নজরুল ইসলাম, সাতক্ষীরা : যৌতুকের টাকা না পেয়ে এক গৃহবধুকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের শ্বাশুড়ীকে গ্রেপ্তার করেছে। নিহত গৃহবধুর নাম আশুরা খাতুন (১৯)। সে কালীগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম মৌতলা গ্রামের আবু তাহেরের স্ত্রী। গ্রেফতারকৃতের নাম নুরুন্নেছা বেগম (৫০)। তার স্বামীর নাম শাজাহান আলী। বৃহষ্পতিবার সন্ধ্যায় সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম মৌতলা গ্রামের খানপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

কালীগঞ্জ উপজেলার নমাজগড় গ্রামের সবজি ব্যবসায়ি সুরত আলী মোড়ল জানান, উপজেলার পশ্চিম মৌতলা গ্রামের শাজাহান আলীর ছেলে দিন মজুর আবু তাহের গত দেড় বছর পূর্বে তার প্রথম স্ত্রীকে তালাক দেয়। পরে সে তার মেয়ে আশুরা বেগমকে সাড়ে ছয় মাস আগে বিয়ে করে। বিয়ের দুই মাস পর থেকে যৌতুকের দাবিতে স্বামী, শ্বশুর ও শ্বাশুড়ি আশুরাকে প্রায়ই মানষিক ও শাররীক নির্যাতন করতো।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, বৃহষ্পতিবার সকালে তাহের ও তার বাবা-মা ব্যবসা করার জন্য আশুরাকে বাপের বাড়ি থেকে ২০ হাজার টাকা আনতে বলে। টাকা আনতে অপারগতা প্রকাশ করায় বৃহষ্পতিবার বিকেল ৬টার দিকে প্রথমে স্বামী ও পরে শ্বশুর, শ্বাশুড়ী তাকে কাঠের লঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারপিট করে। পরে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে মোবাইল ফোনে (সুরত আলী মোড়ল কে) তার মেয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছে বলে তাকে জানানো হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে যেয়ে তিনি সেখানে যেয়ে তার মেয়েকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
গ্রেফতারকৃত নুরুন্নেছা বেগম জানান, যৌতুকের জন্য নয়, সংসারের অভাবের কারণে তাহের ও আশুরার মধ্যে গÐগোল হয়। তারা আশুরাকে হাত দিয়ে কয়েকটি আঘাত করেছিলেন। মারা যাবে এটা বুঝতে পারেননি তারা।
কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক রিফাতুল ইসলাম জানান, মৃতের শরীরের পা, উরু, যৌনাঙ্গ, গলা ও মুখমÐলে রক্তাক্ত জখম রয়েছে। নির্যাতনের ফলে তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা সুরত আলী মোড়ল বাদি হয়ে শুক্রবার থানায় জামাতা, তার বাবা ও মায়ের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। নিহতের শ্বাশুড়ি নুরুন্নেছাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। লাশের ময়না তদন্তের জন্য সম্পন্ন হয়েছে।
দেবহাটায় চাঞ্চল্যকর শিশু ফয়সাল হত্যাকারীদের বিচার দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন
সাতক্ষীরার দেবহাটায় চাঞ্চল্যকর শিশু ফয়সাল হত্যাকারীদের বিচার দাবীতে শুক্রবার সকাল ১০ টায় গাজীরহাট বাজার চত্বরে এলাকাবাসীর উদ্যোগে এক মানববন্ধন ও শোক র্যালী অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে এলাকার শত শত মানুষ অংশগ্রহন করে। তারা এধরনের নৃশংস হত্যার বিচার দাবী করেন। পরে মানববন্ধনের সাথে একাত্মতা ঘোষনা করে বক্তব্য রাখেন নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্জ্ব আব্দুল গনি, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মুজিবর রহমান, সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্জ্ব রেজাউল করিম প্রমুখ। উল্লেখ্য, গত ২৮ মার্চ দেবহাটার দেবীশহরের চতুর্থ শ্রেনীর মেধাবী ছাত্র ফয়সালকে দুর্বৃত্তরা শ্বাসরোধ করে নিশংসভাবে হত্যা করে। নিহত ফয়সালের পিতা আবু হাসান রাজু অজ্ঞাতনামা আসামী করে ঐদিনই দেবহাটা থানায় ৫ নং মামলা দায়ের করেন।




