শেরপুরে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে রেকর্ড ৪৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। জেলায় করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে গত সোয়া এক বছরে একদিনে এটিই সর্বোচ্চ শনাক্তের সংখ্যা। এদিকে ১৭ জুন বৃহস্পতিবার রাতে জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে। ওই নারী (৩১) শহরের কালিরবাজার এলাকার বাসিন্দা।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজের আরটিপিসিআর ল্যাব ও জেলা সদর হাসপাতালে র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টে ২১৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৪৯ জনের করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার ২২ দশমিক ৮৯ ভাগ। আক্রান্ত ৪৯ জনের মধ্যে শেরপুর পৌর এলাকারই ৪৭ জন রয়েছে। আর একজন পাকুড়িয়া ইউনিয়নের ও একজন নকলা উপজেলার বাসিন্দা। এ নিয়ে জেলায় করোনা শনাক্তের সংখ্যা ১ হাজার ২ জনে দাঁড়াল। এর আগে বুধবার এক দিনে সর্বোচ্চ ২৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল।
শনাক্ত ১ হাজার ২ জনের মধ্যে শেরপুর সদরে ৫৯৩ জন, নকলায় ১৫৩, নালিতাবাড়ীতে ১২২, ঝিনাইগাতীতে ৫৮ ও শ্রীবরদী উপজেলায় ৭৬ জন আছেন। এই সময়ে সুস্থ হয়েছেন ৭৫২ জন। মারা গেছেন ১৯ জন। বর্তমানে জেলায় করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১৮৯ জন।
এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে জেলা সদর হাসপাতালে মারা যাওয়া নারী করোনা রোগী গত ১৫ জুন করোনা পজেটিভ শনাক্ত হন। এরপর থেকে তিনি বাড়িতেই ছিলেন। তবে বৃহস্পতিবার সকালে তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন এবং রাতে মারা যান।
শেরপুরের সিভিল সার্জন ডা. একেএম আনওয়ারুর রউফ বলেন, ১ থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত জেলায় ২৪১ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের অধিকাংশই শেরপুর পৌর এলাকার বাসিন্দা। এই সময়ে মারা গেছেন চারজন। জনগণ যদি সচেতন না হন, মাস্ক ব্যবহার না করেন, তবে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হবে না। করোনা রোগী বৃদ্ধি পাওয়ায় হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবা দেয়াও কঠিন হয়ে যাচ্ছে।




