চিতলমারী (বাগেরহাট) প্রতিনিধিঃ প্রবাদ আছে উত্থান আছে যার পতন আছে তার। এখন যৌবন যার কিছুদিন পর বৃদ্ধকাল তার। ঠিক তেমনি এক সময়কার চিত্রা নদী যাকে ঘিরে রয়েছে নানা রুপকথার গল্প সেই চিত্রা এখন নালায় পরিনত হয়েছে। শোনা গেছে এই নদীতে এক সময় চিতল মাছ পাওয়া যেত। আর এ কারনে উপকুলের স্থানের নাম রাখা হয়েছিল চিতলমারী। নদীটি তিনটি বিভাগীয় সীমানার কোল ঘেষে বয়ে গেছে। কালের বিবর্তনে, প্রাকৃতিক কারনে, মানুষের যাতায়াতের সুবিধার জন্য কালর্ভাট নিমাণ আর দখরদারিত্বের কারনে চিত্রা এখন মৃত। শুধু রয়েগেছে তার স্মৃতিটুকু। যে চিত্রার পানি এক সময় অত্র এলাকার জনসাধারনের জীবন বাঁচিয়ে রাখত সেই পানি এখন খাবার অযোগ্য, পানি পঁচে গন্ধ ছড়াচ্ছে, পরিবেশকে করছে দূষিত। চিত্রার পাড়ের অনেক বাসিন্দা তাদের টয়লেটের পাইপ লাগিয়ে মল নিস্কাশন করে পানিকে আরো বিষাক্ত করে তুলছে। চিত্রাতে বর্তমান জোয়ার-ভাটা না হওয়ায় কচুড়িপানা জমে পানি দিন দিন আরো দূষিত হচ্ছে, ছাড়াছে পানি বাহিত বিভিন্ন ধরনের রোগ। দিনে দিনে এই পানির গন্ধ সহনীয় মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। চিত্রার পানি এ এলাকার মানুষের সেচের জন্য একমাত্র উৎস থাকলেও তাদের এখন বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহন করতে হচ্ছে। ফলে চাষীদের চাষাবাদের খরচ আরো বেড়ে যাচ্ছে। নাম না প্রকাশে একাধিক ব্যক্তি ক্ষোভের সাথে বলেন, এই চিত্রা ছিল অত্র এলাকার সদরের সাথে যোগাযোগের একমাত্র ব্যবস্থা। কিন্তু এখন এই চিত্রা দিয়ে কোন নৌযান চলে না। প্রাকৃতিক কারনে পলি পড়ে নদীর দুই পাড়ে উঠেছে চর। মানুষের প্রয়োজনে নিমার্ণ হয়েছে কালর্ভাট, সেতু আর ভূমি দস্যুদের কাল থাবায় আজ আর চিত্রা নেই পরিনত হয়েছে নালায়। চিত্রার পাড়ে বাসিন্দারা তাদের বসত বাড়ীর জায়গা দিনে দিনে ঠেলে দিচ্ছে চিত্রার দিকে। তাদের বাড়ীর জায়গা হয়েছে বড় আর চিত্রা হয়েছে ছোট। চিত্রায় বর্তমানে এক থেকে দেড় ফুট পানি আছে। এই চিত্রাকে অতি দ্রুত সংস্কার করলে অত্র এলাকার হাজার হাজার জনসাধারন উপকৃত হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মাদ দিদারুল আলম জানান, চিত্রার এ বিষয়টি আমি অবগত নই, তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। চিতলমারী ত্রাণ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সোহাগ ষোঘ জানান, বিষয়টি তার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু তালহা জানান, খাল খনন বা পূণঃ খনন বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (সেচ) এ বিষয়টি দেখেন। এ ব্যাপারে চিতলমারী উপজেলা সদর ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।




