স্টাফ রিপোর্টার : শেরপুরে লম্পট নরপশুর পাশবিক নির্যাতনের ক্ষত নিয়ে হাসপাতালের বেডে এখন যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে এক ৮ বছরের শিশু। শ্রীবরদী উপজেলার রূপারপাড়া গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান ও স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ওই শিশু দু’দিন যাবত জেলা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে। ধর্ষণের পর তার প্রচুর রক্তপাত হয়েছে এবং আঘাতজনিত স্থানে কয়েকটি সেলাই দিতে হয়েছে। এখন সে অপরিচিত কাউকে দেখলেই আঁতকে উঠছে। তার দু’চোখ বেয়ে মাঝে-মধ্যেই গড়িয়ে পড়ছে জল। অন্যদিকে ঘটনাটিকে ধামাচাপা দিতে আপোস-রফার নামে প্রথম থেকেই চলছে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের চালবাজি। যে কারণে হতদরিদ্র পরিবারের পক্ষে এখনও থানায় মামলা দেওয়া সম্ভব হয়নি।
জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে শ্রীবরদী উপজেলার রূপারপাড়া গ্রামের হামিদুর রহমানের লম্পট ছেলে শাকিল (১৭) আপন চাচাতো বোন ওই শিশুকে কৌশলে ডেকে নিয়ে পাশ্ববর্তী ধান ক্ষেতে ধর্ষণ করে। শিশুটির ডাক-চিৎকারে পরিবারের লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে। ঘটনা জানাজানি হয়ে পড়লে স্থানীয়ভাবে শুরু হয় আপোস-রফার নামে চালবাজি। ওই অবস্থায় ধর্ষিতা শিশুর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে মূল ঘটনা গোপন রেখে একই দিন রাত ৯ টার দিকে তাকে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। শনিবার বিকেলে হাসপাতালে ওই শিশুর পাশে থাকা তার মা অভিযোগ করে বলেন, ‘নিজেদের মধ্যে ঘটনা’ এ কথা বলে ধর্ষকের পরিবার ঘটনাটি আপোস-মীমাংসার নামে ধামাচাপার চেষ্টা করে। কিন্তু ওই ধর্ষিতার অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে রাতেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাঃ মোঃ মোবারক হোসেন জানান, ধর্ষণের কথা গোপন রেখে দুর্ঘটনাজণিত আঘাতের কথা বলে ওই শিশুকে ভর্তি করা হলেও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ধর্ষণজনিত আঘাত ধরা পড়ে। ধর্ষণের পর প্রচুর রক্তপাত হয়েছে এবং আঘাতজনিত স্থানে কয়েকটি সেলাই দিতে হয়েছে। যে কারণে শিশুটিকে সুস্থ্য হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। তিনি আরও জানান, বিষয়টি হাসপাতালের পক্ষ থেকেই পুলিশকে জানানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে শ্রীবরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস. আলম জানান, বিষয়টি শুনেছি। তবে এখনও কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




