তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি : সাতক্ষীরায় পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে রুবেল (৩৫) ও রুবেল (২৫) নামে দুই ছিনতাইকারী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এসময় আহত হয়েছেন পুলিশের দুই কনস্টেবল। বুধবার ভোরে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার দত্তডাঙ্গা চৌরাস্তা মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধ ছিনতাইকারী রুবেল (৩৫) সাতক্ষীরা সদর উপজেলার লাবসা ইউনিয়নের দরগাপাড়া গ্রামের ডা. গিয়াস উদ্দিনের ছেলে ও রুবেল (২৫) সাতক্ষীরা শহরের রসুলপুর এলাকার জগর আলী শেখের ছেলে। আহত কনস্টেবলরা হলেন, আলীম ও এমদাদ। তারা সাতক্ষীরা সদর থানায় কর্মরত।
সাতক্ষীরা সদর থানার ডিউটি অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) লিটন জানান, ভোরের দিকে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলাকালে পুলিশকে লক্ষ্য করে তারা অতর্কিত গুলি চালায়। এ সময় পুলিশও আত্মরক্ষার্থে ১০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। এতে তারা পিছু হটে। পরে ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। আহতদের পায়ে গুলি লেগেছে বলে জানান তিনি। তাদেরকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সাতক্ষীরার তালায় কপোতাক্ষ নদ প্রকল্প নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন

তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি : তালার উত্তরণ আইডিআরটিতে বুধবার বিকালে “কপোতাক্ষ নদের জলাবদ্ধতা দূরীকরণ” প্রকল্প বাস্তবায়নের বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করে এক সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উত্তরণ ও পানি কমিটি আয়োজিত উক্ত সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কেন্দ্রীয় পানি কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ এবিএম শফিকুল ইসলাম।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাণের দাবীর পরিপ্রেক্ষিে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার উদ্যোগে গৃহীত ‘কপোতাক্ষ নদের জলাবদ্ধতা দূরীকরণ’ প্রকল্পটি এখন সংকটের মুখে পতিত হয়েছে। জনমত উপেক্ষা এবং প্রকল্পের ডিজাইন অনুযায়ী কর্মকান্ড বাস্তবায়িত না হওয়ার দরুণ প্রকল্প থেকে প্রত্যাশিত উপকার পাওয়া যাবে কি না সে বিষয়ে জনমনে সংশয় দেখা দিয়েছে। যে ভাবে প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে তাতে ফলাফল হিতে বিপরীতও হতে পারে এবং অচিরেই কপোতাক্ষ নদ সম্পূর্ণভাবে মৃত্যুমুখে পতিত হওয়ার আশংকা রয়েছে। সার্বিকভাবে এর দরুণ এলাকার পরিবেশ প্রতিবেশের যে বিপর্যয় ঘটবে তা পুনরুদ্ধার করাও কঠিন হয়ে পড়বে। এলাকার জনমত উপেক্ষা করে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড সম্প্রতি বালিয়া স্লুইস গেটের ৫০০ মিটার উপরে নদীর বুকে ক্রসড্যাম নির্মাণ করে উজানে নদী খনন কাজ শুরু করেছে। বিগত ২৬ মার্চ, ২০১৪ নদীর বুকে উক্ত ক্রসড্যাম নির্মাণ করা হয়। এর ফলে বিগত ২০দিন যাবৎ ভাটিতে নদীর বুকে ৫/৬ ফুট পলি জমেছে। শেষ ভাটির সময় নদীর বুক এখন সম্পূর্ণ জেগে উঠে যার দরুণ বালিয়ার খেয়াঘাট এখন অচল হয়ে পড়েছে। খেয়াঘাটের পারাপারের জন্য এখন বাঁশের সাঁকো দেওয়া হয়েছে। এলাকাবাসীর বক্তব্য বালিয়ার ভাটি থেকে কপোতাক্ষ নদ অতিদ্রুত ভরাট হয়ে যাবে। ফলে প্রস্তাবিত বালিয়া সংযোগ খাল দিয়ে পাখিমারা বিলে টিআরএম বাস্তবায়ন আর সম্ভব হবে না। শুধু তাই নয় নদীতে সকল নৌ চলাচলও বন্ধ হয়ে যাবে।
এসময় তিন আরও বলেন, কপোতাক্ষ প্রকল্পের আওতায় ৯০ কি.মি. নদী খননের ব্যবস্থা আছে। ডিজাইন অনুযায়ী নদী খনন হবে ঃ টপ ১৭০ ফুট,তলা ১১০ ফুট এবং গভীরতা হবে ৩০ ফুট। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের বক্তব্য অনুযায়ী বর্তমান খনন কাজ হচ্ছে টপ ৫০ ফুট, তলা ৩০ ফুট এবং গভীরতা ১০ ফুট। এভাবে খনন করা হলে ডিজাইনের মাত্র ৩০ ভাগ খনন করা হবে। বাকী ৭০ ভাগ আগামী বৎসর খনন করা হবে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ । বর্তমান মৌসুমে বালিয়া ক্রসড্যাম থেকে উজানে পাটকেলঘাটার ৩/৪ কি.মি. ভাটি পর্যন্ত ৪৭-৫০ কি.মি. নদী খনন কাজ এস্কেভেটর মেশিন দ্বারা শুরু করা হয়েছে। তবে যেনতেন ভাবে এবং দায়সারা ভাবে নদী খনন করা হচ্ছে এবং খননকৃত মাটি নিকটবর্তী এলাকায় স্তুপ করা হচ্ছে। প্রকল্পের ডিজাইন অনুযায়ী এ মাটি ২০০ ফুট দূরে সুব্যবস্থাপনায় স্তুপ করার কথা। নদী খননের যে দৃশ্য এবং কাজের যে অগ্রগতি তাতে সাধারণ মানুষের মনে এই ধারণা বদ্ধমূল হয়েছে যে খনন কাজে ব্যাপকভাবে দুর্নীতি ও অনিয়ম হবে। তাতে কর্তৃপক্ষ,ঠিকাদার এবং কায়েমী স্বার্থবাদী গোষ্ঠীর পকেটস্থ হবে কোটি কোটি টাকা। এতে এলাকার বিশেষ কোন উপকার হবে কি না সন্দেহ বরং পরিস্থিতি আরো অবনতির দিকে ধাবিত হতে পারে। খননকৃত মাটি বর্ষা মৌসুমে বা জোয়ারের জলে ধুয়ে আবারও নদীবক্ষে পতিত হবে। এখনও পর্যন্ত প্রকল্প কাজের কোন সাইনবোর্ড দেওয়া হয়নি এলাকায়। তৈরি করা হয়নি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কোন মনিটরিং কমিটি। অন্যদিকে কে বা কারা এক সপ্তাহ পূর্বে নদীর উপর নির্মিত ক্রসড্যাম কেটে দিয়েছে। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ তালা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। সব মিলিয়ে সার্বিক পরিস্থিতি এখন অচলাবস্থার সৃষ্টি করেছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে বর্তমান পরিস্থিতি পরিস্থিতি মোকাবেলায় অতিদ্রুত নদীর বুকে নির্মিত ক্রসড্যাম সম্পূর্ণ অপসারণ করা, বালিয়া সংযোগ খালের মাধ্যমে পাখিমারা বিলে এখনই টিআরএম চালু করা।,পাখিমারা বিলে টিআরএম চালু করার সাথে সাথে ক্রসড্যাম দিয়ে নদী খনন কাজ ডিজাইন অনুযায়ী খনন এবং জনপ্রতিনিধি, নাগরিক কমিটি ও জনসাধারণের প্রতিনিধিকে অর্ন্তভূক্ত করে প্রকল্প বাস্তবায়নের একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করার দাবী জানানো হয়। এসময় সাতক্ষীরা,তালা,পাটকেলঘাটার কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ ছাড়াও উত্তরণ এবং পানি কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সাতক্ষীরার তালায় ব্র্যাকের প্রযুক্তিতে শক্তি-২ জাতের ধানের বাম্পার ফলন
তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি : তালা উপজেলার খলিশখালী ইউনিয়নের বিশেষকাটি ব্লকের বোরো মৌসুমের শস্য কর্তনের উপর অনুষ্ঠান মঙ্গলবার সম্পন্ন হয়েছে। কৃষকরা উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে একর প্রতি প্রায় ১০১ মন ধান উৎপাদনে সক্ষম হয়েছে। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শামসুল আলম। এসময় কৃষকরা জানান,আগে আমরা জমিতে লাইন করে চারা রোপন করতাম। ব্র্যাকের আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ পেয়ে আমরা লাইন করে চারা রোপন,পার্সিং ও লোগো করেছি। জমিতে অল্প বয়সের চারা (২০-২৫ দিনের) রোপন করেছি। কোন কীটনাশক জমিতে ব্যবহার করিনি। এরফলে গাছে কুশির সংখ্যা আগের তুলনায় অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। চাষীদের এসব সফলতা ও মন্তব্যের খুশী হয়ে ভূয়সী প্রশংসা করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা। ব্লকের চাষীদের প্রযুক্তির সফলতা দেখে আশপাশের অনেকেই ব্র্যাকের আধুনিক প্রযুক্তিতে চাষাবাদে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। অনুষ্ঠানে ব্র্যাকের উপজেলা ম্যানেজার সুজয় কুমার সাহা, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস সালাম,ব্র্যাকের মোঃ গোলাম মোস্তফা,প্রদ্যুৎ কুমার ঢালী,তাপস কুমার ঢালী,আব্দুল মোত্তালিব এবং মোঃ সাহাবুদ্দীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সাতক্ষরিায় দেবহাটায় ব্র্যাকের ফসল কর্তন ও মাঠ দিবস

তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি : দেবহাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের সুশীলগাতী ব্লকে ব্র্যাকের ফসল কর্তন ও মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়। রবিবার ব্র্যাকের প্রযুক্তিগত সহায়তায় পরিচালিত এই ব্লকে বোরো ধানে বাম্পার ফলন হয়েছে। এ উপলক্ষে ব্র্যাকের কৃষি ও খাদ্র নিরাপত্তার কর্মসূচীর সিনিয়র উপজেলা ব্যবস্থাপক মোঃ মাকসুদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেবহাটা উপজেলার কৃষি অফিসার কৃষিবীদ সুজন মজুমদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপসহকারী কৃষি অফিসার মোঃ রেজাউল করিম। অনুষ্ঠানে ১২০ জন কৃষক-কৃষাণী উপস্থিত ছিলেন। উক্ত ব্লকে একর প্রতি ৭৭ মন ধান উৎপাদন হয়েছে।প্রধান অতিথি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি প্রতি ইঞ্চি জমি সফলভাবে কাজে লাগানোর পরামর্শ প্রদান করেন। এসময় চলতি বোরো আবাদের বাম্পার ফলনে তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য ব্র্যাকের কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচী ৮টি ব্লকের মাধ্যমে ২১০ একর জমিতে বোরো ধান আবাদের জন্য ৪৯৬ জন কৃষককে আধুনিক প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করেছে।




