ফুটবল বিশ্বকাপ বা বড় কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট এলেই প্রিয় দলের সমর্থনে বাড়ির ছাদে, বারান্দায় কিংবা আঙিনায় পতাকা ওড়ানোর দৃশ্য দেখা যায়। তবে শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে এক আর্জেন্টিনা-ভক্ত পরিবার সেই প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে পুরো বাড়িকেই সাজিয়েছে প্রিয় দলের রঙে। আকাশি-সাদা রঙে রাঙানো বাড়িটি এখন এলাকায় কৌতূহল ও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

পৌর শহরের নালিতাবাড়ী বাজার এলাকার বাসিন্দা এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অধ্যক্ষ নুরুল আমিনের বাড়িতে দেখা গেছে এই ব্যতিক্রমী আয়োজন। বাড়ির বাউন্ডারি, গেটসহ বাইরের প্রায় পুরো অংশই আর্জেন্টিনার জাতীয় পতাকার আদলে আকাশি ও সাদা রঙে রাঙানো হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, নুরুল আমিনের তিন ছেলে নাজমুল হাসান রুবেল, অমিত হাসান শুভ ও দুর্জয় হাসান শাকিলের উদ্যোগে বাড়িটি নতুন রূপ পেয়েছে। ছোটবেলা থেকেই পরিবারের সদস্যরা আর্জেন্টিনা দলের সমর্থক। সেই ভালোবাসার প্রকাশ ঘটাতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আকাশি-সাদা রঙে সজ্জিত বাড়িটি দেখতে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ভিড় করছেন। কেউ স্মার্টফোনে ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। ফলে বাড়িটি এখন স্থানীয়দের কাছে এক ধরনের দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা থেকেই এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাড়িটির ভিন্নধর্মী সাজসজ্জা এলাকায় বেশ সাড়া ফেলেছে।
আর্জেন্টিনা সমর্থক সানী ইসলাম বলেন, এলাকায় অনেকেই প্রিয় দলের সমর্থনে পতাকা টাঙিয়েছেন। কিন্তু পুরো বাড়ি দলের রঙে রাঙানোর ঘটনা এই প্রথম দেখলাম। বিষয়টি খেলার উন্মাদনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
আরেক সমর্থক রিয়াজ আহম্মেদ বলেন, আর্জেন্টিনার পতাকার রঙে বাড়ি সাজানো হয়েছে শুনে দেখতে এসেছিলাম। বাড়িটি খুব সুন্দর লাগছে। এ ধরনের আয়োজন মানুষের মধ্যে খেলা দেখার আগ্রহ আরও বাড়িয়ে তোলে।
ক্রীড়াবিদ অখিল সাহা বলেন, ফুটবলপ্রেমের অনন্য প্রকাশ হিসেবে আর্জেন্টিনার রঙে সাজানো এই বাড়িটি এখন নালিতাবাড়ীতে আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের অনেকেই এটিকে সমর্থকদের আবেগ ও ভালোবাসার ব্যতিক্রমী নিদর্শন হিসেবে দেখছেন।
নুরুল আমিনের দ্বিতীয় ছেলে অমিত হাসান শুভ বলেন, ছোটবেলা থেকেই আমাদের পুরো পরিবার আর্জেন্টিনার সমর্থক। প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা ও আবেগ থেকেই পরিবারের সবার সম্মতিতে পুরো বাড়িটিকে আর্জেন্টিনার রঙে সাজিয়েছি। তিনি বলেন, বাড়িটি দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আসছেন। অনেকেই ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করছেন। মানুষের এমন আগ্রহ ও ভালোবাসা দেখে আমাদেরও ভালো লাগছে।




