শ্যামলবাংলা ডেস্ক : দু’ দেশের সরকার, জনগণ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে কিশোরী ফেলানীর নির্মম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার প্রার্থনা করলেন তার বাবা। ১২ সেপ্টম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে কুড়িগ্রাম প্রেস কাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) দুই কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে ফেলানী হত্যার বিচারের জন্য আবেদনপত্র দেয়া হয়েছে এবং ভারতীয় হাইকমিশনার ও পশ্চিম বাংলার মানবাধিকার সুরা মঞ্চের পরিচালক কিরিটি রায়ের কাছে তিনি চিঠি দিয়েছেন।
ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছেও এ ব্যাপারে যথাযথ উদ্যোগ নেয়ার আহবান জানান। তিনি বলেন আমার মেয়ে আর পাব না তবে সুষ্ঠু বিচার যেন পাই ।
এদিকে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি বলেছেন, ফেলানীর হত্যাকাণ্ডে ন্যায় বিচার না পেলে অবশ্যই আপিল করা হবে। এজন্য বিচারের রায় পরবর্তী প্রক্রিয়া আমরা ভারতের কাছে জানতে চেয়েছি। সেটা জানার পরেই এ ব্যাপারে দ্রুত যথাযথ পদপে নেয়া হবে।
অপরদিকে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করে বৃহস্পতিবার দুপুরে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে এক বৈঠকে অংশ নেয়ার আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার পঙ্কজ শরণ বলেছেন, ফেলানী হত্যার ঘটনায় ভারতের আদালত যে রায় দিয়েছেন তা সবার মেনে নেওয়া উচিত।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ফেলানী বিএসএফের গুলিতে নিহত হয়। তার লাশ প্রায় পাঁচ ঘণ্টা কাঁটাতারের বেড়ার ওপরই ঝুলে ছিল। এ ঘটনার পর বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা থেকে কড়া প্রতিবাদ ওঠে । পরে ৭ আগস্ট ভারতীয় আদালতের রায়ে অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষকে নির্দোষ ঘোষণা করা হয়।




