স্টাফ রিপোর্টার : শেরপুরের সীমান্তবর্তী নালিতাবাড়ী উপজেলায় আওয়ামী লীগের সেয়ান দুই প্রার্থীর সাথে বিএনপির এক তরুণ প্রার্থীর লড়াই জমজমাট আকার ধারণ করেছে। ২৩ মার্চ অনুষ্ঠেয় নির্বাচনকে সামনে রেখে শেষ মুহূর্তের প্রচার-প্রচারণায় ৩ প্রার্থীই মরিয়া হয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। এ নিয়ে এখনও কোন গোলযোগ না হলেও নির্বাচনের দিন ব্যাপক গোলযোগের আশংকা করা হচ্ছে।

নালিতাবাড়ী উপজেলায় একটি পৌরসভাসহ ১২টি ইউনিয়নে ৭৩টি কেন্দ্রে মোট ভোটার ১ লক্ষ ৭২ হাজার ১শ ২৮ জন। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীর নির্বাচনী এলাকার বৃহৎ এ উপজেলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোকছেদুর রহমান লেবু তৃণমূল ভোটে জয়ী হয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হন। তিনি লড়ছেন দোয়াত-কলম প্রতিক নিয়ে। কিন্তু তৃণমূলের ওই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাবেক পৌর মেয়র আব্দুল হালিম উকিল বিদ্রোহী প্রার্থী হন। তিনি লড়ছেন ঘোড়া প্রতিক নিয়ে। অন্যদিকে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশরাফ আলীকে পাশ কাটিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে উঠেন দলের তরুণ নেতা ও স্থানীয় নন্নী ইউপি চেয়ারম্যান একেএম মোখলেছুর রহমান রিপন। তিনি লড়ছেন মোটর সাইকেল প্রতিক নিয়ে। আশরাফ আলী আনারস প্রতিক নিয়ে কিছুদিন মাঠে থাকলেও বিদ্রোহী প্রার্থী রিপনকে দমাতে না পেরে অবশেষে তিনিই নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে পড়ার ঘোষণা দিয়ে থেমে যান। আর এ অবস্থায় আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট দুই প্রার্থীর সাথে ক্রমেই লাফিয়ে লাফিয়ে মূল প্রতিদ্ব›িদ্বতায় চলে যান বিএনপির ওই তরুণ প্রার্থী রিপন। প্রথমে তার পক্ষের নেতাদের মধ্যে কিছুটা ক্ষোভ থাকলেও সবকিছু ভূলে ইতোমধ্যেই প্রায় সব নেতা-কর্মীই রিপনের পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ফুরফুরে মেজাজে চলে যাচ্ছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। অন্যদিকে দুই প্রার্থী নিয়ে উৎকণ্ঠায় দিন কাটাতে হচ্ছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের। নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের মতে, এ উপজেলায় ত্রিমুখী হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। তবে শেষ হাসি কে হাসবেনÑ সেটা ভাবাই কঠিন।




