রাজশাহী প্রতিনিধিঃ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের সাংবাদিকদের উপর ইন্টার্নি চিকিৎসকদের হামলার প্রতিবাদে তৃতীয় দিনের মত বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান করেছেন রাজশাহীর সাংবাদিকরা। বুধবার সকালে মহানগরীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে ওই কর্মসূচি পালন করে সংবাদিকরা। পরে রাজশাহী পুলিশ কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টা দিকে মহানগরীরর জিরো পয়েন্ট থেকে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির আহবায়ক স ম সাজু, নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। বিক্ষোভ মিছিলটি নগরীর গুরুত্ব পূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে মনিচত্তরে এসে শেষ হয়। পরে সেখান থেকে সংবাদিক নেতারা রাজশাহী পুলিশ কমিশনার ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমানের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপি প্রদান শেষে মহানগর পুলিশ কমিশনারের আয়োজনে কনফারেন্স কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। মতবিনিময় সভায় উপস্থিত বক্তব্য রাখেন রাজশাহী পুলিশ কমিশনার ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান, বিএফইউজের একাংশের সহ-সভাপতি রেজাউল করিম রাজু, রাজশাহী সংবাদকি ইউনিয়নের সভাপতি হাসান মিল্লাত, রাজশাহী সংবাদিক কল্যাণ তহবিলের সাবেক চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির আহবায়ক স ম সাজু, রাজশাহী ফোটো জার্নলিষ্ট এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদ । এসময় আরএপি সকল কর্মকর্তা ও সকল সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বক্তরা বলেন , সাংবাদিকদের উপর হামলাকারি ইন্টার্নি চিকিৎসকদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব অবহেলাকারি কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার করতে হবে। পরে রাজশাহী পুলিশ কমিশনার ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান সাংবাদিকদের উপর হামলাকারিদের গ্রেফাতার করে বিচারের আওতায় আনবেন বলে আশ্বাস দেন।
উল্লেখ্য, গত রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতালের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসকদের অবহেলার অভিযোগে বাকবিতন্ডায় জড়ালে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা রোগীর স্বজনদের বেধড়ক পেটায়। খবর পেয়ে সংবাদ সংগ্রহে গেলে দফায় দফায় সাংবাদিকের উপর হামলা ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে ভাঙচুর করেন চিকিৎসকরা। ইন্টার্নি চিকিৎসকদের হামলায় যমুনা টেলিভিশনের ক্যামেরাপারসন তারেক মাহমুদ রাসেল, চ্যানেল ২৪ এর ক্যামেরাপারসন রায়হান, রিপোর্টার আবরার শাইর, দৈনিক সোনার দেশের ফটো সাংবাদিক সালাউদ্দিন, মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের ক্যামেরাপারসন মাসুদ, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের ক্যামেরাপারসন জাফর ইকবাল লিটন, এটিএন নিউজের ক্যামেরাপারসন রুবেলসহ ১০ সাংবাদিক আহত হন। এদের মধ্যে যমুনা টেলিভিশনের ক্যামেরাপারসন তারেক মাহমুদ রাসেল এ্যাপোলো হাসপাতালের আসিইউতে ভর্তি রয়েছেন। ওই সময় ভাংচুর করা হয় বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন রাজশাহী শাখার সভাপতি ও রাজশাহী থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘নিউজ দর্পণ টোয়েন্টিফোর ডটকম’ এর চীফ ফটো সাংবাদিক আসাদুজ্জামান আসাদসহ অন্যান্য সাংবাদিকদের ক্যামেরা। এ ঘটনায় সাত ইন্টার্ন চিকিৎসকের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১৫০ জনকে আসামী করে আলাদা দুটি মামলা দায়ের করা হয়। সংবাদিকদের পক্ষ থেকে সোমবার রাত ১২টার দিকে নগরীর রাজপাড়া থানায় মামলা দুইটি দায়ের করা হয়। এরমধ্যে বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন রাজশাহী শাখার সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদ বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা, ভাঙচুর ও ছিনতাইয়ের চেষ্টার অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। অন্য মামলাটি দায়ের করেছেন এটিএন নিউজের ক্যামেরাপারসন মাহফুজুর রহমান রুবেল।




