কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি : কেশবপুর সন্ন্যাসগাছা বালিকা দাখিল মাদ্রাসার সুপারের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে ওই মাদ্রাসার ১৪ জন ছাত্রীর দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়া হলো না। প্রবেশ পত্র না পেয়ে শনিবার বিকেলে মাদ্রাসার ছাত্রী ও অভিভাবকরা সুপারের বিচারের দাবীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করে। যখন তারা জানতে পারে এবার পরীক্ষায় অংশ নেয়া যাবে না তখন সবাই কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে।

জানাগেছে, সন্ন্যাসগাছা বালিকা দাখিল মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে কেশবপুর শহরের বাসিন্দা আব্দুল হালিম সুপারের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। অফিসের কাজের কথা বলে প্রায় সময় তিনি থাকেন প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত। ফলে সদ্য নিয়োগ পাওয়া অফিস সহকারীকে দাপ্তরিক সকল কাজ করতে হয়। ওই মাদ্রাসার ২০১৪ শিক্ষাবর্ষের ১৪ জন ছাত্রীর রেজিস্ট্রেশন ও ফরম ফিলাপের কথা বলে প্রত্যেক ছাত্রীর কাছ থেকে ৩-৪ হাজার টাকা পর্যন্ত নেয়া হয়। কিন্তু এই টাকা শিক্ষাবোর্ডে জমা না দিয়ে সুপার নিজেই আত্মসাত করেন বলে অভিযোগ। এছাড়া ওই সুপার প্রতারণা করে ওই ২ ফেব্র“য়ারী প্রত্যেক ছাত্রীর কাছ থেকে ২৫০ টাকা নিয়ে ঘটা করে দাখিল পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান করা হয়। মাদ্রাসার ছাত্রী উম্মে সাদিয়া, খাদিজা খাতুন, রিক্তা খাতুন, সনিয়া খাতুন জানান, পরীক্ষার আগের দিন পর্যন্ত প্রবেশপত্র না পেয়ে তারা সুপারের স্মরণাপন্ন হয়। সুপার প্রবেশপত্র আনার কথা বলে গা ঢাকা দেয়। ৮ ফেব্র“য়ারী সন্ধ্যায় প্রবেশপত্র না পেয়ে আমরা ৯ম ও ১০ম শ্রেণীর ছাত্রীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করি।
এ ব্যাপারে সুপার আব্দুল হালিম জানান, তার মাদ্রাসার ২ জন ছাত্রী ফেল করার কারনে রেজিষ্ট্রিশন স্থগিত হয়ে যায়। যার কারনে রেজিষ্ট্রেশন করানো সম্ভব হয়নি। ছাত্রীদের সাথে প্রতারণা করে বিদায় অনুষ্ঠান করা হলো কেন এমন প্রশ্নের কোন সদোত্তর তিনি দিতে পারেননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সায়েদ মোঃ মনজুর আলম বলেন, ওই সুপারের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে এ ধরনের আরো অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়াসহ তাকে বরখাস্ত করা হবে।
দলীয় প্রার্থী নির্ধারনে তৃণমূলপর্যায়ে ভোট : উপজেলা নির্বাচনে কেশবপুরে আওয়ামীলীগের প্রার্থী আমির হোসেন

নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা না হলেও কেশবপুরে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থী নির্ধারনে তৃণমূল পর্যায়ে ভোট উৎসব হয়েছে। শনিবার রাতে উপজেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে ইউনিয়ন, ওয়ার্ড সভাপতি ও সাধার সম্পাদকরা ভোট দিয়ে বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান এইচ.এম আমীর হোসেনকে আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্বাচিত করেছেন। নির্বাচনে এইচ.এম আমীর হোসেন গরুর গাড়ি প্রতীকে ১০০ ভোট পেয়েছেন। তার একমাত্র প্রতিদ্ব›দ্বী মঙ্গলকোট ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৯৭ ভোট। ৯টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার মোট ২০১জন ভোটারের মধ্যে ১৯৭ জন ভোট প্রদান করেন। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেকের উপস্থিতিতে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এস.এম রুহুল আমিন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাকে সহযোগীতা করেন সাধারণ সম্পাদক গাজী গোলাম মোস্তফা।




