শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া (খুলনা) : ডুমুরিয়ায় পরিত্যক্ত ভবন ও অস্থায়ী চালা-ঘরে বসেই অত্যন্ত ঝুকিপূর্ণ পরিবেশে উনত্রিশ বিদ্যালয়ে চলছে শিশুদের পড়া-লেখার কাজ। পরিত্যক্ত ঘোষনার এক বছর পরে ৬ টি বিদ্যালয় আশার বানী শুনলেও বাকিগুলো রয়েছে হিমাগারে। ফলে সংশ্লিষ্ট স্কুলের শিক্ষার মান-উন্নয়ন ও অগ্রগতি ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে।
জানা গেছে, ডুমুরিয়া উপজেলার ১৪ ইউনিয়ন জুড়ে সকল শিশুদের জন্য ২১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় গড়ে ওঠে। কিন্তু প্রায় ৭/৮ বছর আগে থেকেই শতাধিক স্কুল ভবনের পলেস্তারা খসে ও পিলার-দেওয়াল ধসে পড়তে থাকে। ফলে ওইসব স্কুলে কোমলমতি শিশুদের নিয়ে পাঠদান করা দিনে দিনে ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে গত বছরের ১৩’অক্টোবর এক জরিপ শেষে বাদুরগাছা প্রাথঃ বিদ্যালয়, কুড়েঘাটা প্রাথঃ বিদ্যালয়, ঝরঝরিয়া বিনাপানি বিদ্যালয়, সিংগা প্রাথঃ বিদ্যালয়, শেখেরট্যাক প্রাথঃ বিদ্যালয়, লতাবুনিয়া বাঁশতলা বিদ্যালয়, কুলতলা শিতলাবাড়ি বিদ্যালয়, পি বি এস কদমতলা বিদ্যালয়, সুন্দরবন প্রাথঃ বিদ্যালয়, আরাজি ডুমুরিয়া প্রাথঃ বিদ্যালয়, সাহস মধ্যপাড়া প্রাথঃ বিদ্যালয়, ময়নাপুর প্রাথঃ বিদ্যালয়, উত্তর বিলপাবলা প্রাথঃ বিদ্যালয়, কাঁঠালতলা মঠ প্রাথঃ বিদ্যালয়, মাগুরখালী প্রাথঃ বিদ্যালয়, শোভনা তরুন সংঘ প্রাথঃ বিদ্যালয়, কাঞ্চনপুর প্রাথঃ বিদ্যালয়, পশ্চিম পাতিবুনিয়া প্রাথঃ বিদ্যালয়, তালতলা কুশারহুলা প্রাথঃ বিদ্যালয়, উত্তর চিংড়া প্রাথঃ বিদ্যালয়, খড়িয়া মির্জাপুর প্রাথঃ বিদ্যালয়, আমুড়বুনিয়া প্রাথঃ বিদ্যালয়, খোরেরাবাদ প্রাথঃ বিদ্যালয়, কোড়াকাটা শুকুরমারী প্রাথঃ বিদ্যালয়, আকড়া প্রাথঃ বিদ্যালয়, পশ্চিম বিলপাবলা প্রাথঃ বিদ্যালয়, শান্তিনগর গুচ্ছগ্রাম প্রাথঃ বিদ্যালয়, কৈপুকুরিয়া প্রাথঃ বিদ্যালয় ও চিংড়া গোলদারবাটি প্রাথঃ বিদ্যালয় গুলি অধিক ঝুকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয় এবং ভবন পরিত্যাগ করে অস্থায়ী ঘরে লেখাপড়া করার সিন্ধান্ত হয়। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, কোন কোন জায়গায় অস্থায়ী ঘরে ক্লাস চলছে আবার কোন কোন স্থানে অর্থ অভাবে ওই স্কুলেই ঝুকিপুর্ণ পরিবেশে লেখা পড়া চলছে। এ ব্যাপারে উত্তর চিংড়া স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী ফকির জানান, টাকা নেই, ঘরের চাল করেছি কিন্তু ছাইতে পারিনি। কি আর করবো দুধের বাচ্ছাদের নিয়ে এ ঘরেই ক্লাস নিচ্ছি। কদমতলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণপদ মন্ডল জানান, ভবন ত্যাগ করে পাশের মন্দিরে ক্লাস নিচ্ছি। এখানে প্রয়োজনের তুলনায় জায়গা অত্যন্ত কম। কিন্তু কিছুই করার নেই। ওইসব স্কুলের শিক্ষার্থী ইব্রাহিম, ইমরান, রোকাইয়া, ইমনসহ অন্যান্যরা জানায়, পাশের স্কুলগুলো কত ভাল। পাকা ঘরে বসে পড়ে ওরা। আর আমরা ঝড়, বর্ষাতে কষ্ট পাই আবার রোদেও কষ্ট পাই। বাড়ি থেকে স্কুলে আসতে ইচ্ছা হয় না। ওইসব স্কুলের অভিভাবক শেখ আঃ কাদের, জাকির শেখ, মফিজ মোড়ল, রেজাউল করিমসহ অনেকেই জানান, ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পাঠিয়ে খুব অশান্তিতে থাকি। প্রায় ছাদ খসে খোয়া ওদের গায়ে পড়ে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রেক্সোনা আক্তার জানান, স্কুলগুলো নিয়ে আমরাও উদ্বিগ্ন। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী তালিকা করে পাঠানো হয়েছে। এরমধ্যে ছয়টি বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণের অনুমোদন হয়েছে। তবে বাকিগুলি কখন হবে তা তিনি জানাতে পারেননি। উপজেলা প্রকৌশলী অফিসার আব্দুল খালেক জানান, ঝুকিপুর্ণ ভবনের মধ্যে ছয়টি বিদ্যালয় নির্মানের অনুমোদন হয়েছে। কাজ খুব শিঘ্রই শুরু হবে। এ ছাড়া বাকিগুলো প্রক্রিয়াধীন আছে। উপজেলা পরিষদ’র চেয়ারম্যান খান আলী মুনসুর জানান, আমি দায়িত্ব গ্রহনের পর স্কুলগুলো ঘুরে দেখেছি। সেখানে অত্যন্ত ঝুকির মধ্যে লেখাপড়া চলছে। তবে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




