
হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ)প্রতিনিধি ঃ কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে পৌর মেয়র ইট ভাটার নামে ভুয়া বিল ভাউচার দেখিয়ে দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদুকে মামলা হয়েছে। তাই কাউন্সিলরা অসাধু পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে অনাস্থা জানিয়ে সব কর্মসূচী বয়কট করে চলছেন। ফলে দৈনন্দিন কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দেওয়ায় পৌরবাসীর ভোগান্তি চরমে পৌচেছে। তাই ভোক্তভোগীসহ কাউন্সিলররা এ বিষয়ে এলজিআরডি মন্ত্রী ও সচিবসহ উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করে জরুরি প্রতিকার দাবি করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাযায়, হোসেনপুর পৌরসভার মেয়র মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বিভিন্ন ই্ট ভাটার নামে ভ’য়া বিল ভাউচার দেখিয়ে প্রায় দেড় কোটি টাকা আত্মসাত করেন। এরই ধারাবাহিকতায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মেয়রের নামে দুটি মামলা দায়ের করেন। এ সব দুর্নীতি ও অনিয়মের কারনে ১০ কাউন্সিলর গত ৮ মে মেয়রের বিরুদ্ধে অনাস্থা জানিয়ে গত ১৮ মে পৌর ভবনের বহুতল ভবন নির্মান কাজের উদ্বোধনসহ তার সব কর্মসুচী ভয়কট করে চলছেন। এতে পৌরবাসী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, মেয়র মাহবুব ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে এলজিআরডি মন্ত্রনালয়ের স্পেশাল বরাদ্ধের ৩ কোটি ৬ লাখ টাকা কাউন্সিলরদের না জানিয়ে বিভিন্ন প্রকল্প দেখিয়ে মোটা অংকের অর্থ আতœসাত করে,বিল্ডিং অনুমোদনের নামে ব্যাংক রশিদ বিহীন টাকা উত্তোলন করে সরকারী খাতে জমা না দিয়ে অর্থ আতœসাত করে,উন্মুক্ত বাজেট না করে গোপনে বাজেট তৈরি করে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়, নেপথ্যে থেকে তুলিফ এন্টার প্রাইজের নামে বিভিন্ন প্রকল্প অনুমোদন দিয়ে মোটা অংকের অর্থ আতœসাত করে,উন্নয়ন মুলক কাজে ঠিকাদাদের কাছ থেকে ৭ শতাংশ পিসি নিয়ে কয়েক লাখ টাকা আতœসাতসহ বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে পৌর কাউন্সিলরা প্রতিবাদ করে ও অনাস্থা জানিয়ে মেয়রের সব কর্মসুচী ভয়কট করছেন। ফলে পৌর মেয়র ও কাউন্সিলরদের মধ্যে দ্বন্ধ চরম আকার ধারন করায় দৈনন্দিন কাজকর্মে পৌরবাসীর ভোগান্তি বেড়েই চলছে।
সরেজমিন তথ্য সংগ্রহকালে অনাস্থাপত্রে স্বাক্ষরদাতা প্যানেল মেয়র মোঃ কাজল মিয়া,কাউন্সিলর মোঃ মাসুম বাবুল,ফজলুর রহমান বাদল,খায়রুল ইসলাম,ফরিদ মিয়া,খলিলুর রহমান মোল্লা,লুৎফুর রহমান লিটন,রবি হোসেন,সাজেদা খাতুন ও দিপালী রানীসহ অনেকেই জানান, পৌর মেয়রের দুর্নীতির বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা পৌরসভার সব কর্যক্রম ভয়কট করেছেন। তারা আরো জানান,বারংবার অনুরোধ সত্তেও মেয়র তিন বছরে মধ্যে মাসিক আয় ব্যায়ের হিসাব কোন সভায় উপস্থাপন করেননি।মাসিক সভার রেজুলেশনের কপি সকল কাউন্সিলরদের প্রদানের বিধান থাকলেও তিনি তা না করে স্বেচ্চাচারিতা,দুর্নীতি,স্বজনপ্রীতি ও একক ক্ষমতায় ইট ভাটার নামে ভুয়া ভাউচারে মাধ্যমে দেড় কোটি টাকাসহ মোটা অংকের অর্থ আতœসাত করেন। ইতঃপূর্বে এসব অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগে দূর্নীতি দমন কমিশনে মেয়রের বিরুদ্ধে দুটি মামলা (নং-৫২০ ও ১২১)দায়ের করেন যা বর্তমানে তদন্তনাধীন রয়েছে।
এ ব্যাপারে পৌর মেয়র মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, একটি কুচক্রি মহল তার সুনাম নষ্ট করতে পরিকল্পিতভাবে কাউন্সিলরদের ক্ষেপিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছেন।সকল ব্যায় ভাউচারের হিসাব তার কাছে রয়েছে দাবি করলেও দুদকের মামলার বিষয়ে কোন সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।




