শ্যামলবাংলা ডেস্ক : বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অংশীদার হতে বিশ্বের বড় বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, আজকের বাংলাদেশ সম্পূর্ণ পরিবর্তিত এক বাংলাদেশ। বাংলাদেশের মানুষ এখন আরো বেশি আত্মবিশ্বাসী। তারা যে কোনো অসম্ভব কাজ বাস্তবায়ন করতে আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী ও অঙ্গীকারাবদ্ধ।’
২৪ জানুয়ারি রবিবার সকালে ঢাকার হোটেল র্যাডিসনে দুদিন ব্যাপি ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড পলিসি সামিট-২০১৬’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। খবর- বাসসের
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, বিনিয়োগ বোর্ডে ভাইস চেয়ারম্যান শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্যসচিব আবুল কালাম আজাদ, ভারতের মেঘালয় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ড. মুকুল সাংমা এবং আদানি গ্রুপের চেয়ারমান গৌতম আদানী। এফবিসিসিআই প্রেসিডেন্ট আব্দুল মাতলুব আহমেদ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃব্য দেন; উদ্বেধনী অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বিনিয়োগ বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. এ সামাদ।
বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশকে আকষর্ণীয় স্থান হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বিদেশিদের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, অর্ধদশক আগের চেয়ে বাংলাদেশ এখন এক ভিন্নরকম দেশ। আমাদের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় আপনাদের সক্রিয় অংশীদার হওয়ার এখনই যথার্থ সময়। বিনিয়োগ বোর্ডের চেয়ারপার্সন হিসেবে আমি আপনাদের, বিশেষ করে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের, নিশ্চিত করতে চাই যে আমরা আপনাদের বাস্তবভিত্তিক বিনিয়োগ প্রস্তাবনা বাস্তবায়নে সব ধরণের সহায়তার দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। বাংলাদেশে আপনার বিনিয়োগের সুরক্ষা ও বৃদ্ধি সুনিশ্চিত।
বাংলাদেশের বিপুল যুব কর্মশক্তি, বিশাল বাজার, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, কার্যকর বাজার অর্থনীতির যথাযথ ব্যবহার করে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রসারে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ও পদ্ধতিগত সরলীকরণের কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ব্যক্তিখাতের নীতি নির্ধারণী বিষয়ক সমস্যাসমূহ তথ্যনিষ্ট ও গবেষণার মাধ্যমে চিহ্নিত করা ও তার সমাধানের জন্য আমার দপ্তর ‘প্রাইভেট সেক্টর ডেভলপমেন্ট পলিসি কো-অর্ডিনেশন কমিটি’ (পিএসডিপিসিসি) নামে একটি কমিটি গঠন করেছি। এতে সরকারি ও ব্যবসায়ী চেম্বার ও বাণিজ্য সংস্থাসমূহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
জিডিপির ভিত্তিতে বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন বিশ্বের ৪৫তম এবং ক্রয়ক্ষমতার ভিত্তিতে ৩৩তম স্থান অধিকার করেছে উল্লেখ করে তিনি আঞ্চলিক, উপ-আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য সরকারে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন।




