মো. মিরাজুল ইসলাম, চিতলমারী (বাগেরহাট) : বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা জুড়ে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। যার ফলে তীব্র গরমে জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে। এখানে শুধু খাবার পানি নয়, বিশুদ্ধ পানির অভাবে রান্না সহ গৃহের সকল কাজকর্মে ব্যঘাত ঘটছে। চিতলমারী বাজারে রয়েছে প্রায় ৩০-৩৫টি রেষ্টুরেন্ট ও খাবার হোটেল, ৫০-৬০টি ছোট বড় চায়ের দোকান। বেশিরভাগ হোটেল-রেষ্টুরেন্ট-টি ষ্টলে খাবার ও বিভিন্ন কাজে পুকুর বা টিউবওয়েলের পানি ব্যবহার করে থাকে। আর এই পানি সরবরাহ করে থাকে কয়েকজন ভ্যানওয়ালা। তারা প্রতি ড্রাম পানির জন্য ৩০-৪০ টাকা নিয়ে থাকে। বর্তমানে বিশুদ্ধ পানির অভাব থাকায় অনেক দুর থেকে তা সংগ্রহ করার জন্য ১০০-১২০ টাকা নিচ্ছেন। অত্র উপজেলার অধিকাংশ মানুষ চিত্রা ও মধুমতি নদীর উপর নির্ভরশীল। কিন্তু বর্তমানে চিত্রার পানি পঁচে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সুপেয় পানির অভাব আর প্রচন্ড দাবদাহে সকলের মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে।

এলাকায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য চরবানিয়ারী ও চিতলমারী ইউনিয়নে হাই-সাওয়া নামে দুটি পাম্প রয়েছে। তবে চিতলমারীর পাম্পটি জোড়াতালি দিয়ে চলছে। অপরদিকে চরবানিয়ারীর ইউনিয়নের পাম্পটি অতিরিক্ত আয়রন থাকায় তা আলোর মুখ দেখেনি। ব্র্যাক কর্তৃক প্রদত্ত ওয়াটার টিটমেন্ট প্লান্ট এর ১০টি ট্যাপ রয়েছে। এ ট্যাপ থেকে ৬০ জন উপকৃত হয়। স্থানীয় জনসাধারন ও বিভিন্ন এনজিওর উদ্যোগে পন্ডস স্যান্ড ফিল্টার (পিএসএফ), রেইন ওয়াটার হার্বেষ্টিং (আরডব্লিউএইচ) বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য সহায়তা করলেও তার পরিমান সীমিত। যে সব পুকুরে পিএসএফ স্থাপন করা হয়েছে, তার অধিকাংশ পুকুরে বর্তমানে পানি কম থাকায় এর সুফল পাচ্ছে না সাধারন জনগন। এদিকে চিতলমারী সদর বাজারের এলাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানির পাশাপাশি স্বাদু পানির অভাবে হাহাকার শুরু হয়েছে। বাণিজ্যিকভাবে ৪/৫টি সাপ্লাই পানি সরবরাহের উৎস থাকলেও তা’ প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। চিতলমারী বাজারে ২টি পুকুর রয়েছে। একটি পুকুর সিড়ি নির্মাণের জন্য শুকিয়ে ফেলায় এলাকাবাসীর গোসল ও বাসাবাড়ির গৃহকর্মের জন্যও সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আবুল কালাম আসাদ জানান, আর্সেনিক পরীক্ষা-নীরিক্ষার কার্যক্রম চলে ধীর গতিতে। সেই সময়ের হিসেব মতে এখানকার ৭০ শতাংশ নলকূপে আর্সেনিকের উপস্থিতি পাওয়া যায়। উপজেলার ডুমুরিয়া, সাবোখালী, সুড়িগাতী, বড়গুনী গভীর নলকূপ বা ডিপ টিউবওয়েলের ভালো লেয়ার পাওয়া যায়। এ ছাড়া উপজেলা অন্য কোথাও ভালো লেয়ার না পায়ায় গভীর নলকূপ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। অগভীর নলকূপ রয়েছে ২৫০০টি। এর মধ্যে আর্সেনিকের উপস্থিতি রয়েছে ৭০%। গভীর নলকূপ পরীক্ষা করে পানির যে স্তর পাওয়া গেছে তা অনেক ভালো। এ পর্যন্ত সরকারী ভাবে ১৬৯টি গভীর নলকুপ স্থাপন করা হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত আর্সেনিকে আক্রান্ত ২৫ জনকে সনাক্ত করা হয়েছে। এ উপজেলায় ঘেরে চিংড়ি চাষের জন্য সুপেয় পানির উৎস্য গুলোতে চলছে মাছ চাষ। ফলে সুপেয় পানির উৎসগুলো ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
ব্র্যাক ওয়াশ সিনিয়র উপজেলা ম্যানেজার মনি মোহন হালদার জানান, ব্র্যাকের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত ১১৮টি গভীর নলকুপ ও পি,এস,এফ স্থাপন করেছেন ১৮টি। কিছু কিছু এলকায় গভীর নলকুপের পানি রান্নার কাজে ব্যবহৃত হলেও তার পরিমান খুবই কম।




