মহাদেবপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি : নওগাঁর মহাদেবপুরে ফসলী জমিতে ব্যবহার করা হচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক। এর ফলে এসব জমিতে উৎপাদিত তরিতরকারী ও শাকসবজিসহ অন্যান্য ফল-ফসলের নিরাপদ ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। অতিরিক্ত কীটনাশক প্রয়োগের মাধ্যমে উৎপাদিত তরিতরকারী ও শাকসবজিসহ অন্যান্য ফল-ফসল মানবদেহে নীরব ঘাতকের কাজ করছে বলে জানান বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। কীটনাশকের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার সহনীয় পর্যায়ে এনে বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে ফল-ফসল উৎপাদন করে মানবদেহের ঘাতককে রোধ করা জরুরী বলে মত দেন সংশ্লিষ্টরা। এ ব্যাপারে কৃষকদের অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধকরণ সভা ব্যাপক ফল এনে দিতে পারে বলে মনে করেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।। স্থানীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানান, মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক প্রয়োগে উৎপাদিত খাদ্যদ্রব্য মানবদেহে পরোক্ষ এবং প্রত্যক্ষ উভয়ভাবেই মারাত্বক ক্ষতির সৃষ্টি করে। বিশেষ করে যেসব খাদ্যদ্রব্য রান্না ব্যতিত কাঁচা অবস্থায় খাওয়া হয় সেসবে মানবদেহ প্রত্যক্ষভাবে ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়ে। এভাবে খাদ্যদ্রব্যের বিষক্রিয়ায় মানুষজন ক্রমেই মৃত্যুর দিকে ধাপিত হয়। পশুপাখিসহ অন্যান্য জীবজন্তুও ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পায়না। কীটনাশকের লাগামহীন ব্যবহারের ফলে কয়েক প্রজাতির পাখি প্রকৃতি থেকে হারিয়ে গেছে বলে এক পরিসংখ্যানে জানা গেছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, তরিতরকারী ও শাকসবজিসহ এখানে ৩০ হাজার হেক্টরেরও বেশী পরিমাণ জমিতে বিভিন্ন তরিতরকারী ও শাকসবজিসহ বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য চাষ হয়। ফসলের তুচ্ছ সমস্যাতেও কৃষক না বুঝে ক্ষেতে দেদারছে কীটনাশক প্রয়োগ করে থাকে। কীটনাশক আগাম ব্যবহার না করলে ফসলে পোকা লাগতে পারে এমন চিন্তা থেকেও কৃষক জমিতে আগেই কীটনাশক প্রয়োগ করে থাকেন। এভাবে দেখা যায় একের পর এক কীটনাশক প্রয়োগের ফলে পুরো ক্ষেতই বিষাক্রান্ত হয়ে পড়ে। ওইসব ফল-ফসল ক্ষেত থেকে উঠিয়ে হাট-বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে অবলীলায়।




