সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার তালা উপজেলার এক স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ দিলেও কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। অবিলম্বে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসি।

তালা উপজেলার মহান্দি গ্রামের এক গৃহবধু জানান, তার মেয়ে খাজরা সরকারি মডেল প্রাইমারী স্কুলের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী। তার মেয়েসহ তিনজন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ছাত্রীকে ধর্মের ক্লাস নিতেন সহকারি শিক্ষক ও গোপালপুর গ্রামের ফটিক দত্তের ছেলে পরেশ দত্ত। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে ক্লাস নেওয়ার সময় তার মেয়েকে শ্লীলতাহানি করেন। বিষয়টি বাড়িতে গিয়ে কাউকে না বলার কথা বলে শিক্ষক পরেশ দত্ত। স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে মেয়ে তাকে সব খুলে বলে। তিনি বিষয়টি স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মীর মোহাসিন আলীকে লিখিতভাবে অভিযোগ জানিয়ে প্রতিকার প্রার্থনা করেন। এমনকি কোন পুরুষ শিক্ষককে দিয়ে মেয়েদের ধর্মের ক্লাস না নেওয়ার দাবি জানান তিনি। এরপর থেকে শিক্ষক আর স্কুলে আসছে না।
এ ব্যাপারে ছুটিতে থাকা পরেশ দত্ত জানান, তার বিরুদ্ধে একটি মহল গুজব ছড়াচ্ছে। লোকমুখে নানান কথা ছড়িয়ে পড়ায় লজ্জায় তিনি স্কুলে যাচ্ছেন না। অধিকাংশ সময় ছেলের মোবাইল মাকে ধরে বলতে হচ্ছে খোকা বাড়িতে নেই।এ ব্যাপারে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মীর মহসীন আলীর সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। প্রধান শিক্ষক জামালউদ্দিন জানান,সভাপতি তাকে কিছু জানাননি। তবে বিষয়টি তিনি জানার পর ছুটি নিয়ে এক মাসের মধ্যে ওই স্কুল থেকে বদলী হওয়ার জন্য শিক্ষক পরেশ দত্তকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তালা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানান, এ নিয়ে তার কাছে কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




