আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি : নানা অনিয়ম ও দুর্ণীতির অভিযোগে প্রত্যাহারের পর মুন্সিগঞ্জের সেই এসপি হাবিবের বিরুদ্ধে এবার বরগুনার আদালতে যৌতুক মামলা দায়ের করেছেন তার স্ত্রী হালিমা আক্তার (৩০)। দীর্ঘদিন ধরে স্বামীর নির্মম নির্যাতন সইতে না পেরে গত মঙ্গলবার(২৩ সেপ্টেম্বর) বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে উপস্থিত হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এ মামলা দায়ের করেন (মামলা নং ৬৩৯/২০১৪) বলে জানা গেছে।মামলার বিবরণীতে এসপি হাবিবের স্ত্রী হালিমা আক্তার উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে এসপি হাবিব বিভিন্ন সময়ে যৌতুকের জন্য তাকে শারীরিক নির্যাতন করে আসছিলেন। তিরি আরও উল্লেখ করেন, মুন্সিগঞ্জ থেকে সাময়িক বরখাস্তের পর এসপি পদে পূণর্বহাল থাকতে উচ্চ মহলে তদবীরের জন্য ত্রিশ লাখ টাকা চেয়ে স্ত্রী হালিমা ও তার পিতা মোঃ শামসুল হককে চাপ দিতে থাকেন। যৌতুকের টাকা দিতে অসমর্থ হওয়ায় গত ১১ জুলাই এসপি হাবিবের পিতার বাড়িতে স্ত্রী হালিমাকে মারধর করেন এসপি হাবিব ও তার ভাই আবু হানিফসহ শশুরবাড়ির লোকজন। এসপি হাবিবের স্ত্রী হালিমা ও তার পরিবারের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বরগুনার তালতলী উপজেলার বর্তমান ছোট বগী (ইউনিয়নের সীমানা পরিবর্তন হওয়ার কারনে বর্তমান লেখা হয়েছে) ইউনিয়নের মৌপাড়া গ্রামের দরিদ্র ইব্রাহিম হাওলাদারের ছেলে হাবিবুর রহমান ১৯৯১ সালে বরগুনা সরকারী কলেজে উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি হন। দারিদ্রের কারনে তার পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হলে সেসময় স্ত্রী হালিমা আক্তারের পিতা আইনজীবী সহকারী মোঃ শামসুল হক মানবিক কারনে হাবিবুর রহমানকে তার বাসায় থাকতে দেন এবং তার পড়াশোনার খরচ বহনে সহযোগিতা করেন। বিনিময়ে এসপি হাবিব শামসুল হকের দুই মেয়েকে জায়গীর মাষ্টার হিসেবে পড়াশোনায় সহযোগিতা করতেন। ১৯৯৩ সালে বরগুনা সরকারী কলেজ থেকে এসপি হাবিব উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। এসময় হাবিবুর রহমান শামসুল হকের মেয়ে হালিমা আক্তারকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে পারবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশানার খরচ এমনকি চাকরি হওয়ার আগ পর্যন্ত মেয়ে ও মেয়ে জামাইর সুখের জন্যে সকল খরচ বহন করেন স্ত্রী হালিমা আক্তারের পিতা শামসুল হক। শুধু তাই নয় অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় চাকরি পেতে সেসময় শ্বশুর শামসুল হককে তিন লাখ টাকা যৌতুক দিতে চাপ দিতে থাকেন হাবিব। এক পর্যায়ে বাধ্য হয়ে মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে শ্বশুর শামসুল হক জমি বিক্রী করে সেসময় তিন লাখ টাকা যৌতুক দেন। ২০তম বিসিএসে সহকারী পুলিশ সুপার পদে এসপি হাবিবের চাকরি হয়। পরে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতার কারনে চাকরির প্রশিক্ষণ শেষ হতে না হতেই এসপি হাবিবসহ ২২জনের চাকরি বাতিল হয়ে যায়। দীর্ঘ ছয় বছর ধরে উচ্চাদলতে মামলা করে পূণরায় (২০০৭ সালের নভেম্বর মাসে) চাকরি ফিরে পান ্এসপি হাবিবসহ অন্যরা। চাকরি বাতিলের পর থেকে দীর্ঘ ছয় বছরে এসপি হাবিব বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন এনজিও এমনকি ঢাকা বরিশাল লঞ্চের সুপার ভাইজার হিসেবে চাকরি করেন। এসময়েও তার শ্বশুর শামসুল হক এসপি হাবিবের সংসারের খরচ যোগাতে সহযোগিতা দেন। চাকরি বাতিলের দীর্ঘ ছয় বছর পরে পূণরায় চাকরিতে বহালের পাঁচ বছর যেতে না যেতেই উচ্চ তদবীরের মাধ্যমে মুন্সী গঞ্জে এসপি হিসেবে যোগদান করেন হাবিবুর রহমান।মুন্সীগঞ্জে যোগদানের পরে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে অবহেলা, উৎকোচ গ্রহনসহ পেশাগত অসদাচারনের একাধিক অভিযোগে তাকে প্রত্যাহার করে সদর দপ্তরে ওএসডি করা হয়। এসপি হাবিবের বিরুদ্ধে মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্ণীতির বহু অভিযোগ এনে তা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করেন। এসময় বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় এসপি হাবিবের অনিয়ম ও দুর্ণীতির একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
এর আগে এসপি হাবিব ও তার ভাই হানিফের চ্রকান্তে বিভিন্ন সময়ে মিথ্যা মামলার শিকার হয়ে এসপি হাবিবের নিজ ইউনিয়নের একাধিক অধিবাসী বরগুনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে দুর্ণীতিবাজ এসপি হাবিব ও তার ভাইয়ের অত্যাচারের বিচার চেয়েছেন। তালতলী উপজেলার পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নের বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা নজির হোসেন কালু পাটোয়ারী (৬৫)জানান, ব্যক্তিগত আক্রোশের কারনে মুন্সিগঞ্জের একটি চারখুনের মামলায় এসপি হাবিবের কুচক্রান্তে তিনি ও তার নির্দোষ ছেলেমেয়েদের জড়িয়ে দেয়া হয়েছে। আর এ কারনে সুদুর বরগুনা থেকে এখন মুন্সিগঞ্জের আদালতে গিয়ে তাকে ও তার ছেলেমেয়েদের হাজিরা দিতে হচ্ছে।




