শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়া আফরোজা বেগম (৩৫) নামে এক বিধবা নারীকে পিটিয়ে আহত করেছে প্রতিপক্ষরা। ঘটনাটি ঘটে ঝিনাইগাতী উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের তাওয়াকোচা গ্রামে। আফরোজা বেগম ওই গ্রামের মৃত সোলাইমান হোসেনের স্ত্রী।

জানা গেছে, গত প্রায় ৭ বছর পূর্বে আফরোজা বেগমের স্বামী মারা যায়। ১ ছেলে ১ মেয়েকে নিয়ে আফরোজা তার দরিদ্র পিতা আব্দুল্লাহ’র বাড়িতেই থাকেন। আফরোজার অভিযোগ, একই গ্রামের প্রভাবশালী আব্দুল মান্নান আফরোজাকে বেশ কিছু দিন ধরে কু-প্রস্তাব ও রাস্তা-ঘাটে উত্যক্ত করে আসছিল। এক পর্যায়ে গত ৪ এপ্রিল সোমবার দুপুরে আফরোজা বেগম আব্দুল মান্নানের কু- প্রস্তাবের প্রতিবাদ করায় উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আব্দুল মান্নান ও তার লোকজন আফরোজার উপর আক্রমণ করে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। ওই ঘটনায় আফরোজা বেগম বাদী হয়ে ঝিনাইগাতী থানায় ৩ জনকে বিবাদী করে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এদিকে আফরোজা বেগম থানায় অভিযোগ করায় প্রভাবশালী আব্দুল মান্নান ক্ষিপ্ত হয়ে ঘটনার তিনদিন পর গত ৭ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকালে আবারও আফরোজা বেগমকে মারপিট করে।
ওইসময় আব্দুল মান্নানের লোকজনের হাত থেকে আফরোজা বেগমকে উদ্ধার করতে তার মা সখিনা বেগম এগিয়ে এলে তিনিও আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহত মা মেয়েকে উদ্ধার করে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। কিন্তু ১৪ এপ্রিল বৃহস্পতিবার এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানা পুলিশ এ বিষয়ে এখনও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ করেছেন আফরোজা বেগম। অপরদিকে বিবাদীরা অভিযোগ তুলে নেয়ার জন্য আফরোজা বেগম ও তার পরিবারের লোকজনকে নানাভাবে ভয়ভীতি ও গ্রামছাড়া করার হুমকি প্রদর্শন করে আসছে। এতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ওই পরিবারটি।

এ ব্যাপারে ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল আলম ভুঁইয়া বলেন, এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




