সদ্যসমাপ্ত ফুটবল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও রোমাঞ্চকর এক জয় কুড়িয়ে নিয়েছিল আর্জেন্টিনা। শেষ মুহূর্তের সেই ২-১ ব্যবধানের জয় লিওনেল মেসির দলকে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বসেরার মুকুট পরার খুব কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছিল।
যদিও ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয় আলবিসেলেস্তেদের, তবু ইংলিশ-বধের সেই স্মরণীয় দিনটিকে চিরস্থায়ী রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)।

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেই ঐতিহাসিক সেমিফাইনাল জয়ের মাস পেরোনোর আগেই ১৫ জুলাইকে ‘জাতীয় ফুটবল দল দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছে এএফএ। এখন থেকে প্রতি বছর এই দিনটিকে দেশটিতে বিশেষভাবে পালন করা হবে।
বুধবার অনুষ্ঠিত এএফএ’র নির্বাহী কমিটির বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
পরবর্তীতে এক বিবৃতিতে আর্জেন্টাইন ফুটবল সংস্থা জানায়, ‘লিওনেল স্কালোনির দল শুরুতে থ্রি লায়ন্সদের বিপক্ষে ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও হাল ছাড়েনি। এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্টিনেজের জোড়া গোলে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে দল জয় ছিনিয়ে আনে। সেই ঐতিহাসিক জয় পুরো আর্জেন্টিনা জাতিকে আনন্দাশ্রুতে ভাসিয়েছিল এবং দেশটির লাখো মানুষ রাজপথে নেমে জয়োল্লাসে মেতে উঠেছিলেন।’

গত ১৫ জুলাইয়ের সেই হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালে প্রথম দিকে গোল হজম করলেও শেষ মুহূর্তের নাটকে ম্যাচ জিতে ফাইনালের টিকিট কাটে আর্জেন্টিনা।
তবে ঐতিহাসিক এই জয়ের পরপরই বিতর্কও ডালপালা মেলে, যা গড়ায় ফিফা তদন্ত পর্যন্ত। খেলা শেষে গ্যালারি থেকে ‘ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার’ লেখা একটি ব্যানার মাঠে ছুড়ে দেন এক সমর্থক। আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার জিওভানি লো সেলসো সেটি কুড়িয়ে নেন এবং খেলোয়াড়রা তা উঁচিয়ে ধরে উল্লাস করেন। সেই ছবি দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
দক্ষিণ আটলান্টিকের ফকল্যান্ড দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ১৯৮২ সালে তৎকালীন সামরিক জান্তার অধীনে থাকা আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল।
৭৪ দিনের সেই যুদ্ধে ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন ও ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনা প্রাণ হারান, আর জয় পায় যুক্তরাজ্য। রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক এই সংবেদনশীলতার কারণে ব্যানার কাণ্ড নিয়ে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক নালিশ জানায় ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ)। যার ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।




