ads

শনিবার , ১৯ এপ্রিল ২০১৪ | ২রা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

ইসলামপুরের দারকি শ্রমিকদের দিন কাটে অনাহারে অর্ধাহারে

রফিকুল ইসলাম আধার , সম্পাদক
এপ্রিল ১৯, ২০১৪ ৭:২৭ অপরাহ্ণ

56লিয়াকত হোছাইন লায়ন, ইসলামপুর (জামালপুর) : ইসলামপুর উপজেলার দরিয়াবাদ ও হাতিজা গ্রামের সহস্রাধিক দারকি শ্রমিকদের দিন কাটে অনাহারে-অর্ধাহারে। বাঁশ ও বেতের তৈরী মাছ ধরার এক প্রকার ফাঁদের নাম দারকি।
সরেজমিন ঘুরে জানাগেছে, আজ থেকে প্রায় ২শ বছর আগে ব্রহ্মপুত্রের নদের তীরবর্তী হাতিজা ও দরিয়াবাদ এলাকায় হুজুর আলী, আনু মাহমুদ, কানু শেখ, কালা ও মানিক নামের কয়েকজন শ্রমিক দারকি তৈরির কাজ শুরু করে ছিলেন। বাঁশের চিকন শলাকাকে বেত বা নৈই লতা দিয়ে বেঁধে তৈরি করে দারকি। বর্তমানে হাতিজা ও দরিয়াবাদ গ্রামের সহস্রাধিক শ্রমিক দারকি তৈরির পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন। বর্ষাকালে নদী, খাল, বিল, ডুবা ও ছোট জলাশয়ে মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত দারকির চাহিদা বেড়ে যায়। তাই এ সময়ে দারকি তৈরি শ্রমিকদের খুবই ব্যস্ততায় দিন কটে। এ ছাড়া শুষ্ক মৌসুমেও চলে দারকি তৈরীর কাজ। বর্তমানে বেত, কিংবা নৈই লতা না থাকায় বিকল্প হিসাবে লাইলন সুতা ও বাঁশের শলাকা দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে দারকি নামের মাছ ধরার এই ফাঁদ। দেশের বিভিন্ন জেলায় চাহিদা থাকায় ইসলামপুর ও মেলান্দহের তৈরী দারকি রপ্তানি হচ্ছে বিভিন্ন স্থানে। প্রতিদিন ভোর থেকে দারকি শ্রমিকদের কাজে কর্মচঞ্চল হয়ে উঠে ওই দুটি গ্রাম। কয়েকজন শ্রমিকের সমন্বিত কাজের মাধ্যমে তৈরী হয় একটি পূর্নাঙ্গ দারকি। প্রথম শ্রমিকরা বাঁশের চটি বা শলাকা তৈরি করে। অপরজন কাঠামোর ঘের বা চাক তৈরি করে। পরে একজন সূতা দিয়ে বেঁধে তৈরি করে দারকি। এভাবেই তৈরী হয় একটি পূর্নাঙ্গ দারকি। হাতিজা ও দরিয়াবাদ গ্রামের অধিকাংশ নারী-পুরুষ ও শিশুরা প্রায় সারা বছরই এ কাজে ক্যাস্ত সময় কাটায়। বর্তমানে বাঁশ, সূতা ও শ্রমিকের মূল্য বৃদ্ধির কারণে দারকির দাম বেড়েছে। এখন প্রতি দারকি ১শ টাকা থেকে দেড়শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
দারকি শ্রমিক রুস্তম আলী জানান, বাঁশ-সুতাসহ অন্যান্য নির্মাণ সামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃদ্ধি পেয়েছে শ্রমিকের মূল্যও । চড়া মূল্যে দারকি তৈরী করে শুষ্ক মৌসুমে চাহিদা না থাকায় স্বল্পমূল্যে বিক্রি করতে হয়। তাই দারকী শিল্পীদের দৈন্যদশা লেগেই থাকে। মালিকদের অর্থের অভাবে পর্যাপ্ত দারকী তৈরি করা যাচ্ছে না।
দারকি তৈরির শ্রমিক দীন ইসলাম জানান, এ এলাকার দু’ গ্রামে প্রতিদিন প্রায় ৫শ থেকে ১ হাজার দারকী তৈরি হয়ে থাকে। এখানকার তৈরি দারকী সারাদেশে সরবরাহ করা হয়।
মইন উদ্দিন জানান, আর্র্থিক সংকটে দারকি শিল্পিদের দৈন্যদশা চলছে। এ শিল্পের সঙ্গে জড়িতদের বেশিরভাগই দরিদ্র। মূলধন ও কাঁচামালের সংকটে পড়তে হয় অনেককেই। মূলধন ও কাঁচামালের সংকটে পড়ে দাদন ব্যবসায়ীদের নিকট অগ্রিম টাকা নিতে হয় তাদের। তাই এ সংকট উত্তরণে সহজশর্তে ব্যাংক ঋণ এমনকি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা চান তারা। সরকারি বা বেসরকারি এনজিও প্রতিষ্ঠানের আর্র্থিক সহযোগিতা পেলে এ শিল্পটি ভবিষ্যৎ আরও অধিক শ্রমিকের জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম হতে পারে।

Need Ads

সর্বশেষ - ব্রেকিং নিউজ

Shamol Bangla Ads
error: কপি হবে না!