বিশ্বজুড়ে এখন টম হল্যান্ড অভিনীত নতুন স্পাইডারম্যান সিনেমা নিয়ে তুমুল উন্মাদনা। সনি পিকচার্স ও মার্ভেল স্টুডিওসের বহুল প্রতীক্ষিত ‘স্পাইডারম্যান : ব্র্যান্ড নিউ ডে’ আগামী ৩১ জুলাই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে।

তবে মুক্তির আগেই সিনেমাটি সিনেমা প্রযুক্তির ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় লিখতে যাচ্ছে। শুধু গল্প বা ভিএফএক্স নয়, নির্মাণ প্রযুক্তিতেও ব্যতিক্রম হতে চলেছে ছবিটি। এটি বিশ্বের প্রথম চলচ্চিত্র, যা শুরু থেকেই সম্পূর্ণ স্ক্রিন-এক্স (ScreenX) ফরম্যাটকে মাথায় রেখে শুটিং করা হয়েছে।
স্ক্রিন-এক্স এমন একটি আধুনিক প্রদর্শন প্রযুক্তি, যেখানে শুধু সামনের পর্দাই নয়, প্রেক্ষাগৃহের দুই পাশের দেয়ালও সিনেমার অংশ হয়ে ওঠে।
ফলে দর্শক ২৭০ ডিগ্রি প্যানারোমিক ভিউতে সিনেমা উপভোগ করতে পারেন। এতে অ্যাকশন দৃশ্যগুলো আরো বাস্তব ও নিমগ্ন অনুভূতি তৈরি করে।

অর্থাৎ স্পাইডারম্যান যখন নিউইয়র্কের আকাশচুম্বী ভবনের ফাঁক গলে জাল ছুড়ে উড়ে যাবে, তখন হলের দুই পাশের দেয়ালেও সেই শহরের বিস্তৃত দৃশ্য দেখা যাবে। এতে দর্শকদের মনে হবে, তারাও যেন স্পাইডার-ম্যানের সঙ্গে একই অভিযানের অংশ।
এর আগে ‘টপ গান: ম্যাভেরিক’, ‘অ্যাভাটার: দ্য ওয়ে অব ওয়াটার’ কিংবা ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ ইন দ্য মাল্টিভার্স অব ম্যাডনেস’-এর মতো বেশ কয়েকটি হলিউড সিনেমা স্ক্রিন-এক্সে প্রদর্শিত হয়েছে। তবে সেসব ক্ষেত্রে মূল সিনেমা প্রচলিত পদ্ধতিতেই ধারণ করা হয়েছিল। পরে পোস্ট-প্রোডাকশনে অতিরিক্ত গ্রাফিকস ব্যবহার করে দুই পাশের পর্দার জন্য দৃশ্য সম্প্রসারণ করা হয়।
কিন্তু ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’-এর ক্ষেত্রে পদ্ধতিটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। সিনেমাটির শুটিংয়ের শুরু থেকেই বিশেষ মাল্টি-ক্যামেরা সেটআপ ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে স্ক্রিন-এক্সের জন্য প্রয়োজনীয় ফুটেজ একসঙ্গেই ধারণ করা যায়।
স্ক্রিন-এক্স প্রযুক্তির উদ্ভাবক দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠান সিজে ফোর ডিপ্লেক্স (CJ 4DPLEX)-এর প্রধান নির্বাহী জুন ব্যাং এ বিষয়ে ভ্যারাইটিকে বলেন, ‘সনি পিকচার্স ও পরিচালক ডেসটিন ড্যানিয়েল ক্রেটনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে আমরা এটি করেছি। পরিচালকের ক্রিয়েটিভ ভিশনকে বিন্দুমাত্র নষ্ট না করেই সিনেমার ভিজ্যুয়াল ক্যানভাসকে অনেক বড় করতে পেরেছি। আমাদের লক্ষ্য হলো, স্পাইডার-ম্যানের দুনিয়াকে দর্শকদের আরও কাছাকাছি নিয়ে আসা।’
পরিচালক ডেসটিন ড্যানিয়েল ক্রেটনও এই প্রযুক্তিগত অর্জনকে সিনেমার ইতিহাসে নতুন মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তাঁর কথায়, ‘সিজে ফোর ডিপ্লেক্সের টিম স্পাইডার-ম্যানের সেটে এসেছিল। মূল পর্দার পাশাপাশি দুই পাশের দেয়ালে আপনারা যা দেখবেন, সেই ফুটেজগুলো অন-সেটেই বিশেষ ক্যামেরা দিয়ে শুটিং হয়েছে। এটি সিনেমার ইতিহাসে এক অভিনব ঘটনা।’
নতুন এই প্রযুক্তির মাধ্যমে স্পাইডার-ম্যানের অ্যাকশন ও ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা দর্শকদের জন্য আরও রোমাঞ্চকর হয়ে উঠবে বলেই আশা করছেন নির্মাতারা। সিনেমাপ্রেমীদের প্রত্যাশা, ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ শুধু বক্স অফিসেই নয়, চলচ্চিত্র প্রযুক্তির ইতিহাসেও নতুন মানদণ্ড স্থাপন করবে।




