জাকির হোসেন, ছাতক (সুনামগঞ্জ) : ছাতকে সুরমা নদীতে নৌকায় অগ্নিকান্ডের ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ হানিফ (১১) নামের আরো এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাড়ালো ১২। ৫ ফেব্রুয়ারী বুধবার ভোরে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। হানিফ নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুড়ি উপজেলার বোয়ালিয়া-মেন্দীপুর গ্রামের রুবেল মিয়ার পুত্র। অগ্নিদগ্ধ ১০জনকে মঙ্গলবার বেতুরা গ্রামের পঞ্চায়েতি কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। অগ্নিদগ্ধ রোকেয়া বেগম (৪০)’র লাশ তার ভাই শাহজাহান মিয়ার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রোকেয়া নেত্রকোনা জেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের পাঁচহাটা গ্রামের আবুল হাশেমের স্ত্রী। এদিকে মঙ্গলবার দিনভর উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আর কোন লাশ উদ্ধার করতে পারেনি ডুবুরিদল। বিকেল ৩টায় ১মদফা উদ্ধার অভিযান শেষ করা হয়। রাতে ঢাকা থেকে বিআইডব্লিউটিএ’র এক বিশেষ ডুবুরিদল ঘটনাস্থলে পৌছে ২য়দফা উদ্ধার অভিযান চালায়। গতকাল বুধবার সকাল ১০টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তারাও আর কোন লাশ উদ্ধার করতে না পেরে অভিযান সমাপ্ত করে চলে যায়। প্রাণে বেঁচে যাওয়া নৌকা যাত্রীদের দাবী অর্ধশতাধিক নারী, পুরুষ ও শিশু নিখোঁজ হয়েছে। নৌকার ভেতরে আটকা পড়া ১১যাত্রীর দগ্ধ লাশ উদ্ধার হলেও নদীতে ঝাপিয়ে পড়া বহু নারী-পুরুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছে। আর কোন লাশ উদ্ধার না হওয়ায় উদ্ধার কাজে অংশ নেয়া সুরমার দু’পারের বেতুরা ও প্রতাবপুর গ্রামের মানুষের মধ্যে রয়েছে সংশয় ও উৎকণ্ঠা। দেড় শতাধিক যাত্রীবাহী নৌকা থেকে ৮০-৯০জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে বলে উভয় গ্রামের মানুষ দাবী করছেন। নদীগর্ভে অগ্নিদগ্ধ আরো বহু লাশের সলিল সমাধি হয়েছে বলে তাদের ধারনা। স্বজনদের খোঁজ নিতে আসা কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার উদিয়ারপার গ্রামের মৃত নায়েব আলীর পুত্র আসাদ মিয়া জানান, সোমবার বিকেলে তার নিকটাত্মীয় স্বামী-স্ত্রীসহ ৬জনকে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে ভোলাগঞ্জ থেকে ওই নৌকায় তুলে দিয়েছেন। ঘটনার খবর পেয়ে তিনি এখানে এসে কারো সন্ধান পাননি। হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে তাদের সন্ধান না পেয়ে সুরমা নদীর পারে বসে স্বজনহারা আসাদ মিয়া চোঁখের জল ফেলছেন। এভাবে অনেকেই স্বপরিবারে নিখোঁজ হওয়ায় তাদের সন্ধান করতে কেউ আসেনি। গতকাল বুধবার সকাল ১০টার পর উদ্ধার অভিযান শেষ হলে ঘটনাস্থল সুরমা নদীর উভয় পারে স্তব্দতা নেমে আসে। ঘটনার স্বাক্ষী হিসেবে আগুনে পুড়া নৌকাটি বেতুরা এলাকায় নদীর পারে অর্ধডুবন্ত অবস্থায় পড়ে আছে। মঙ্গলবার বেতুরা ও প্রতাবপুরের উভয় পারে যেখানে ছিল হাজারো জনতার ভীড়, ডুবুরিদলের উদ্ধার অভিযান ও প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পদচারনা, সেখানে এখন বিরাজ করছে নিরবতা। ছাতক থানার অফিসার্স ইনচার্জ শাহজালাল মুন্সি জানান, উদ্ধার কাজে অংশ নিতে ঢাকা থেকে বিআইডব্লিউটিএ’র একটি বিশেষদল মঙ্গলবার রাত ৮টায় ঘটনাস্থলে পৌছে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়। আর কোন লাশের সন্ধান না পেয়ে বুধবার সকাল ১০টায় উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত করেছে তারা।




