এবারের একুশে বইমেলায় প্রকাশিত ‘বিষাদের ঘোড়া’ নব্বই দশকের কবি রফিকুল ইসলাম আধার-এর চতুর্থ কাব্যগ্রন্থ। এটি প্রকাশ করেছে রাজধানী ঢাকার নব সাহিত্য প্রকাশনী। গ্রন্থটির নান্দনিক প্রচ্ছদ এঁকেছেন বিশিষ্ট আঁকিয়ে মোমিন উদ্দীন খালেদ। এতে স্থান পেয়েছে পয়ষট্টিটি জীবনদর্শনের কবিতা। কবি কাব্যগ্রন্থটি উৎসর্গ করেছেন তাঁর প্রয়াত পিতা আদর্শ শিক্ষক-সমাজসেবী মোহাম্মদ আলী মাস্টার (মধু স্যার) এর প্রতি। বইটির মূল্য : দুইশ বিশ টাকা। প্রাপ্তি স্থান : নব সাহিত্য প্রকাশনীর লাইব্রেরী ও বিক্রয়.কম এবং শেরপুরসহ বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের অভিজাত লাইব্রেরীগুলো।

‘বিষাদের ঘোড়া’ নামটির মধ্যেই একটি অস্থিরতা আর গতিময়তা লক্ষ্য করা যায়। সময় যখন আমাদের গায়ে ক্ষত তৈরি করে, সেই যন্ত্রণাকে শব্দে রূপ দেওয়া সাহসের কাজ। এটি কেবল ব্যক্তিগত বিষাদ নয়, বরং এটি সমাজ, সময় এবং অস্তিত্বের বিরুদ্ধে এক ধরণের প্রতিবাদ বা জাগরণ। যেখানে ‘নীলকণ্ঠ’ নিরবে সয়ে যায়, সেখানে ‘বিষাদের ঘোড়া’ সেই বিষাদকে পিঠে নিয়ে সময়ের বুক চিরে ছুটে চলে। এটি মূলত জীবনদর্শনের ছাপ।
কাব্যগ্রন্থের মুখবন্ধে কবি ও লোক গবেষক শিহাব শাহরিয়ার লিখেছেন, ‘রফিকুল ইসলাম আধার নব্বইয়ের দশকে লিখতে আসা একজন প্রতিভাবান ও শুদ্ধ কবি। তাঁর কবিতা আমাকে টানে, পড়তে আনন্দ পাই। তাঁর সমকালে তিনি নিজস্ব স্টাইলে লিখে যাচ্ছেন। তাঁর কবিতার আরেকটি দুর্দান্ত আকর্ষণ হলো তাঁর উপমা। আমি আগেও বলেছি, আমার কাছে মনে হয় কবিতার রূপ ও সৌন্দর্য এবং মূল শক্তি হলো উপমা। সুতরাং উপমা যখন তাঁর প্রত্যেকটি কবিতার পরতে পরতে লুকিয়ে থাকে বা উল্টোভাবে বললে ভেসে বেড়ায়,তখন আমি তাঁর কবিতা পাঠে আনন্দ পাই।

শুধু উপমা কেন, বিষয়বৈচিত্র, বিষয়কে ফুটিয়ে তোলার অনন্ত চেষ্টা এবং সর্বোপরি এই সময়ে আধুনিক কবিতা হয়ে উঠায়- একজন দক্ষ কারিগর তিনি। তিনি ‘বিষাদের ঘোড়া’ কাব্যগ্রন্থে প্রেম-প্রকৃতি, মাটি- মানুষ, সমাজের বাস্তব চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন তাঁর কবিতায়। বিশেষ করে জীবন ও চলমান সময়কে নিখুঁতভাবে তুলে ধরেছেন। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, পুরোনো ও নতুন এবং অঞ্চলের অনেক শব্দের মিশেলে রচিত এই নতুন কবিতাগ্রন্থ পাঠক মহলে সমাদৃত হবে।
লেখক : মোহাম্মদ জুবায়ের রহমান, নির্বাহী সম্পাদক, শ্যামলবাংলা২৪ডটকম।




