ads

সোমবার , ১৩ জুলাই ২০২৬ | ২৯শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

যে কৌশলে ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা একে অন্যকে ঘায়েল করতে পারে!

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
জুলাই ১৩, ২০২৬ ৩:২২ অপরাহ্ণ

বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল এমন দুটি দলকে একে অন্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে, যারা ভিন্ন ভিন্ন পথে উঠে এলেও তাদের একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য ছিল—দুই দলই এমন সব চ্যালেঞ্জ উতরে গেছে, যেখানে কেবল তাদের সামগ্রিক পারফরম্যান্সই সবসময় যথেষ্ট ছিল না। ইংল্যান্ড একক খেলোয়াড়দের গুণগত মান ও পেনাল্টি বক্সের দুই প্রান্তেই অসাধারণ দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে এতদূর এসেছে। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনা কৌশলগত সচেতনতা ও ভিন্ন পরিস্থিতিতে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা দিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ব্যক্তিগত তারকাদের ছাপিয়ে এই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হতে পারে কিছু ছোটখাটো বিষয়ের মাধ্যমেও।

Shamol Bangla Ads

থমাস টুখেলের দল ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বল দখল ধরে রাখাকে বাধ্যতামূলক মনে করে না। অন্য দলগুলো যেখানে পাসিংয়ের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের হাফে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছে, সেখানে ইংল্যান্ড দ্রুত গোল করার মতো অবস্থানে পৌঁছানোকে গুরুত্ব দিয়েছে। মেক্সিকোর বিপক্ষে তারা এটি প্রমাণ করেছিল। মাত্র এক-তৃতীয়াংশ বল পজেশন থাকা সত্ত্বেও তারা অনেক বেশি আক্রমণাত্মক ছিল এবং শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানে জয় পায়। তাদের ফর্মেশন সাধারণত ৪-২-৩-১ দিয়ে শুরু হয়। তবে জুড বেলিংহাম ও হ্যারি কেইনের মুভমেন্টের ওপর ভিত্তি করে তাদের খেলার ধরন ক্রমাগত পরিবর্তিত হয়।

আর্জেন্টিনার প্রধান চিন্তার কারণ হলো এই দুই মূল খেলোয়াড়কে নিয়ন্ত্রণে রাখা:
বেলিংহাম কেবল একজন অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার থেকে একজন ‘গেম-চেইঞ্জার’-এ পরিণত হয়েছেন। তিনি মাঠের গভীর থেকে খেলা গড়ে দেন। কেইনের তৈরি করা ফাঁকা জায়গাগুলো তিনি কাজে লাগান। কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য ছাড়াই হাজির হন এবং অত্যন্ত নিখুঁত টাইমিংয়ে বক্সে প্রবেশ করেন। আর্জেন্টিনার সামান্য একটু মনোযোগহীনতার সুযোগেই তিনি মাঝখান দিয়ে ফিনিশ করতে বা দূরের পোস্টে আক্রমণ করতে পারেন।

Shamol Bangla Ads

হ্যারি কেইন আক্রমণের মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবেই আছেন। তবে এখন আর কেবল গোল করার ক্ষমতার জন্য নয়। তিনি এখন আরও বেশি নিচে নেমে এসে মিডফিল্ডারদের সাথে সংযোগ তৈরি করেন। প্রতিপক্ষের সেন্টার-ব্যাকদের ব্যস্ত রাখেন। বেলিংহামের দৌড় কিংবা বুকায়ো সাকার তির্যক দৌড়ের জন্য সেন্ট্রাল চ্যানেলটি ফাঁকা করে দেন। এছাড়া ইংল্যান্ড সেট পিসেও বিপদের একটি বড় উৎস খুঁজে পেয়েছে। ডেক্লান রাইসের ডেলিভারিগুলো প্রায়শই কেইন, স্টোন্স বা বেলিংহামকে সুবিধাজনক অবস্থানে খুঁজে নেয়। এই কৌশলটি টুর্নামেন্টে ইতিমধ্যে তাদের বেশ কয়েকটি ম্যাচের গোল করতে সাহায্য করেছে।

উইং বা পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোও একটি চ্যালেঞ্জ। সাকার ওয়ান-অন-ওয়ান ড্রিবলিংয়ের মাধ্যমে রক্ষণ ভেঙে ফেলার ক্ষমতা রয়েছে। অন্যদিকে অ্যান্থনি গর্ডন একটি ভিন্ন চরিত্র দেখিয়েছেন। তিনি দলের জন্য বেশি খেলেন। কখন গতি বাড়াতে হবে এবং কখন পাস দিতে হবে তা বোঝেন এবং ফাইনাল থার্ডে দারুণভাবে হাজির হন। আর্জেন্টিনাকে এই দুজনকে ফাঁকা জায়গায় বল পাওয়া থেকে বিরত রাখতে হবে। কারণ ইংল্যান্ডের আক্রমণের একটি বড় অংশ এই উইংগুলো থেকেই তৈরি হয়।

তবে ইংল্যান্ড এতদূর আসার পথে কিছু দুর্বলতার চিহ্নও রেখে গেছে। সেই সুযোগ আর্জেন্টিনা নিতে পারে:
বেশ কয়েকটি ম্যাচে রক্ষণভাগ গুছিয়ে নিতে তাদের বেশ কিছুটা সময় লেগেছে। প্রতিপক্ষ শুরু থেকেই উচ্চ গতিতে খেলা শুরু করলে তারা বেশ ভুগেছে। ম্যাচের শুরুতেই গোল করতে পারলে তা কেবল খেলার মোড়ই ঘুরিয়ে দেবে না, বরং টুখেলের দলকে এমন একটি গেম প্ল্যান পরিবর্তন করতে বাধ্য করবে, যা খেলতে তারা সবচেয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।

ডেক্লান রাইস যখন অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে বা গোলের দিকে পিঠ দিয়ে বল পান, তখন ইংল্যান্ড তাদের বিল্ড-আপের স্পষ্টতা হারিয়ে ফেলে এবং ঘনঘন ডিরেক্ট পাসের আশ্রয় নেয়। কেইন হয়তো প্রাথমিক এরিয়াল ডুয়েল জিতে নিতে পারেন। কিন্তু দল ছন্দ ও ধারাবাহিকতা হারায়। শুরুর বল মুভমেন্টকে আটকে দিতে পারলে তা বেলিংহামকে সামনের দিকে মুখ করে বল পাওয়া থেকে বিরত রাখবে এবং ইংল্যান্ডের আক্রমণের হুমকি কমিয়ে দেবে।

ইংল্যান্ড যখন বলের সামনে অনেক খেলোয়াড় রেখে বলের দখল হারিয়ে ফেলে, তখন রক্ষণভাগের কভার সবসময় সময়মতো আসে না এবং সেন্টার-ব্যাকরা বিশাল এলাকা জুড়ে ডিফেন্ড করতে বাধ্য হয়। সঠিক গতিতে পাস দেওয়া হলে, আর্জেন্টিনার ফরোয়ার্ডদের গতিশীলতা এবং মলিনা ও তাগলিয়াফিকোর ওভারল্যাপিং রান উইংগুলোতে বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।

নরওয়ের বিপক্ষে একটি ঘাম ছুটানো অতিরিক্ত সময়ের ম্যাচ খেলে এই ম্যাচে আসছে ইংল্যান্ড। এ কারণে আর্জেন্টিনার চেয়ে তাদের ক্লান্তি বেশি। টুর্নামেন্ট যত এগিয়েছে, টুখেলকে কাজের চাপ সামলাতে হয়েছে, কৌশলগত পরিবর্তন করতে হয়েছে এবং এমনকি কিছু নিষেধাজ্ঞাও মোকাবিলা করতে হয়েছে। ম্যাচটি যদি দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ গতিতে বজায় থাকে, তবে সেই তীব্রতা ধরে রাখার জন্য আর্জেন্টিনার বেঞ্চ একটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে।

সেমিফাইনালে দুই দল একে অন্যের মুখোমুখি হচ্ছে। এর আগে তারা বুঝে গেছে, প্রবল চাপের মুখেও কীভাবে লড়তে হয় এবং তারা তাদের জাত চিনিয়েছে। বলে এক ছোঁয়াতেই ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেওয়ার মতো খেলোয়াড় ইংল্যান্ডের আছে। কিন্তু আর্জেন্টিনা এই বিশ্বকাপে অনন্য এক গুন অর্জন করেছে—ম্যাচ পড়তে পারার ক্ষমতা এবং প্রয়োজনে কৌশলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া। ইংল্যান্ডের মতো একটি দলের বিপক্ষে ম্যাচ পড়তে পারার ক্ষমতা খেলোয়াড়দের প্রতিভার মতোই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে যাচ্ছে।

Need Ads
error: কপি হবে না!