র পরীক্ষা নেয়া হলেও তানোর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের সচিব ও পরিদর্শক মৎস কর্মকর্তা তানোর থানা হতে (খ) সেট প্রশ্নপত্র নিয়ে পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা গ্রহণ করেন। পরীক্ষার্থীরা কর্তৃপক্ষের দেয়া প্রশ্নপত্র হাতে পেয়ে পরীক্ষা দিয়ে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন। কিন্তু মুন্ডুমালা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র সোহরাব ও রবিউল ইসলাম তারা তানোর কেন্দ্র থেকে পরীক্ষা দিয়ে মুন্ডুমালা কেন্দ্রের ছাত্রদের সঙ্গে প্রশ্নপত্র মিল না পেয়ে বিষয়টি নিয়ে তাদের শিক্ষক ও অভিভাবকদের অবহিত করেন।
বিষয়টি তাদের শিক্ষক ও অভিভাবকেরা উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা ও বোর্ড কর্মকর্তাকে মোবাইল ফোনে জানান। কেন্দ্র সচিবের এমন অনিয়ম জেনেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উদাসিন হয়ে বিষয়টি নিয়ে কোন গুরুত্ব দেননি। ফলে পরেরদিন বুধবার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকসহ অভিভাবকরা জেলা প্রশাসককে (ডিসি) মোবাইল ফোনে অবহিত করেন। জেলা প্রশাসক এহেন ঘটনা জেনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ব্যবস্থা না নেয়ার কারণ জানতে চেয়ে তাকে মোবাইলে শোকজ করে উত্তর দিতে বলা হয়। জেলা প্রশাসকের ফোন পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বুধবার তানোর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় পরিক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে কেন্দ্র সচিব ও পরিক্ষা পরিদর্শককে কেন্দ্র হতে সাসপেন্ড করে কারণ দর্শানো নোটিশ জারি করে ওই প্রতিষ্ঠানে সহকারি প্রধান শিক্ষককে মৌখিক ভাবে কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।
এনিয়ে পরীক্ষার্থীর অভিভাবক সেলিম সুলতান বলেন, তানোর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রায় ৭১১ জন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকরা শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। তিনি আরো বলেন তার ছেলে সব পরীক্ষাগুলো ভালভাবেই দিয়েছে। মাত্র কৃষি শিক্ষা পরীক্ষায় কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে যদি তার ছেলে ফেল করে তাহলে তার জন্য কর্তৃপক্ষকে দায়ী থাকতে হবে।
এবিষয়ে কেন্দ্র সচিব আউয়ূব আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে জানান, সামান্য বিষয় নিয়ে পত্রিকায় লেখা খুবই কি বড় বিষয়? এঘটনার চেয়ে এখানে অনেক বড় বড় ঘটনা ঘটে তখন তো আর খবর আসে না। আপনার যা খুশি লেখেন আমার কাছে কোন কিছুর তথ্য জানার নেই বলে সাংবাদিকদের এড়িয়ে যান তিনি।
পরিক্ষা পরিদর্শক উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বায়েজিদ আলম জানান, বিষয়টি কেন্দ্র সচিবের ভুল ছিল। তিনি এবিষয়ে অবহিত ছিলেন না। কেন্দ্র সচিবের ভুলের কারণে তাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখিত ভাবে শোকজ করেছেন বলে জানান।
তবে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেএসসি পরিক্ষা কমিটির সভাপতি মাজেদা ইয়াসমীনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগযোগ করা হলেও তিনি মোবাইল ফোন রিসিভ করেননি।




