এসএম আলাউদ্দিন সোহাগ, পাইকগাছা (খুলনা) : খুলনার পাইকগাছায় বন্য পাখি সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে পাখি প্রেমিক গোলাম কিবরিয়া রিপন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজ বসতবাড়ী ও বসতবাড়ীর গাছে বন্য পাখি হাজার হাজার বকের নিরাপদ আশ্রয়সহ সেবা যতœ করার মাধ্যমে ঝড়ের কবলে পড়া বকের ছোট ছোট বাচ্চাগুলোকে নিজের সন্তানের মত আগলিয়ে রেখেছেন। এভাবেই তিনি বন্য পাখিদের সেবা যতœ করার মাধ্যমে একজন সফল ব্যবসায়ীর পাশাপাশি হয়ে উঠেছেন পাখি প্রেমিক। রিপনের এ উদ্যোগ বন্য পাখি সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন পরিবেশ বিজ্ঞানীরা। উলেখ্য, বৈবাহিক ও ব্যবসায়িক সূত্রে খুলনা রায়ের মহল এলাকার নজির উদ্দীন আহম্মেদের পুত্র গোলাম কিবরিয়া রিপন ২০০০ সালে পাইকগাছায় বসবাস শুরু করেন। উপজেলা সদরের পূর্ব ওয়াপদা রোডে শুরু করেন পোনা ব্যবসা। ইতোমধ্যে তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে সমমনা পেয়েছেন। তার ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের সাথেই রয়েছে ৫ বিঘা জমির উপর বসতবাড়ী ও বাগান। পরিবেশগত বিপর্যয়ের কারণে এলাকায় তেমন কোন নিরাপদ আশ্রয় না থাকায় বিগত ৬ বছর ধরে রিপনের বসতবাড়ীর গাছপালা নিরাপদ মনে করে আশ্রয় নিয়েছে হাজার হাজার বণ্যপ্রাণী বক। বছরে প্রায় ১০ মাস বকগুলো অবস্থান নেয়। খাদ্য সংকটের কারণে ২ মাস অন্যত্রে চলে যায়। বছরের এ অধিকাংশ সময় অবস্থান করার ফলে বিশেষ করে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ঝড়ের কবলে পড়া ছোট ছোট বাচ্চাগুলোকে সেবা সুস্থ করার মাধ্যমে বণ্য পাখি সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে রিপন ও তার পরিবার। এ ব্যাপারে রিপনের স্ত্রী আফরোজা পারভীন শিল্পী জানান, হাজার হাজার বকের মল-মুত্র বাড়ির পরিবেশ মারাত্মকভাবে নোংরা করলেও স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেয়া হয়। পাখি প্রেমিক রিপন জানান, প্রতিদিন ৩-৪ হাজার বক বসতবাড়ী ঘিরে অবস্থান করে। দিনের বেলায় অধিকাংশ বক খাদ্যের সন্ধানে বেরিয়ে যাই এবং সন্ধ্যায় ফিরে আসে। আর কিছু কিছু বক ছোট ছোট বাচ্চাদের পাহারা দেয়ার জন্য অবস্থান করে। এ ক্ষেত্রে প্রতিদিন অসংখ্য বাচ্চা গাছ থেকে পড়ে যায়। পড়ে যাওয়া এসব বাচ্চাগুলো যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এ জন্য প্রতিদিন বাজার থেকে ছোট ছোট মাছ ক্রয় করে তাদের সরবরাহ করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে পশু চিকিৎসকদের স্মরণাপন্ন হতে হয় বলে তিনি জানান। বকের বাচ্চাগুলোকে নিজের সন্তানের মত সেবা যতœ করা হয় বলে তিনি জানান। এ ব্যাপারে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান অনুষদ বিভাগের প্রধান ড. দিলিপ দত্ত জানান, বন্য পাখি সংরক্ষণে রিপনের এ ধরণের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। বণ্য পাখি সংরক্ষণে এ ধরণের উদ্যোগ ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিজ্ঞানী দত্ত জানান। এ ধরণের উদ্যোগ বেশি বেশি প্রচার-প্রচারণা করা হলে বন্য পাখি সংরক্ষণে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের মধ্যে ব্যাপক সচেতনা বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।




