লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি : অব্যাহত পানি বৃদ্ধি ও প্রবল স্রোতের কারণে ফের ভাঙনের মুখে পড়েছে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজের কুমারভোগ কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডের পশ্চিম (ওয়ার্কশপ) এলাকা। রবিবার গভীর রাত পর্যন্ত কয়েক দফায় ভাঙনের মুখে পড়ে ওই এলাকা। পদ্মা সেতুর মূল নকশা থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে এই ওয়ার্কশপ অবস্থিত।
স্থানীয়রা জানায়, নতুন করে পদ্মার ভাঙনে কুমারভোগ কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডের পশ্চিমে (পাথর মিকচার মেশিন) প্রায় ৬০ মিটার এলাকা বিলীন হয়ে গেছে। একইসাথে কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে রাখা মিকশ্চার মেশিন ও ৭০/৮০টি লোহার ড্রেজিং পাইপ হুমকির মুখে পড়েছে। রাতে চায়না প্রজেক্টের প্লান সাইড-১ এর বেশ কিছু মালামাল পদ্মার ভাঙনে নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে।
পদ্মা সেতু বিভাগের প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম ভাঙন এলাকায় অবস্থানকালে ওই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, রাতে কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডের প্রকল্প এলাকার বেশ কিছু জায়গা ও কিছু মালামাল নদীতে বিলীন হয়ে যায়।
এদিকে সোমবার সকাল থেকে সেতু বিভাগ ও বিআইডব্লিউটিএর সমন্বিত একটি পর্যবেক্ষক টিমের সদস্যরা বিআইডব্লিউটিএর তিস্তা জাহাজ নিয়ে শিমুলিয়া নৌরুট ও পদ্মা সেতুর পাইলিংস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, পদ্মা সেতু বিভাগের প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম, বিআইডব্লিউটিএর প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল মতিন , তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ড্রেজিং) সাইদুর রহমান প্রমুখ ।
পদ্মা সেতুর সাথে সংশ্লিষ্টরা জানান, দ্বিতীয় দফায় পদ্মার ভাঙনে মূল ওয়ার্কশপের ক্ষতি না হলেও সেখানকার কাজের জন্য পাশের খোলা মাঠে মালপত্র রাখার জায়গায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। এর আগে ২৩ ও ২৪ জুন পদ্মার ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে পদ্মা সেতু কন্সন্ট্রাকশন ইয়ার্ড সংলগ্ন কুমারভোগ চায়না প্রজেক্টের ১৫০মিটার এলাকা। এদিকে পদ্মা সেতুর কন্সট্রাকশন এলাকায় পদ্মার এ ভাঙনের খবর পেয়ে তাক্ষণিকভাবে চায়না মেজর ব্রিজের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ভাঙন এলাকায় অবস্থান করছেন।
কুমারভোগ এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা মো. মান্নান জানান, রোববার সন্ধ্যা থেকে পশ্চিমে ভাঙন দেখা দেয়। এ সময় ৫০ মিটার ভাঙনের পর সোমবার সকাল পর্যন্ত আরো প্রায় ১০মিটার ভাঙন হয়েছে। রোববার ভাঙনের আগে পাথর মিকচার মেশিন এলাকার ১০ গজ সামনে পদ্মা অবস্থান করলেও সোমবার সকালে এসব জায়গা দেখিনি।
এ বিষয়ে পদ্মা সেতু প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী (মূল সেতু) দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের জানান, রাতেই আগের ভাঙন এলাকার কাছাকাছি জায়গায় ৫০ মিটার বিলীন হয়ে গেছে। তবে লোহার পাইপ বিলীন হয়নি। জিওব্যাগগুলোও কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।




