রামগঞ্জ(লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধিঃ সরকারী বিধি লঙ্গন করে ৩১ শয্যা বিশিষ্ট রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিকে প্রাইভেট ক্লিনিকের ন্যায় পরিচালনা করছেন হাসপাতালের প্রধান কর্মকর্তা ডাক্তার মোজাম্মেল হক ও মেডিকেল অফিসার ডাঃ নাজমুল হক ।

জানা গেছে, রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির প্রধান কর্মকর্তা ডাক্তার লোকমান উদ্দিন আজাদ ঢাকাস্থ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে সহকারী পরিচালক পদে ২০১২ সালের ২২ এপ্রিল বদলি হয়ে যান। ওই দিন অত্র হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার মোজাম্মেল হক হাসপাতালের প্রধান কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির নিজ চেম্বারের বসে স্থানীয় উপশম জেনারেল প্রাইভেট হাসপাতালের ও ডাঃ নাজমুল হক বায়োপ্যাথ প্রাইভেট হাসপাতালে প্যাডে আগত রোগীদেরকে ১শ/২শ টাকার বিনিময়ে রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা নিরীক্ষা ও ঔষধ পথ্যাধির ব্যবস্থা পত্র দিচ্ছেন। আর এ ছাড়াও এ হাসপাতালের ডাক্তারগন রামগঞ্জ শহরের বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতালে চুক্তিতে গর্ভবতী মায়েদের সিজার অপারেশন করে উপরি কামাইয়ের জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এতে করে জরুরী ও ভর্তিকৃত রোগীদের চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হচ্ছে। অফিস চলাকালীন সময়ে ডাক্তার মোজাম্মেল হক ও ডাঃ নাজমুল হক প্রায় সময় ফোন আসলে প্রাইভেট ক্লিনিকে ছুটে যান। তার দেখা দেখি হাসপাতালে কর্মরত অন্য ডাক্তাররাও অনুরোপ কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েছেন। এ যেন দেখার কেউ নেই।
রামগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ৪ লাখ লোকের চিকিত্সার একমাত্র ভরসা উপজেলার প্রধান এই সরকারী হাসপাতাল। হাসপাতালে ঔষধ, এম্বুলেন্স, এক্স-রে মেশিন ও আধুনিক চিকিত্সা সরঞ্জামের অভাবে হাসপাতালটি নিজেই এখন রোগী হয়ে পড়েছে। ফলে রামগঞ্জবাসী কাংক্ষিত চিকিত্সা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। প্রথম শ্রেনীর পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়ন থেকে প্রতিদিন শত শত রোগী চিকিত্সার জন্য আসেন এ হাসপাতালে। কিন্তু তাদের সে আশা নিস্ফল হচ্ছে।
প্রয়োজনীয় সময় কোন কোন ডাক্তারকে হাসপাতালে পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়াও রামগঞ্জ উপজেলা সরকারী হাসপাতালে বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানীর প্রতিনিধি আর বহিরাগত দালাল চক্রের কার্যকলাপে চিকিত্সা নিতে আসা রোগীদের ভোগান্তি চরমে উঠেছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে আসা রোগী এবং অভিভাবকগন প্রায় প্রতিনিয়ত ডাক্তার আর দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। হাসপাতালের জরুরী বিভাগ থেকে শুরু করে ডাক্তারদের চেম্বারে, এমন কি ওয়ার্ড গুলোতেও প্রতি মুহুর্তে দেখা যায় দালালদের আনাগোনা। ডাক্তারদের চেম্বার থেকে রোগীরা বের হতে না হতেই এক শ্রেনীর দালাল চক্রকে রোগীদের হাত থেকে প্রেসক্রিপশন নিয়ে টানাটানি শুরু করতে দেখা যায়।
এতে রোগী ও অভিভাবকগন হয়রানির শিকার হচ্ছেন অহরহ। সপ্তাহের ১ম দিন রবিবার ও বুধবার এ ২দিন দেখা যায় ডাক্তারদের রুমের ভিতরে রোগী থাকাকালীন সময়ে বাহিরের বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানীর প্রতিনিধিদের ভীড়। এ কারণে রোগীদের ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাড়িয়ে থাকতে হয়। অনেক সময় ডাক্তাররা দুঃস্থ রোগীদের না দেখে ঔষধ কোম্পানীর প্রতিনিধিদের সাথে আলাপ আলোচনা নিয়েই বেশী ব্যস্ত থাকেন। ফলে দূর দুরান্ত থেকে আসা রোগীদেরকে ডাক্তারদের অবহেলার কারণে চিকিত্সা ছাড়াই বাড়ি ফেরত যেতে হয়।
এ ব্যাপারে হাসপাতালে চিকিত্সা নিতে আসা নামপ্রকাশে অনিচ্ছক কয়েকজন রোগী আক্ষেপ করে বলেন, এ হাসপাতালের গদ বাঁধা সাধারণ ট্যাবলেট ছাড়া আমাদের ভাগ্যে আর কিছু জোটেনা। প্রায় ঔষধই বাহির থেকে কিনতে ও রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা নিরীক্ষা প্রাইভেট ক্লিনিক থেকে করে আনতে হয়।
হাসপাতালে কর্মরত ডাক্তারগন রোগী দেখার পর বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য এলাকার নিজ নিজ পচন্দনীয় প্রাইভেট ডায়াগনিষ্টিক সেন্টারে পাঠিয়ে দেন। এতে ডাক্তারদের জন্য রয়েছে ক্ষেত্র বিশেষ ৪০% থেকে ৬০% পযর্ন্ত কমিশন। ডাক্তারা হাজিরা খাতায় সহি করেই অপেক্ষা করতে থাকে কখন বাহির থেকে ডাক আসবে। প্রাইভেট ক্লিনিক কিংবা ডায়াগনিষ্টিক সেন্টার থেকে ডাক আসা মাত্রই ছুটে যান তারা। হাসপাতালে ডিউটি থাকা সত্ত্বেও বহিরাগত ডিউটির ওপরই তাদের যত আগ্রহ। এমন যদি হয় সরকারী হাসপাতালের হালচাল তাহলে নিরীহ রোগীরা সঠিক পরিপূর্ণ চিকিত্সা সেবা থেকে বঞ্চিত হবে বলে জানান হাসপাতালে চিকিত্সা নিতে আসা আগত রোগীরা জানান।
এ ছাড়াও হাসপাতালের এম্বুলেন্সটি দীঘর্দিন নষ্ট থাকায় মুমূর্ষ রোগীদেরকে জরুরী অবস্থায় ভাড়া করা গাড়ীতে রামগঞ্জ থেকে প্রায় ৩০/৪০ কিঃ মিঃ দুরত্বে লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী ও জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার সময় অনেক রোগী অকালে মারা যায়। চলবে…….




