আরিফ মাহমুদ, কলারোয়া (সাতক্ষীরা) : অবৈধভাবে সাগরপথে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে যাওয়া ১৪জন ব্যক্তি দীর্ঘ ৫মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছে। তাদের বর্তমান অবস্থান কেউই বলতে পারছেন না। এদের বেশির ভাগের বাড়িই কলারোয়ায়। দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে তারা ভাগ্য অন্বেষনের জন্য মালয়েশিয়া যাওয়ার লক্ষ্যে বাড়ি থেকে বের হলেও তাদের আজো কোন সন্ধান মেলেনি। এমনই কয়েকজন ব্যক্তির স্বজনরা গতকাল কলারোয়া থানায় এজাহার করেছেন। নিখোঁজ কয়েক ব্যক্তির স্বজনরা জানান, গত ৫মাস আগে ১৪/৮/১৩ইং তারিখে একটি দালাল চক্রের হাত ধরে মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হন কারো পুত্র, কারো ভাই বা কারো নিকট আত্মীয়। কথা ছিল জনপ্রতি ২লাখ ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে তাদেরকে মালয়েশিয়া নিয়ে যাওয়া হবে। প্রথমে প্লেনে নেয়ার কথা থাকলেও শেষমেষ সাগরপথে নেয়ার কথা বলে দালাল চক্র। ভাগ্যকে টাকার ঐষর্য্যে সুন্দর করে তোলার লক্ষ্যে মালয়েশিয়া যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর ব্যক্তিরা বাধ্য হয়ে সাগরপথে যেতে সম্মতিও হয়। মালয়েশিয়া পৌছে দেশে স্বজনদের কাছে ফোন করার কথা থাকলেও আজো সেই কাঙ্খিত ফোনকলটি আসেনি। আর কোন খোঁজও নেই তাদের। দালাল চক্রের সদস্যরাও দায়সারা। কোথায় আছে, কেমন আছে কিছুই জানতে না পেরে অবশেষে থানা পুলিশের দারস্থ হলো নিখোঁজের স্বজনরা। থানা সূত্র জানায়, এমনই নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলো উপজেলার বসন্তপুর গ্রামের আরশাদ আলী বিশ্বাসের পুত্র সুমন, মৃত নূর মোহাম্মাদের পুত্র সাহেদ আলী, শওকাত আলীর পুত্র সাইফুল ইসলাম, বারেকের পুত্র রাজু, মজিদ বিশ্বাসের পুত্র ছাত্তার, সিরাজুল ইসলামের পুত্র সোহাগ, সহিদুল ইসলামের পুত্র বাবু, শফির পুত্র আলামিন, মিজানুরের পুত্র কবিরুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলামের পুত্র আজমুল ইসলাম, জামালের পুত্র আরিফ হোসেন, আ. আজিজের পুত্র রহিম, খলশি গ্রামের রজব আলীর পুত্র মহিদুল ইসলাম ও যশোর জেলার কেশবপুরের গোপসানা গ্রামের রহমতুল্লাহর পুত্র জাহাঙ্গীর আলম। উপজেলার বসন্তপুর গ্রামের নিখোঁজ সুমনের পিতা আরশাদ আলী বিশ্বাস বাদী হয়ে দালাল চক্রের সদস্য উপজেলার কাজিরহাট-দিগং গ্রামের রজব আলীর পুত্র আ. রউফ, শুভংকরকাটি গ্রামের মৃত কাদের সরদারের পুত্র করিম ময়রা ও যশোর জেলার সদর থানার পারখাজুরার জনৈক আ.অহিদকে আসামী করে থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন। এ ব্যাপারে কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহ দারা খাঁন পিপিএম জানান, তিনি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন।




