তাপস চন্দ্র সরকার,(চট্টগ্রাম) : বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টাণ ঐক্য পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি’র কর্মসূচীর অংশ হিসেবে গত শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ৫টা পর্যন্ত কুমিলা মহানগরীর কান্দিরপাড় পূবালী চত্ত¡রে অর্পিত (শত্র“) সম্পত্তির “খ” তফসিল সম্পূর্ণ বাতিলসহ প্রস্তাবিত দেবোত্তর সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা বিল-২০১৩ প্রত্যাহার করার দাবীতে গণ-অনশন পালিত হয়।

বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টাণ ঐক্য পরিষদ কুমিলা জেলা শাখার সভাপতি চন্দন কুমার রায়ের সভাপতিত্বে ওই গণ-অনশনে বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টাণ ঐক্য পরিষদ কুমিলা জেলা শাখার সভাপতি মন্ডলীর সদস্য অধ্যাপক দীলিপ পন্ডিত, নৃপেন কুমার চক্রবর্তী, জেলা ও ত্রাণ পুনর্বাসন কর্মকর্তা (অবঃ) হারাধন শীল, সচিব (অবঃ) মতিলাল ভদ্র, সাধারণ সম্পাদক তাপস কুমার বকসী, যুগ্ম সম্পাদক কমল চন্দ খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক অভিজিৎ চক্রবর্তী রাজু, কোষাধ্য অধ্য সুভাষ চন্দ্র সরকার, সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ও কুমিলা সিটি প্রেসকাবের সাধারণ সম্পাদক তাপস চন্দ্র সরকার, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. রতন দাস, নির্বাহী সদস্য মানিক ভট্টাচার্য্য, বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ কুমিলা মহানগর শাখার সভাপতি অ্যাড. প্রদীপ দত্ত, সহ-সভাপতি দীপ্তি রায় চন্দন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিমল দাশ, বাংলাদেশ ছাত্র-যুব-ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক উজ্জ্বল দে, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্ঠাণ ঐক্য পরিষদ কুমিলা সদর দণি উপজেলা শাখার আহবায়ক অ্যাড. মানিক ভৌমিক, বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ কুমিলা আদর্শ সদর উপজেলা শাখার সদস্য সচিব ডা: মধুসূদন রায়, জেলা ঐক্য পরিষদের প্রচার সম্পাদক ও বাংলাদেশ ছাত্র-যুব-ঐক্য পরিষদ কুমিলা জেলা শাখার সভাপতি মধুসূধন বিশ্বাস, সহ-সভাপতি উত্তম চক্রবর্ত্তী, সাধারণ সম্পাদক সুমন রায়, বাংলাদেশ ছাত্র-যুব-ঐক্য পরিষদ কুমিলা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক সুব্রত চক্রবর্তী বাবু। এতে একাত্মতা প্রকাশ করেন- কুমিলা নাগরিক ফোরামের সভাপতি কামরুল আহসান বাবুল, নির্বাহী সদস্য কামাল উদ্দিন, মনোহরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের নির্বাহী সদস্য এম.এ মালেক, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টাণ ঐক্য পরিষদ কুমিলা জেলা শাখার সদস্য হারাধন আচার্য্য, আড়াইওরা সার্বজনীন কালী বাড়ী ও শ্মশান পরিচালনা কমিটির সভাপতি রনজিৎ দেবনাথ, বাংলাদেশ পুজা উদ্যাপন পরিষদ ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ডা: প্রদীপ চক্রবর্ত্তী, কুমিলা ট্যুরিজমের সভাপতি অঞ্জন দে, মহেশাঙ্গণ লোকনাথ যুব সেবা সংঘের সাবেক সভাপতি দীলিপ কুমার নাগ (কানাই), প্রদীপ ভট্টাচার্য্য, পুলক চন্দ, কৃষ্ণ চন্দ্র দে, পার্থ সারথী আচার্য্য, মৃনাল শীল, রানা শর্ম্মা সহ শত শত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ।
ওই গণ-অনশনে বক্তারা বলেন, অর্পিত সম্পত্তি সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু জনগণের দুর্ভোগ দীর্ঘদিনের, নিদেনপে পাঁচ দশকের। এ বিষয়ে নিদারুণ উৎকন্ঠা ও উদ্বেগ বিভিন্ন সময়ে সুগভীর কৃতজ্ঞতার মাধ্যমে ভুক্তভোগী জনগণের প্রত্যাশা ছিল, বর্তমান সরকারের মেয়াদকালে এ দুর্ভোগের অবসান হবে। কিন্তু নিতান্ত-ই দুঃখ ও দুর্ভাগ্যের বিষয় এ সরকারের মেয়াদকালের শেষ পর্যায়ে এসে এ বিশাল জনগোষ্ঠী তাদের দখলে থাকা ভূ-সম্পত্তি ও সহায় সম্পদ নিয়ে শংকিত হয়ে পড়েছেন। অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণের নামে প্রহসন হচ্ছে। অপির্ত সম্পত্তি আইনে তিগ্রস্ত মানুষের ন্যায্য দাবী, বিশেষ স¤প্রদায়ের দাবী নয়। এ দাবী বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনসাধারনের জাতীয় দাবীতে পরিণত হয়েছে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, মুক্তিাযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হলেও আমাদের ললাট থেকে এখনও “শত্র“” শব্দটি বাদ যায়নি। আমাদের পিঠে দেয়াল ঠেকে গেছে। এবার দাবী আদায়ে কঠোর আন্দোলন হবে। বক্তারা আরো বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয়ের কুচক্রীদের চক্রান্তের ফলে প্রত্যর্পণ আইন আজ ভূমি গ্রাস আইনে পরিণত হয়েছে। প্রতারণা করা হচ্ছে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে। হিন্দু স¤প্রদায়ের সিংহভাগ স¤পত্তি আজ আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে গেছে। অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন “খ”-তফসিল সম্পূর্ণভাবে বাতিল করাসহ স¤প্রতি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত দেবোত্তর সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা ও সংরণ আইন-২০১৩ প্রত্যাহার করার জোর দাবী জানান। এ আইনটি সম্পূর্ণ বাতিল করে তাঁর মালিক ও উত্তরাধিকারী ওয়ারিশনাদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ারও আহবান জানান বক্তারা।

উলেখ্য যে, আগামী ৫ অক্টোবর শনিবার সকাল ১০টায় ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতা স্তম্ভে “বাংলাদেশ রুখে দাঁড়াও’র উদ্যোগে ১. জামাত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ কর। ২. যুদ্ধাপরাধের বিচার ত্বরান্নিত কর। ৩. সা¤প্রদায়িক সহিংসতা প্রতিহত, আক্রান্তদের পাশে দাঁড়াও। ৪. মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশকে এগিয়ে নাও, মুক্ত চিন্তার পথ খোলা রাখ। ও ৫. তালেবানী রাষ্ট্র বানানোর প্রক্রিয়া প্রতিহত কর, নারীর অধিকার সমুন্নত রাখ এই ৫দফা দাবীতে এক কনভেনশন অনুষ্ঠিত হবে।
ওই কনভেনশনে জাতি-বর্ণ-ধর্ম নির্বিশেষে সকলকে অংশ গ্রহণ করার জন্য আহবান জানিয়েছেন- বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্ঠাণ ঐক্য পরিষদ কুমিলা জেলা শাখার সভাপতি চন্দন কুমার রায় ও সাধারণ সম্পাদক তাপস কুমার বকসী।




