এম, এ করিম মিষ্টার, নীলফামারী : নীলফামারীর রেলওয়ে শহর সৈয়দপুরে রেলওয়ে কোয়ার্টার ও ফাঁকা জায়গা দখলের প্রতিযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। সংশি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতা ও উদাসীনতার কারণে হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি এখন প্রভাবশালীদের দখলে। ফলে সরকার প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। জানা গেছে, সৈয়দপুরে এক শ্রেণির ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা- কর্মচারির যোগসাজশে রেলওয়ের বাণিজ্যিক ভূমিগুলো চলে গেছে অবৈধ দখলে। এসব জমিতে গড়ে উঠেছে হাজার হাজার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক ভবন। এভাবে রেলওয়ে কর্মকর্তা- কর্মচারিরা অবৈধ উপায়ে আয় করছেন লাখ লাখ টাকা।

সংশি¬ষ্ট সূত্র মতে, সৈয়দপুরে রেলওয়ের প্রায় সাড়ে ৮শ’ একর ফাঁকা ভূ-সম্পত্তি এবং রেলওয়ে কর্মচারিদের বসবাসের জন্য মোট ২ হাজার ৪৫০টি কোয়ার্টারের মধ্যে ১ হাজার ৪শ’ কোয়ার্টার বেদখল হয়ে গেছে। শহরের সাহেবপাড়া, মিস্ত্রিপাড়া, মুন্সিপাড়া, গোলাহাট, আতিয়ার কলোনী, গার্ডপাড়া, হাতিখানা, পুরাতন বাবুপাড়া, নুতন বাবুপাড়া ও বার্মাসেল এলাকার বেশির ভাগ কোয়ার্টার ভূমিদস্যুদের দখলে চলে গেছে। এসব কোয়ার্টার বর্তমানে বেচাকেনাও হচ্ছে। সংশি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষ কোয়ার্টার ভেদে ৫০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ করে হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া কোয়ার্টারের সামনে- পিছনে ও বিভিন্ন স্থানে ফাঁকা জায়গাগুলো মোটা অংকের বিনিময়ে ভ’মিদস্যুদের হাতে তুলে দেয় এক শ্রেণির ভূ-সম্পত্তি ও কতিপয় শ্রমিক নেতা। ফলে এসব সম্পত্তি থেকে সরকার প্রতিবছর রাজস্ব হারাচ্ছে কয়েক কোটি টাকা। তবে সংশি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, আইনি জটিলতার কারণে ওইসব সম্পত্তি ও কোয়ার্টার উদ্ধার করা যাচ্ছে না। এদিকে রেলের কতিপয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা- কর্মচারি ও শ্রমিক নেতাদের যোগসাজশে দখল প্রক্রিয়া এখনও অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গভীর রাতে জেলা সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের সামনে এল-২৯ নম্বর বাংলোর পাশে বিশাল একটি ফাঁকা জায়গা দখলে নিয়েছে জনৈক শ্রমিক নেতা। এ ব্যাপারে ডিভিশনাল এষ্টেট অফিসার (ডিইও) মোস্তাক আহমেদ বলেন, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এবং বাজেট পেলেই অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে।




