বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহার করে সরকারি খাস জমি অবৈধভাবে দখলে রাখা, স্থানীয় সাংসদ মঈন উদ্দীন খান বাদলের সুনামহানির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেন স্থানীয় ১৪ দল নেতৃবৃন্দ। ২৩ ফেব্রুয়ারী রবিবার সকাল ১১টায় উপজেলা ডাকবাংলোয় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি আতাউল হক, জাসদ কেন্দীয় সহ-সভাপতি সৈয়দুল আলম, উপজেলা জাসদ সভাপতি হাজী মনছপ আলী, সাধারণ সম্পাদক মনির উদ্দীন খান, উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক রেজাউল করিম বাবুল, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আবদুল মান্নান রানা, ।
সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা এসএম সেলিম লিখিত বক্তব্যে বলেন, আধ্যাত্মিক সাধক হযরত বু’আলী কলন্দর শাহ (র.) মাজার (আস্তানা), হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দুর্গা পূজার উৎপত্তিস্থল প্রাচীন ঋষি মেধস মুনির আশ্রম ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র বৌধিদ্রুম (যেখানে ভগবান গৌতম বৌদ্ধের সাধনা স্থল গয়ার বোধিবৃক্ষের একটি শাখা)। এই তিন ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থানে পরিভ্রমণে দেশী-বিদেশী বিভিন্ন তীর্থযাত্রী ও পরিব্রাজকবৃন্দ এখানে এসে রাত্রি যাপন দূরে থাক দূর্গম এই পাহাড়ে এতটুকু বিশ্রামেরও কোনো সুব্যবস্থা না থাকায় পযর্টন এলাকা ও জনস্বার্থে সরকার একটি ডাকবাংলো নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। ২০১১ সালে ভূমি প্রশাসন কর্র্তৃক জায়গা বরাদ্ধের পর বাংলো নির্মাণে ৬২ লক্ষ টাকা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় কুচক্রীমহল সরকারি সম্পত্তি অবৈধ দখলের পাঁয়তারা শুরু করে। কুচক্রী মহল স্থানীয় বৌদ্ধ ভিক্ষুদের ইন্ধন দিয়ে শশ্মানের জায়গায় সরকারি স্থাপনা করার কথা বলে উস্কানি দেয়। যে ভূমিতে ডাকবাংলো নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয় সেটি সম্পূর্ণ সরকারি ১নং খতিয়ানভূক্ত খাস জমি। উক্ত খতিয়ানভূক্ত বিএস ৪২২১ ও ৪২২৫ দাগে মোট ১৮.২৯ একর জমি রয়েছে। ১নং খাস খতিয়ানে ৪২২১ দাগে ৫ একর ৮৪ শতাংশ শশ্মান মর্মে লিপি হয়েছে। উক্ত দাগাদিতে ১৮.২৯ একর জমির মধ্যে কিছু অংশ শশ্মান বিদ্যমান রয়েছে। ঐ কুচক্রী মহল দাগাদির অপরাপর সরকারি খাস জায়গা অবৈধ দখল করে আত্মসাৎ করার জন্য গোপনে এই পায়ঁতারা চালিয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে সাংসদ বাদলের কোনো ব্যক্তিগত অভিলাস নেই। তিনি শুধু জনগণের স্বার্থে ডাকবাংলো নির্মাণের অর্থ বরাদ্দ করিয়েছেন। তাছাড়াও ঐ এলাকায় একটি পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার ও স্থায়ী পুলিশ স্থাপনা নির্মাণে প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। এই পাহাড়ি জনপদকে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহল মাদকের নিরাপদ ট্রানজিট রোড হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার ও স্থায়ী পুলিশ স্থাপনা নির্মাণ হলে তাদের এসব অপতৎপরতা চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে বিধায় ঐ স্বার্থন্বেষী মহল এসব সুদূর প্রসারী পরিকল্পনা ভেস্তে দেয়ার লক্ষ্যে গোপনে শান্তিপ্রিয় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কু-প্ররোচনা দিয়ে ক্ষ্যাপিয়ে তুলে এসব কর্মকান্ড সংঘটিত করছে।

সাংসদ বাদলকে জড়িয়ে উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে ভাবমূর্তিক্ষুন্ন করার কুমানসে মিথ্যা, অসত্য ও বানোয়াট কথা রটনা প্রচার করায় স্থানীয় ১৪দল নেতৃবৃন্দ তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান।সংবাদ সম্মেলনে তারা বোয়ালখালীর জনস্বার্থে ডাকবাংলো নির্মাণের জন্য ও সরকারি সকল খাস সম্পত্তি অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে সংরক্ষণ করারও সরকারের কাছে জোর দাবি জানানো হয়।




