সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান সিনহার জানাজায় সম্পন্ন হয়েছে। জানাজায় অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ১৭ মে রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সাবেক এই প্রতিমন্ত্রীর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র পেশ ইমাম আবু রায়হান।

প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও জানাজায় অন্যদের মধ্যে অংশ নেন জাতীয় সংসদের স্পিকার অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন (বীর বিক্রম), ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সদস্যরা। জানাজা নামাজ শেষে প্রধানমন্ত্রী পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মরহুমের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর একে একে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রীসহ অন্যরাও সাবেক এই প্রতিমন্ত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সবশেষে মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া-মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে গত শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মিজানুর রহমান সিনহা বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০২০ সালে তিনি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালে মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে পুনরায় দায়িত্ব পান এবং আসন্ন নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জ-২ আসনে দলীয় মনোনয়ন লাভ করেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তিনি ছিলেন বিশিষ্ট শিল্প উদ্যোক্তা ও একমি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তার পিতা হামিদুর রহমান সিনহা দেশের ওষুধ শিল্পের অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত। মরহুমের জন্ম ১৯৪৩ সালের ১৮ আগস্ট মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার কলমা ইউনিয়নের ডহুরী গ্রামে। তার শৈশব কেটেছে কলকাতায় এবং পরবর্তীতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় স্নাতক সম্পন্ন করেন। তার পিতার নাম হামিদুর রহমান সিনহা ও মাতার নাম নূরজাহান সিনহা। হামিদুর রহমান বাংলাদেশের ঔষধ ব্যবসায়ের অন্যতম পথিকৃৎ ও শিল্পগোষ্ঠী একমি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা। সিনহা শৈশবে কলকাতায় বেড়ে উঠেন। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় স্নাতক সম্পন্ন করেন।
১৯৬৪ সালে সিনহা হাবিব ব্যাংকে চাকুরির মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুরু করেন। তার পিতার মৃত্যুর পর ১৯৭৫ সালে তিনি পিতার প্রতিষ্ঠিত একমি গ্রুপে যোগদান করেন। ১৯৮৩ সাল থেকে তিনি গ্রুপটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছিলেন। মিজান সিনহা ছাত্রজীবনে রাজনীতির সাথে যুক্ত হন। সরকারি তোলারাম কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি ছাত্র ইউনিয়নের প্রার্থী হিসেবে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৯০ সালের মিজানুর রহমান সিনহা বিএনপিতে যোগদান করেন। পরবর্তীতে তিনি দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ হিসেবে ২২ জানুয়ারি ২০২০ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি বিএনপির মনোনয়নে মুন্সীগঞ্জ-২ আসন থেকে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে দু’বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মরহুম নজরুল ইসলাম খান বাদলকে পরাজিত করে বিজয় অর্জন করেন। এরপর ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলিকে হারিয়ে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।




