প্রথম ইনিংসে টপ অর্ডার ব্যর্থতার পরও লিটন দাসের সেঞ্চুরি আর বোলারদের কল্যাণে লিড পেয়েছিল বাংলাদেশ। এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে খেলতে নেমে দারুণ ব্যাটিং করেছেন টাইগার ব্যাটাররা। বিশেষ করে মুশফিকুর রহিম দুর্দান্ত ছিলেন। তার রেকর্ডগড়া সেঞ্চুরিতে বড় সংগ্রহ গড়েছে বাংলাদেশ। নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে সবকটি উইকেট হারিয়ে ৩৯০ রান করেছে বাংলাদেশ। সবমিলিয়ে স্বাগতিকরা লিড পেয়েছে ৪৩৬ রানের। তাই পাকিস্তানকে জিততে হলে বিশ্ব রেকর্ড গড়তে হবে। টেস্টে সর্বোচ্চ ৪১৮ রানের লক্ষ্য জয়ের বিশ্বরেকর্ড ওয়েস্ট ইন্ডিজের দখলে।

৪৩৭ রানের পাহাড়সমান লক্ষ্যে নেমে তৃতীয় দিনের শেষ বিকেলে কেবল দুই ওভার ব্যাটিং করতে পেরেছে পাকিস্তান। তবে কোনো উইকেটও হারায়নি। রানের খাতাও খুলতে পারেনি সফরকারীরা। আলোকস্বল্পতার কারণে দিনের খেলা শেষ ঘোষণা করে দেন আম্পায়াররা। ব্যাটিংয়ে আছেন দুই ওপেনার আজান আওয়াইস ও আব্দুল্লাহ ফজল।
আজ সিলেটের তৃতীয় দিনটা আবর্তিত হয়েছে মুশফিককে ঘিরেই। তিনি যখন ব্যাটিংয়ে নামেন, তখন বাংলাদেশের স্কোর ২৬.৪ ওভারে ৩ উইকেটে ১১০ রান। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত (১৫) দিনের খেলা শুরুর চতুর্থ ওভারে বিদায় নেন।

পাকিস্তানের বিপক্ষে মুশফিক আজ যা করলেন, তা বাংলাদেশের আর কেউ পারেননিপাকিস্তানের বিপক্ষে মুশফিক আজ যা করলেন, তা বাংলাদেশের আর কেউ পারেননি
শান্ত ফেরার পর বাংলাদেশের স্কোর হয়ে যায় ৩০.৪ ওভারে ৪ উইকেটে ১১৫ রান। লিটন দাসের সঙ্গে পঞ্চম উইকেটে ১২৩ রানের জুটি গড়তে অবদান রাখেন মুশফিক। লিটন তুলনামূলক আক্রমণাত্মক খেললেও মুশফিক প্রথাগত টেস্ট মেজাজে খেলতে থাকেন। ৯২ বলে ৫ চারে ৬৯ রান করে লিটন বিদায় নিলে ভেঙে যায় ১৮৮ বলের এই জুটি।
সিলেটে পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করলেও দ্বিতীয় ইনিংসে তিন অঙ্ক ছোঁয়া হলো না তাঁর। হাসানের বলে আপার কাট করতে গিয়ে ডিপ থার্ড ম্যানে সৌদ শাকিলের হাতে বল তুলে নেন লিটন।
লিটন সেঞ্চুরির আক্ষেপ নিয়ে ফিরলেও মুশফিক তিন অঙ্ক ছুঁয়েছেন ১৭৮ বলে। বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে সর্বোচ্চ ১৪ সেঞ্চুরি এখন মুশফিকের। ১৩ সেঞ্চুরি করে দুইয়ে মুমিনুল হক। সেঞ্চুরি করার পথে ষষ্ঠ ও সপ্তম উইকেটে মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলামের সঙ্গে ৩৪ ও ৭৭ রানের দুটি জুটি গড়েন মুশফিক।
শেষ ব্যাটার হিসেবে মুশফিক যখন আউট হয়েছেন, তখন তাঁর নামের পাশে রান ১৩৭। ২৩৭ বলের ইনিংসে ১২ চার ও ১ ছক্কা মেরেছেন তিনি। ৪১ রানে শেষ ৩ উইকেট হারিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ১০২.২ ওভারে ৩৯০ রানে গুটিয়ে গেছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের খুররম শেহজাদ পেয়েছেন ৪ উইকেট। সাজিদ খান নিয়েছেন৩ উইকেট। ২ ও ১ উইকেট পেয়েছেন হাসান আলী ও আব্বাস।




