এম.আবদুল্লাহ আনসারী, পেকুয়া (কক্সবাজার) : নির্বাচন কমিশনের চতুর্থ দফা নির্বাচনে কক্সবাজার জেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আজ। কয়েকদিন পর্যন্ত নির্বাচন নিয়ে আতংক উত্তেজনা বিরাজ করলেও শেষ পর্যন্ত প্রশাসনিক এলার্ট শুরু হলে প্রার্থীদের ও সমর্থকদের মাঝে আতংক একটু কমতে থাকে। ২২ মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার পর থেকে আবারো আতংক ছড়িয়ে পড়ে সরকার দলের পেকুয়া ও মহেশখালীর উপজেলা পর্যায়ের নেতার নেতৃত্বে কয়েকশ নেতাকর্মী ইতিমধ্যে কুতুবদিয়ায় গিয়ে প্রকাশ্যে মঞ্জুরের পক্ষে ভোট ডাকাতির ঘোষণা দেয়ায় অনাকাংখিত ঘটনার শিকার এড়াতে কুতুবদিয়া ছেড়ে যাচ্ছে সাধারণ ভোটাররা। এদিকে পেকুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের কয়েকজন সিনিয়র নেতার নেতৃত্বে আরো কয়েকশ নেতাকর্মী পেকুয়া বাজার ও বিভিন্ন এলাকায় কুতুবদিয়ায় প্রবেশের জন্যে জড়ো হলে এ আতংক ব্যাপক বৃদ্ধি পায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, ২২ মার্চ সন্ধ্যায় মগনামা ঘাট দিয়ে প্রায় শতাধিক কুতুবদিয়ার অধিবাসী পেকুয়ায় ফিরে এসেছেন। তাদের সাথে কথা বলে জানাগেছে চেয়ারম্যান প্রার্থী মঞ্জুরের সমর্থকরা প্রকাশ্যে ভোট ডাকাতির ঘোষণা দেয়ায় এবং প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থীরা প্রতিহতের হুংকার দেয়ায় বিপদ মুক্ত হতে তারা নিরাপদে চলে যাচ্ছে। নির্বাচনী তপসীল ঘোষণা করার পর থেকে দ্বীপবাসীর সেবা করার মনোবল নিয়ে চেয়ারম্যান পদে ৬ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৬ জন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দীতা করে যাচ্ছেন। চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীরা হলেন বি এন পির মনোনীত বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা বি এন পির সিনিয়র সহ সভাপতি এ টি এম নুরুল বশর চৌং(ঘোড়া), আ’লীগ মনোনীত একক প্রার্থী শফিউল আলম(টেলিফোন), জাপার মনোনীত মঞ্জুর আলম(দোয়াত কলম), জামায়াত মনোনীত আ স ম শাহারিয়া চৌং (আনারস), বড়ঘোপ ইউপির চেয়ারম্যান শাকের উল¬াহ(মটর সাইকেল), শ্রমিকলীগ নেতা মনোয়ার ইসলাম মকুল(কাপ পিরিচ), ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫ জন প্রার্থী হলেন হুমায়ুন কবির হায়দার(তালা), মাসিক দ্বীপাঞ্চল পত্রিকার সম্পাদক আকবর খান(উড়োজাহাজ), জিয়াবুল করিম চৌং (চশমা), শ্রমিক নেতা কফিল উদ্দিন(টিয়াপাখি), রমিজ আহম্মদ(টিউবওয়েল), মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫ জন প্রার্থী তারা হলেন বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হাছিনা আক্তার বিউটি(পদ্মফুল), গতবারের পরাজিত সৈয়দা মেহেরুন নেছা(ফুটবল), রোকসানা আরা বেগম(প্রজাপতি), মহিলাদলের নেত্রী নাছিমা আক্তার(হাঁস), ও ইউপির মহিলা এমইউপি আজিমুননাহার(কলসী), তারা নিজ নিজ প্রতীক নিয়ে প্রায় একমাস প্রচারণা চালিয়েছে। এ প্রান্ত থেকে ঐ প্রান্ত পর্যন্ত মানুষের দৌড়ঘুড়াই গিয়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রতিশ্রæতি দিয়েছেন। ভোটারদের কে মন জয় করতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন প্রার্থীরা। কুতুবদিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে ভোটাররা সাধারণত সৎ যোগ্য প্রার্থী যাদের তারা অতীতে কাছে পেয়েছেন তাদের মূল্যবান রায় প্রদান করবেন। ভোটারা আরো জানান সুষ্ট ভাবে সম্পন্ন না হওয়ার আশংকা করছে সাধারণ ভোটার থেকে শুরু করে নির্বাচনের প্রার্থীরা। বেশ কয়েকজন ভোটার এ প্রতিবেদক কে জানিয়েছেন জাপার মনোনীত মনঞ্জুর আলম (দোয়াতকলম) ও তার চাচা বেসরকারী বিমান ও পর্যটন সচিব খোরশেদ আলম সিকদার নির্বাচনী মাঠে ভোটারদের কে বিভিন্ন ভাবে প্রভাবিত করছেন। ১৯৮৫ সালে জাপার নেতা মঞ্জুর আলম ভোট ডাকাতির মাধ্যমে তৎকালিন জনপ্রিয় নেতা জালাল আহমদ চৌধুরীর বিজয় ছিনিয়ে নেন। এবারেও একই কায়দায় ভোট ডাকাতি করবে বলে প্রকাশ্যে বুলি আওড়ায়ে যাচ্ছে। এদিকে বি এন পির মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী এ টি এম নুরুল বশর চৌধুরী, জামায়াত মনোনীত আ স ম শাহারিয়া চৌধুরী, বড়ঘোপ ইউপির চেয়ারম্যান শাকের উল¬াহ অভিযোগ করেছেন ১৯৮৫ সালের নির্বাচনে মনঞ্জুর আলম ভোট ডাকাতি করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবার ২৩ মার্চ নির্বাচনে একই কায়দায় ভোট ডাকাতির মাধ্যমে উক্ত ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটাবেন। তারা আরো অভিযোগ করেন ভোটারদের মনে আতংক ছড়িয়ে দিয়ে বাগিয়ে নিতে মঞ্জুর তার চাচা বেসরকারী বিমান ও পর্যটন সচিব খোরশেদ আলম সিকদারকে দিয়ে প্রভাব বিস্তার করার কারণে নির্বাচনের স্বাভাবিক পরিবেশ হুমকির মূখে পড়েছে। কুতুবদিয়া ৬টি ইউনিয়নে ৩৬টি কেন্দ্রে ১৪৭টি বুথে ভোট গ্রহণ শুরু হবে আজ। এ উপজেলার মোট ভোটার রয়েছে ৭৪ হাজার ৬ শত ৭জন। এদিকে উপজেলা প্রশাসন সুষ্ট ভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে ব্যাপক প্রস্তুতি ও পুরো উপজেলা জুড়ো সেনাবাহিনী, কোষ্টগার্ড, র্যাব, বিজিবি মোতায়ান করা হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে ভোটারদের সাথে কথা বলে দেখা যায় সুষ্ট নির্বাচন হলে এ টি এম নুরুল বশরের সাথে শাকের উল¬াহ এবং আ স ম শাহারিয়া চৌধুরীর মধ্যে ত্রীমূখী লড়াই হবে। অনেকে মনে করছেন ভোটের সমীকরণে বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান এটি এম নুরুল বশর এগিয়ে রয়েছেন। গত বারের নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বি এন পির মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী জেলা বি এন পির সিনিয়র সহ সভাপতি এ টি এম নুরুল বশর চৌধুরী উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়। এর পর থেকে শুরু হয় তার জনপ্রিয়তা ধবংস করার মূলষড়যন্ত্র। শুরু হয় তার বিরুদ্ধে মামলার মিশন। শুরু থেকে তার বিরুদ্ধে প্যারাবন নিধন সহ বিভিন্ন মামলা করা হয়। তাকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করে ক্ষমতাচুৎত করতে বিভিন্ন পায়তারা। সব কিছুর অবসান ঘটিয়ে আইনি লড়ায়ে মসনদ রক্ষা করে কুতুবদিয়াবাসীর সেবা করে যাচ্ছেন। এ ব্যাপারে জানতে উপজেলা সহকারী রিটানিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মুবিনুর রশিদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান নির্বাচন সুষ্ট করার জন্য উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বেষ্টনীতে রাখা হয়েছে। যাতে করে কোন ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে না পারে সেই লক্ষ্যে আইন শৃংঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুতি নিয়েছেন। এ নির্বাচনকে অবাধ সুষ্ট নিরপেক্ষ গ্রহণযোগ্য করতে ও সাধারণ ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে তার সব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।




